আবহাওয়ার উপাদানই জলবায়ুর উপাদান। জলবায়ুর
উপাদানগুলোর নাম হলো-
১. বায়ুর তাপমাত্রা,
২. বায়ুর আর্দ্রতা,
৩. আকাশের অবস্থা,
৪. বায়ু প্রবাহের দিক,
৫. বায়ু প্রবাহের তীব্রতা ও
৬. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর তিনটি পার্থক্য হলো:
| আবহাওয়া | জলবায়ু |
| ১. আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানের আকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সাময়িক অবস্থা। | ১. জলবায়ু হলো কোনো স্থানের বহু বছরের আবহাওয়ার 'গড় অবস্থা। |
| ২. আবহাওয়া কোনো স্থানের প্রকৃতির অল্প সময়ের অবস্থা। | ২. জলবায়ু কোনো স্থানের ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা। |
| ৩. আবহাওয়া তাৎক্ষণিকভাবে পরিবর্তন হতে পারে। | ৩. জলবায়ু ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়। |
গ্রীষ্মকালে তীব্র তাপে সমুদ্রের জলভাগের তুলনায় স্থলভাগ অনেক বেশি গরম হয়। গরমে স্থলভাগের বায়ু হালকা হয়ে উপরে উঠে যায়। তখন সমুদ্রের জলভাগের বায়ু স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত হয়। জলভাগ ও স্থলভাগের তাপমাত্রার পার্থক্য বেশি হওয়ায় বায়ুপ্রবাহের গতি তীব্র হয় এবং কালবৈশাখী ঝড় হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের পাঁচটি কারণ হলো-
১. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত,
২. পৃথিবীর গতি পবিরর্তন,
৩. খনিজ জ্বালানির ব্যবহার,
৪. বনভূমি উজাড় এবং
৫. কার্বন নিঃসরণ।
না! কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় 'অক্ষাংশের তারতম্য। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার কাছাকাছি স্থানে সূর্য খাড়াভাবে তাপ দেয় এবং মেরু রেখার কাছাকাছি স্থানে সূর্য তির্যকভাবে তাপ দেয়।
শীতপ্রধান দেশের তাপমাত্রা অনেক কম থাকায় সেখানে স্বাভাবিক. উপায়ে কৃষিকাজ করা সম্ভব হয় না। এ কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য গ্রিনহাউস তৈরি করা হয়।
জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ।
কোনো অঞ্চলের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ঐ অঞ্চলের বৃষ্টিপাত কে নিয়ন্ত্রণ করে। জলীয়বাষ্প বৃদ্ধি পেলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। আবার জলীয়বাষ্প হ্রাস পেলে বৃষ্টিপাতও হ্রাস পায়।
কোনো স্থানের তাপমাত্রা দ্বারা ঐ স্থানের আবহাওয়া গরম নাকি ঠাণ্ডা তা বুঝা যায়। ভূ-সমতল থেকে যত উপরে উঠা যায় তাপমাত্রা ততই কমতে থাকে। দিনাজপুর ও ভারতের শিলং একই-অক্ষ রেখায় অবস্থান করলেও দিনাজপুর সমতলে এবং শিলং সমতল থেকে অনেক উপরে অবস্থান করে। অর্থাৎ উচ্চতার তারতম্যের কারণে উভয় স্থানের মধ্যে একই সময়ে গরম ও ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।
কাচ তাপের কুপরিবাহী পদার্থ। অর্থাৎ তাপ কাচকে ভেদ করে বের হতে পারে না। কাচের পাত্রে খাবার ঢেকে রাখলে পাত্রের ভিতরের তাপ কাচকে ভেদ করে বাহিরে যেতে পারে না। ফলে খাবার দীর্ঘসময় গরম থাকে।
বন্যার কারণে মানুষ যখন ঘরবাড়ি হারিয়ে অন্য কোনো নিরাপদ জায়গায় আশ্রয়ের জন্য স্থানান্তরিত হয় তখন তাদের জলবায়ু শরণার্থী বলে।
উপরের চিত্রটি কোনো অঞ্চলের বন্যাকে নির্দেশ করে।
আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসের প্রতিচ্ছবি। কারণ এই সময়ে বাংলাদেশে বন্যা হয়ে থাকে।
ঘটনাটির জন্য দায়ী ২টি কারণ হলো-
১. পলিমাটি জমে নদীর পানি ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।
২. হিমালয় পর্বতের বরফ গলা ও অতিবৃষ্টি।
জলবায়ু শরণার্থী।
উপরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন ২টি জিনিসের নাম হলো-
১. কৃষি ফসল ও ২. ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট।
পানিবাহিত রোগ যেমন- ডায়রিয়া, কলেরা ইত্যাদি।
উক্ত ঘটনার জন্য তাপমাত্রা দায়ী। কারণ উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করার হিমালয়ের বরফ গলে পানিতে পরিণত হয়। যা বন্যা সৃষ্টির জন্য দায়ী।
কোনো স্থানের দীর্ঘ সময়ের, সাধারণত ২৫-৩০ বছরের আবহাওয়ার গড় বা সামগ্রিক অবস্থার হিসাবকে জলবায়ু বলে। জলবায়ুর কিছু উপাদান আছে, যেমন- বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা, বায়ু প্রবাহের দিক, বায়ু প্রবাহের তীব্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমান ইত্যাদি।
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। বায়ুর আর্দ্রতাকে শতকরায় প্রকাশ করা হয়। যে বায়ু যত বেশি আর্দ্র হয়, সে বায়ুতে তত বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকে।
আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদান রয়েছে।
কোনো স্থানের বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ু আর্দ্রতা, আকাশের অবস্থা, বায়ু প্রবাহের দিক, বায়ু প্রবাহের তীব্রতা, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ইত্যাদি। এসব উপাদানকে জলবায়ুরও উপাদান বলা হয়।
আবহাওয়ার ভিন্নতা একটি স্বাভাবিক ঘটনা। আবহাওয়ার উপাদানগুলোর স্থায়ী পরিবর্তন হলো জলবায়ু পরিবর্তন। কোনো স্থানের জলবায়ু হঠাৎ পরিবর্তন হয় না, তা ধীরে ধীরে হয়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট তিনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো-১. ঘূর্ণিঝড়, ২. খরা, ৩. বন্যা।
পৃথিবীর সব অঞ্চলের জলবায়ু একই রকম নয়। এর কোনো অঞ্চল উষ্ণ এবং কোনো অঞ্চল শীতল। কিছু ভৌগোলিক বিষয়ের পার্থক্যের কারণে স্থানভেদে জলবায়ুর এরকম পার্থক্য দেখা যায়। এই বিষয়গুলোকে জলবায়ুর নিয়ামক বলে।
জলবায়ুর তিনটি নিয়ামক হলো-
১. অক্ষাংশ,
২. উচ্চতা,
৩. সমুদ্র স্রোত।
জলবায়ু পরিবর্তনের তিনটি মনুষ্যসৃষ্ট কারণ হলো-
১. জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার,
২. বনভূমি উজাড় ও
৩. পাহাড় কাটা।
শীতপ্রধান দেশে কাচের ঘর তৈরি করে কৃষিকাজ করা হয়। কাচের ঘরে তাপ আটকে রেখে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয় বলে এই ঘরকে গ্রিনহাউস বলে।
বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মনুষের সৃষ্ট কর্মকান্ডের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা দিনে দিনে বেড়ে যাচ্ছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াই হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ থাকে। এই গ্যাসীয় পদার্থসমূহ গ্রিনহাউসের দেয়ালের মতো কাজ করে। সূর্যের তাপ পৃথিবীপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাস থাকার কারণে এই তাপ বের হতে পারে না। তাই পৃথিবীতে তাপ গ্রিনহাউসের মতো আটকে থাকে। ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়। একেই আমরা গ্রিনহাউস প্রভাব বলি।
বায়ুমণ্ডলের তিনটি গ্রিনহাউস গ্যাস হলো-
১. কার্বন ডাইঅক্সাইড,
২. নাইট্রোজেন অক্সাইড ও
৩. জলীয়বাষ্প।
Related Question
View Allবাংলাদেশের দক্ষিণ দিকে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
তীব্র তাপদাহের কারণে ফসল উৎপাদন হ্রাস পায়।
বায়ুর আর্দ্রতা জলবায়ুর একটি উপাদান l
যত উঁচুতে উঠা যায় তাপমাত্রা তত কমে l
কোনো স্থানের আবহাওয়া সেই স্থানের জলবায়ুর ওপর নির্ভরশীল।
সাধারণত ২৫ – ৩০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!