গারোদের ধর্ম ও সমাজব্যবস্থা হলো-
ধর্ম: গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক। তবে বর্তমানে বেশির ভাগ গারো খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী।
সমাজব্যবস্থা: গারো সমাজ মাতৃতান্ত্রিক। অর্থাৎ নারীরাই পরিবারের প্রধান এবং সম্পত্তির উত্তরাধিকারী। মাতার সূত্র ধরেই তাদের দল, গোত্র ও বংশ গড়ে ওঠে।
পূর্বে গারো জনগোষ্ঠীর লোকেরা নদীর তীরে লম্বা এক ধরনের বাড়ি তৈরি করতেন, যা নকমান্দি নামে পরিচিত। তবে বর্তমানে তারা অন্যদের মতোই করোগেটেড টিন এবং অন্যান্য উপকরণ দিয়ে বাড়ি তৈরি করেন।
গারোদের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম ওয়ানগালা। এই সময়ে তারা সূর্য দেবতা সালজং-এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নতুন শস্য উৎসর্গ করেন। সাধারণত নতুন শস্য ওঠার সময় অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে উৎসবটি হয়। উৎসবের শুরুতে তারা উৎপাদিত শস্য অর্ঘ্য হিসেবে নিবেদন করেন। বিভিন্ন ধরনের বাদ্য বাজনা বাজিয়ে এই উৎসবটি পালন করা হয়।
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় খাসি জনগোষ্ঠী বাস করেন। 'অতীতে সিলেটে জয়ন্তা বা জৈন্তিয়া নামে একটি রাজ্য ছিল। ধারণা করা হয়, খাসি জনগোষ্ঠী ঐ রাজ্যে বাস করতেন।
খাসি নৃ-গোষ্ঠীর সমাজব্যবস্থা হচ্ছে মাতৃতান্ত্রিক। পারিবারিক সম্পত্তির বেশির ভাগের উত্তরাধিকারী হয় পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে। খাসি নৃ-গোষ্ঠী বা জনগোষ্ঠী কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তারা প্রচুর পান ও মধুর চাষও করেন।
খাসি নৃ-গোষ্ঠীরা তাদের সকল ধরনের অনুষ্ঠান যেমন-পূজা পার্বণ, বিয়ে, খরা, অতিবৃষ্টি, ফসলহানি ইত্যাদি অনুষ্ঠানে নাচ, গান করেন। এই উপলক্ষে তারা নানারকম উৎসবের আয়োজন করেন।
পার্বত্য অঞ্চলের বসবাসকারী জনগোষ্ঠী মো। তারা মিয়ানমার সীমান্তের কাছে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বসবাস করেন।
ম্রো জনগোষ্ঠীর ধর্মের নাম তোরাই। এছাড়াও 'ক্রামা' নামে আরেকটি ধর্মমত আছে। মোরা সাধারণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। তাদের কেউ কেউ খ্রিষ্ট ধর্মও গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশের বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে ম্রো একটি। ম্রোদের নিজস্ব ভাষা আছে এবং তার লিখিত রূপও আছে। ইউনেস্কো মো ভাষাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে। সঠিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা না হলে এই ভাষা হারিয়ে যেতে পারে।
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী সমাজে দলবদ্ধভাবে বাস করেন। দলকে তারা দফা বলে। তাদের মোট ৩৬টি দফা আছে। এর মধ্যে ১৬টি বাংলাদেশে বাকি ২০টি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে রয়েছে। বাংলাদেশে বসবাসকারী ত্রিপুরারা পিতৃতান্ত্রিক সমাজের অধিকারী। তবে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ছেলেরা বাবার সম্পত্তি ও মেয়েরা মায়ের সম্পত্তি লাভ করে থাকেন।
ত্রিপুরা সমাজে জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে উপলক্ষে নানা ধরনের আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়। তাদের নববর্ষের উৎসব বৈসু। এ সময় ত্রিপুরা নারীরা মাথায় ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান ও আনন্দ করেন।
ওরাঁও সমাজব্যবস্থা পিতৃতান্ত্রিক। ওরাঁওদের গ্রামপ্রধানকে মাহাতো বলা হয়। তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক পরিষদ আছে, যা পাহতো নামে পরিচিত। এই পরিষদে কয়েকটি গ্রামের প্রতিনিধিরা থাকেন।
গারো, খাসি ও ত্রিপুরা-এ তিনটি নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সম্পর্কে নিচে লেখা হলো-
গারো: গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক বা গারো ভাষা।
খাসি: খাসিদের ভাষার নাম মনখেমে। তবে তাদের লিখিত কোনো বর্ণমালা নেই।
ত্রিপুরা: ত্রিপুরাদের ভাষার নাম ককবরক
গারো, ম্রো ও ওরাঁও-এ তিনটি নৃ-গোষ্ঠীর ধর্ম সম্পর্কে নিচে লেখা হলো-
গারো: গারোদের আদি ধর্মের নাম সাংসারেক। তবে বর্তমানে বেশির ভাগ গারো খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী।
মো: মো জনগোষ্ঠীর ধর্মের নাম তোরাই। মোরা সাধারণত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
ওরাঁও: ওরাঁও জনগোষ্ঠী বিভিন্ন দেবতার পূজা করেন। তাদের প্রধান দেবতা ধার্মেস।
Related Question
View Allগারো জনগোষ্ঠী তিব্বত থেকে বাংলাদেশে এসেছিল।
গারোদের নিজেদের ভাষার নাম আচিক বা গারো ভাষা
বর্তমানে বেশির ভাগ গারো খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী।
গারো নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম দকবান্দা দকসারি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!