সম্পদ অপচয় রোধের উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
১. ব্যবহার শেষে গ্যাসের চুলা বন্ধ রাখা।
২. প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক লাইট ও ফ্যান বন্ধ রাখা।
৩. পানি ব্যবহারের পর পানির কল বন্ধ রাখা।
৪. বারবার ব্যবহার করা যায় এমন জিনিসপত্র ক্রয় করা।
৫. নানা ধরনের নষ্ট কাগজ, প্লাস্টিক ও ধাতব বস্তু দিয়ে নতুন দ্রব্য তৈরি করে ব্যবহার করা।
৬. প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এমনভাবে' ব্যবহার করা উচিত যাতে সেগুলো নষ্ট না হয়।
মানুষের জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থের প্রয়োজন হয়। নিচে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো-
১. আমাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য ক্রয়ের জন্য অর্থ প্রয়োজন।
২. প্রয়োজনীয় বস্ত্র কেনার জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন।
৩. আমরা বসবাসের জন্য বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরি করতে বা ভাড়া নিতে আমাদের অর্থের প্রয়োজন হয়।
৪. লেখাপড়া করার জন্য বই, খাতা, পেন্সিল, কলম, ব্যাগ, স্কুল ড্রেস ইত্যাদি কেনার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়।
৫. মাঝে মাঝে অসুস্থ হলে ডাক্তার দেখানো ও ওষুধ কেনার জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন হয়।
৬. যাতায়াত করার জন্য আমাদের অর্থের প্রয়োজন হয়।
সঞ্চয় কীভাবে বৃদ্ধি করা যায় তার উপায়সমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. স্কুলে টিফিনের জন্য বাবা-মা যে টাকা দেন তা থেকে অল্প অল্প করে বাঁচিয়ে সঞ্চয় বৃদ্ধি করা যায়।
২. কেনাকাটার খরচ কমিয়ে তা থেকে অল্প অল্প করে জমিয়ে সঞ্চয় বৃদ্ধি করা যায়।
৩. উপহার হিসেবে কেউ টাকা দিলে তা সঞ্চয় হিসেবে রাখলে সঞ্চয় বৃদ্ধি পায়।
৪. পরিবারের সদস্যরা টাকা-পয়সা দিলে তা জমিয়ে সঞ্চয় বৃদ্ধি করা যায়।
৫. কেনাকাটার সময় দরদাম করে কিছু টাকা বাঁচিয়ে তা জমা করে সঞ্চয় বৃদ্ধি করা যায়।
৬. সপ্তাহের যেকোনো একদিন খরচ না করে সে টাকা দিয়ে সঞ্চয় বৃদ্ধি করা যায়।
রাজু তার মা-বাবার কাছ থেকে শুনেছে যে ভবিষ্যতে বড়ো হওয়ার জন্য এবং বিশেষ প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। তাই সে অর্থ অপচয় না করে ভবিষ্যতের জন্য তা জমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজু যেভাবে টাকা সঞ্চয় করে তা হলো-
১. রাজু তার টিফিনের টাকা থেকে প্রতিদিন কিছু অংশ বাঁচিয়ে মাটির ব্যাংকে জমা রাখে।
২. উপহার হিসেবে পাওয়া টাকাগুলো সে খরচ না করে সম্পূর্ণ সঞ্চয় করে।
৩. সে সপ্তাহে একদিন 'ব্যয়হীন' দিন পালন করে অর্থাৎ সেদিন সে কোনো টাকা খরচ করে না।
রাজু তার টিফিনের টাকা থেকে প্রতিদিন কিছু অংশ বাঁচিয়ে তার মাটির ব্যাংকে জমা করে। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া উপহারের টাকাও সে খরচ না করে সম্পূর্ণ সঞ্চয় করে রাখে'। এছাড়া সে সপ্তাহে একটি 'ব্যয়হীন' দিন পালন করে এবং কেনাকাটার সময় বিভিন্ন দোকানে দরদাম যাচাই করে সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করে। রাজুর এই অভ্যাসটি আমাদের অনুসরণ করা উচিত কারণ এতে ছোটোবেলা থেকেই মিতব্যয়ী হওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়। নিয়মিত সঞ্চয় করলে ভবিষ্যতে কোনো বড় প্রয়োজনে বা বিপদের সময় অন্যের সাহায্য ছাড়াই সেই অর্থ ব্যবহার করা যায়।
কোনো জিনিস একবার ব্যবহার করার পর তা ফেলে না দিয়ে আবার ব্যবহারযোগ্য করাকে সম্পদের পুনর্ব্যবহার বলে। যেমন- নিজের ছোট হয়ে যাওয়া কাপড় অন্যকে ব্যবহার করতে দেওয়া।
আমাদের সম্পদ সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন কারণ-
১. আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সম্পদ বা অর্থ সীমিত, তাই হিসাব করে খরচ করা উচিত।
২. সম্পদ সাশ্রয় করলে ভবিষ্যতের বড়ো কোনো কাজে বা বিপদে সেই অর্থ ব্যবহার করা যায়।
৩. অপচয় রোধ করলে দেশের সম্পদ রক্ষা পায় এবং পরিবেশ সুন্দর থাকে।
রান্নার কাজ শেষ হওয়ার পরেও যদি গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখা হয় তবে গ্যাসের অপচয় ঘটে। আবার অপ্রয়োজনে অনেক সময় ধরে পানি ফুটালেও গ্যাসের অপচয় হয়।
গ্যাস সাশ্রয় করার উপায়গুলো হলো-
১. রান্নার কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই সাবধানে গ্যাসের চুলা বন্ধ করে রাখা।
২. অযথা গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে ঘর গরম রাখা বা কাপড় শুকানো থেকে বিরত থাকা।
৩. প্রয়োজনে মা-বাবাকে গ্যাসের অপচয় রোধে সচেতন করা।
আমরা সাধারণত বাড়িতে মাটির ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারি। এছাড়া বড়ো হলে বা বেশি টাকা হলে আমরা নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারি।
টাকা জমানোর প্রয়োজনীয়তা হলো-
১. জমানো টাকা দিয়ে আমরা, ভবিষ্যতে বড়ো কোনো শখ পূরণ করতে পারি।
২. হঠাৎ অসুস্থ হলে বা কোনো জরুরি প্রয়োজনে জমানো টাকা খুব কাজে লাগে।
৩. নিয়মিত সঞ্চয়ের মাধ্যমে আমরা ছোটোবেলা থেকেই 'মিতব্যয়ী হওয়ার শিক্ষা পাই।
রিদ্যুৎ একটি জাতীয় সম্পদ, তাই অপ্রয়োজনে বিদ্যুৎ খরচ না করাই আমার প্রধান ভূমিকা। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ আছে কি না তা খেয়াল রাখা আমার দায়িত্ব।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে আমার ৩টি করণীয় হলো-
১. দিনের বেলা ঘরের জানালা খোলা রেখে সূর্যের আলো ব্যবহার করব যেন বাতি জ্বালাতে না হয়।
২. ঘর থেকে অন্য কোথাও যাওয়ার সময় অবশ্যই বাতি ও ফ্যানের সুইচ বন্ধ করব।
৩. বিদ্যালয়ের ক্লাসরুম বা বারান্দার বাতি অপ্রয়োজনে জ্বললে তা নিভিয়ে দেব।
Related Question
View Allঅর্থ দিয়ে পণ্য কেনাবেচা করা যায়।
উপহারের টাকা খরচ না করে সঞ্চয় করা যায়।
রান্না শেষে গ্যাসের চুলা নিভিয়ে রাখলে গ্যাস সাশ্রয় হয়।
অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারে সকলেরই যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা নানা কাজে অর্থ ব্যবহার করে থাকে।
টাকা দিয়ে আমরা পণ্য কেনাবেচা করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!