তপস্যার ফলে যেসব মুনি বেদমন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন তাদেরকে ঋষি বলা হয়।
পাঁচজন বিখ্যাত মুনি-ঋষি হলেন- বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, গৌতম, মৈত্রেয়ী ও 'গার্গী
স্রষ্টা, সৃষ্টি, আত্মা, জন্ম-মৃত্যু প্রভৃতি সম্পর্কিত গভীর জ্ঞানকে বলা হয় ব্রহ্মজ্ঞান বা ব্রহ্মবিদ্যা।
বশিষ্ট মুনি মিত্রাবরুণের পুত্র ছিলেন, এ কারণেই তাঁকে মৈত্রাবরুণি বলা হয়।
নিমাই ব্যাকরণ, অলংকার, স্মৃতি ও ন্যায়শাস্ত্রে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
পুত্র নিমাইয়ের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মা শচীদেবী নিমাইয়ের প্রতি খুব খুশি হয়েছিলেন।
রাণী রাসমণির তিনটি চারিত্রিক বৈশষ্ট্য হলো-১. মানবদরদী, ২. তেজস্বী ও ৩. সুদক্ষ জমিদার।
তীর্থযাত্রীদের জন্য রাণী রাসমণি সুবর্ণরেখা নদী থেকে পুরী পর্যন্ত একটি সড়ক তৈরি করেছিলেন।
মহাপুরুষ ও মহীয়সীদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করে আমরা আমাদের জীবনকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনা করব। উদার ও দায়িত্বশীল হবো। সুশৃঙ্খল এবং পবিত্র জীবনযাপন করব। মানুষ ও জগতের কল্যাণের জন্য কাজ করব।
নবদ্বীপের পাঁচজন বৈষ্ণব হলেন- নিত্যানন্দ, শ্রীবাস, গদাধর, মুকুন্দ ও অদ্বৈতাচার্য।
যাঁরা ঈশ্বরের তপস্যা করে বিশেষ জ্ঞান লাভ করেছেন তাঁরা মুনি, আর তপস্যার ফলে যাঁরা বেদমন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন তাঁদের ঋষি বলা হয়।
স্রষ্টা, সৃষ্টি, আত্মা এবং জন্ম-মৃত্যু প্রভৃতি সম্পর্কিত গভীর জ্ঞানকে ব্রহ্মবিদ্যা বা ব্রহ্মজ্ঞান বলা হয়।
বিদুষী গার্গী ছিলেন বৈদিক যুগের একজন প্রধান নারী ঋষি এবং তিনি তাঁর পিতার কাছেই প্রথম ব্রহ্মবিদ্যার চর্চা শুরু করেন।
রশিষ্ঠ মুনি ছিলেন ব্রহ্মার মানসপুত্র ও সূর্যবংশের কুলগুরু; তাঁর কামধেনুটির নাম ছিল নন্দিনী।
শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর শৈশব নাম ছিল নিমাই।
রাণী রাসমণি 'লোকমাতা' নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
যাজ্ঞবন্ধ্যের সঙ্গে গার্গীর তর্কের মূল বিষয় ছিল জগৎ, আত্মা ও সমস্ত সৃষ্টির অন্তরালে অবস্থানকারী পরমব্রহ্মের স্বরূপ ও চূড়ান্ত ব্রহ্মজ্ঞান নির্ণয়।
বশিষ্ট মুনি বিশ্বামিত্রকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি তপোবল ও ব্রহ্মজ্ঞানের মাধ্যমে অহিংসা, ক্ষমাশীলতা ও মানুষের কল্যাণকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম মনে করতেন।
ইংরেজ সরকার গঙ্গার ওপর জলকর আরোপ করলে জেলেরা বিপদে পড়ে; তখন রাসমণি টাকা দিয়ে গঙ্গার ইজারা নেন এবং জেলেদের কর ছাড়াই মাছ ধরার অধিকার দেন।
শ্রীচৈতন্যের জীবন থেকে আমরা শিখি যে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই এবং ভক্তি ও প্রেমের মাধ্যমে যে কাউকে আপন করে নেওয়া যায়।
মুনি-ঋষিদের সেকালের গুরু বলা হতো কারণ তাঁরা ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের উদ্ভাবক। এমনকি তাঁরা পারমার্থিক ও নৈতিক জ্ঞানেরও শিক্ষা দিতেন।
বাহুবল' ও 'জ্ঞানবলের' মধ্যে জ্ঞানবলই শ্রেষ্ঠ; কারণ জ্ঞানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। যথার্থ জ্ঞানে জ্ঞানী হলে পরিবার তথা সমাজে নারী-পুরুষ উভয়ই সমাদর লাভকরেন।
বৈদিক যুগে নারী ও পুরুষ উভয়েই সমানভাবে বিদ্যাচর্চা - ও ব্রহ্মবিদ্যার আলোচনা করার সুযোগ পেতেন।
শ্রীচৈতন্যের পৈতৃক নিবাস ছিল সিলেটের শ্রীহট্টে এবং তাঁর নিজের জন্মস্থান ছিল পশ্চিমবঙ্গের নবদ্বীপে।
অধ্যাপনা জীবনে তিনি ন্যায় ও ব্যাকরণ শাস্ত্রের পণ্ডিত্য দেখাতেন, কিন্তু পরবর্তী জীবনে তিনি সবকিছু ছেড়ে শুধু কৃষ্ণনাম প্রচার ও ভক্তিতে মগ্ন হতেন।
অপালা, গার্গী, ঘোষা, বিশ্ববারা, লোপামুদ্রা প্রমুখ।
ব্রহ্মর্ষি, দেবর্ষি, মহর্ষি, পরমর্ষি, কাণ্ডর্ষি, শ্রুতর্ষি ও রাজর্ষি।
নিত্যানন্দ, শ্রীবাস, গদাধর, মুকুন্দ, অদ্বৈতাচার্য প্রমুখ।
জগন্নাথ মন্দিরের রাস্তা সংস্কার; দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির নির্মাণ এবং সুবর্ণরেখা নদী থেকে পুরী পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ।
অত্রি, কশ্যপ, গৌতম, বশিষ্ঠ ও বিশ্বামিত্র।
ধৈর্য, সাহস, মনোবল, শ্রদ্ধা, সততা ও নিষ্ঠা।
বিদুষী গার্গীর অগাধ পাণ্ডিত্য ও ধৈর্য্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাস এবং একাগ্রতার সাথে নিয়মিত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে পড়াশোনায় মনোযোগী হব।
কেউ আমার সাথে খারাপ ব্যবহার বা হিংসা করলে আমি প্রতিশোধ না নিয়ে বশিষ্ঠের মতো তাকে ক্ষমা করে দেব।
আমি উঁচু-নিচু বা জাত-পাতের ভেদাভেদ করব না এবং সবাইকে সমান ভালোবাসার চোখে দেখব
আমি মারামারি বা গায়ের জোর না দেখিয়ে যুক্তিবাদী হব এবং শিক্ষার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করব।
আমি শিখলাম যে রাগ বা ঘৃণা নয়, বরং ভালোবাসা দিয়ে দুষ্ট মানুষকেও ভালো পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
শ্রীচৈতন্যদেবের মতো পড়াশোনায় কঠোর পরিশ্রমী ও শ্রদ্ধাশীল হয়ে আমি নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পাঠ্যবিষয়ে গভীর বুৎপত্তি অর্জনে সচেষ্ট হব।
প্রাচীনকালে যারা তপস্যার দ্বারা লোভ-লালসা, ক্ষুধা-তৃষ্ণা জয় করেছিলেন, বিশেষ জ্ঞানলাভ করেছিলেন, ঈশ্বরকে উপলব্ধি করেছিলেন তারাই মুনি। অন্যদিকে, তপস্যার ফলে যেসব মুনি বেদমন্ত্র প্রকাশ করতে পারতেন, তারাই ঋষি। তারা ছিলেন ধার্মিক।
মুনিদের সম্পর্কে বলা যায়-
১. মুনিরা ঈশ্বরের তপস্যা করতেন।
২. তাঁদের কোনো লোভ-লালসা ছিল না।
৩. তাঁরা বিশেষ জ্ঞানলাভ করেছিলেন।
বৈদিক সাহিত্যে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল ও তাৎপর্যপূর্ণ। নারীরা ছিলেন শিক্ষিত, স্বাধীনচেতা, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও স্বাবলম্বী। বেদে অনেক নারী ঋষির নাম পাওয়া যায়। যেমন-অপালা, গার্গী, ঘোষা, বিশ্ববারা, লোপামুদ্রা প্রমুখ।
ব্রহ্ম থেকেই জীব ও জগতের সৃষ্টি হয়েছে এবং এই বিদ্যা স্রষ্টা, সৃষ্টি, আত্মা, জন্ম-মৃত্যু প্রভৃতি সম্পর্কিত গভীর জ্ঞান দেয় রলে ব্রহ্মবিদ্যাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যা বলা হয়েছে।
যাজ্ঞবল্ক্য যখন সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর প্রশ্নের উত্তরে আদি অক্ষর পরমব্রহ্মের বর্ণনা দিলেন, তখন গার্গী তার ব্রহ্মজ্ঞানের গভীরতা স্বীকার করে তার শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিলেন।
রাজা বিশ্বামিত্র একবার অনেক সৈন্যসামন্ত নিয়ে শিকারে গিয়েছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে সবাই খুব ক্লান্ত, ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত হয়ে পড়লে বিশ্বামিত্র সবাইকে নিয়ে বশিষ্ঠ মুনির আশ্রমে গিয়েছিলেন।
বিশ্বামিত্র বশিষ্ঠের কামধেনু নিতে গেলে কামধেনু ভয়ংকর রূপ ধারণ করল এবং বিভিন্ন অঙ্গ থেকে সৈন্য সৃষ্টি হয়ে বিশ্বামিত্রের সৈন্যদের পরাজিত করল।
শ্রীচৈতন্যদেবের প্রেমভক্তি ধর্মের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল তিনি কোনো ভেদাভেদ মানেননি, তাঁর প্রেমভক্তির উদারতায় কোনো উচ্চ-নিচ, বর্ণভেদ বা অস্পৃশ্যতার স্থান ছিল না। নিজে ব্রাহ্মণ হয়েও চন্ডালদের সঙ্গে বসে একসারিতে আহার করতেন।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম ও প্রেম প্রচার করার অদম্য স্পৃহা তাঁকে ধীরে ধীরে সংসার বিমুখ করে তোলে। ফলে তিনি সংসার ত্যাগ করার সংকল্প করেন। তারপর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের এক গভীর রাতে তিনি মা, স্ত্রী এবং ভঙ্গদের ছেড়ে গৃহত্যাগ করেন।
রাণী রাসমণির জীবনী থেকে আমরা যে শিক্ষা পাই-
১. যাঁরা মহীয়সী নারী, তাঁরা জাতি-ধর্ম সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
২. মানবসেবার জন্য তাঁদের জন্ম।
৩. সকল মানুষ তাঁদের আপন।
ইংরেজরা গঙ্গায় জেলেদের মাছ ধরার ওপর জলকর আরোপ করলে জেলেরা রাণী রাসমণির কাছে যায়। তখন রাসমণি টাকা দিয়ে ইংরেজ সরকারের কাছ থেকে গঙ্গার ইজারা নেন। ফলে ইংরেজরা আপস-মীমাংসা করতে বাধ্য হন।
রাণী রাসমণির চারটি কন্যাসন্তান ছিল এবং তাদের নাম হলো- পদ্মমণি, কুমারী, করুণা ও জগদম্বা।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allবেদের কবিতাগুলোকে বলা হয় মন্ত্র।
মুনি-ঋষিরা ছিলেন অনেক গুণের অধিকারী।
সকল প্রকার বলের চেয়ে জ্ঞানবল শ্রেষ্ঠ।
বশিষ্ঠ একজন পৌরাণিক মুনি।
ছোটবেলায় শ্রীচৈতন্যদেবের নাম ছিল নিমাই।
বালক নিমাই ছিলেন খুব চঞ্চল ও দুরন্ত, তবে খুবই মেধাবী ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!