আবহাওয়া হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের আকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সাময়িক অবস্থা। এজন্যই দেশের বিভিন্ন স্থানে আবহাওয়া দিনের বিভিন্ন সময় ভিন্ন হয়। এটি তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, মেঘ, বৃষ্টিপাত, বায়ুচাপ ইত্যাদি উপাদান পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
জলবায়ু হলো কোনো স্থানের বহু বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থা। তাই বছরের কোনো সময়ের আবহাওয়া কেমন হতে পারে তা আমরা পূর্ব অভিজ্ঞতা ও জলবায়ুর ধারণা থেকে অনুমান করতে পারি। এটি মূলত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, মেঘ, বৃষ্টিপাত, বায়ুচাপ ইত্যাদি উপাদানের উপর নির্ভর করে।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে তিনটি মিল হলো-
১. কোনো স্থানের বহু বছরের আবহাওয়ার সামগ্রিক অবস্থা জানতে হলে ঐ স্থানের জলবায়ু জানা জরুরি।
২. সারা বছর ধরে আবহাওয়া পরিবর্তনের যে ধারা তাই জলবায়ু পরিমাপক।
৩. আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো একই। যেমন-তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি।
আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে তিনটি পার্থক্য হলো-
আবহাওয়া | জলবায়ু |
১. আবহাওয়া হলো কোনো স্থানের আকাশ ও বায়ুমণ্ডলের সাময়িক অবস্থা। | ১. জলবায়ু হলো কোনো স্থানের আবহাওয়ার সামগ্রিক অবস্থা। |
২. আবহাওয়ার মাধ্যমে জলবায়ুর ধারণা পেতে অনেক বছর পর্যবেক্ষণ করতে হয়। | ২. কোনো অল্প সময়ের মধ্যে আবহাওয়া কেমন হতে পারে তা জলবায়ুর ধারণা থেকে অনুমান করা যায়। |
৩. আবহাওয়া সবসময় পরিবর্তনশীল। | ৩. জলবায়ু পরিবর্তন হতে বহু বছর সময় লাগে। |
আবহাওয়া ও জলবায়ুর তিনটি উপাদানের নাম হলো-
১. তাপমাত্রা, ২. আর্দ্রতা ও ৩. বায়ুপ্রবাহ।
আর্দ্রতা হলো বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ। এটি সাধারণত বায়ুর আর্দ্রতার মাত্রা প্রকাশ করে। আর্দ্রতার মাত্রা বায়ুর উষ্ণতা, চাপ এবং অবস্থার উপর নির্ভর করে।
বাতাসের জলীয়বাষ্পের উপর আর্দ্রতার পরিমাণ নির্ভর করে। বাতাসের জলীয়বাষ্পের পরিমাণ যত কমে, আর্দ্রতাও তত কমে। 'আর্দ্রতার 'পরিমাণ বেশি হলে বাতাসে জলীয় বাষ্পের। পরিমাণ বেড়ে যায়। এই জলীয়বাষ্প ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
বিরূপ আবহাওয়ার তিনটি উদাহরণ হলো-
১. তাপদাহ,
২. শৈত্যপ্রবাহ ও
৩. বন্যা।
বিরূপ আবহাওয়ার তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো-
১. অস্বাভাবিক তাপদাহের ফলে মানুষসহ হাজার হাজার জীবের মৃত্যু হয়।
২. বন্যার সময় বাংলাদেশের এক পঞ্চমাংশ পানিতে তলিয়ে যায়।
৩. বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে তীব্র খরার কারণে ফসল উৎপাদও ব্যাহডায়।
উত্তরের শুষ্ক ও শীতল বায়ু আমাদের দেশের উপর দিয়ে প্রবাহের ফলে শীতকালে তাপমাত্রা কখনো কখনো অস্বাভাবিকভাবে কমে যায়। এই অবস্থাই হলো শৈত্যপ্রবাহ। তবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য অসহনীয় শৈত্যপ্রবাহ বাংলাদেশে খুব কমই দেখা যায়।
খরা সৃষ্টি হওয়ার তিনটি কারণ হলো
১. অনেক লম্বা শুষ্ক আবহাওয়া,
২. অস্বাভাবিক কম বৃষ্টিপাত ও
৩. উচ্চ তাপমাত্রা।
গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশে যে বজ্রবীড় হয় তাই কালবৈশাখী নামে পরিচিত। স্থলভাগ অত্যন্ত গরম হওয়ার ফলেই কালবৈশাখীর সৃষ্টি হয়। সাধারণত বিফেল বেলায় কালবৈশাখী ঝড় বেশি হয়।
গ্রীষ্মকালে আমাদের দেশে যে বজ্রঝড় হয় তাই কালবৈশাখী নামে পরিচিত। আকাশে সঞ্চারণশীল ধূসর মেঘ সোজা উপরে উঠে গিয়ে জমা হয়। পরবর্তীতে এই মেঘ ঘনীভূত হয়ে ঝড়ো হাওয়া, ভারী বৃষ্টি, বজ্রবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ইত্যাদি সৃষ্টি করে। এভাবেই কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টি হয়।
টর্নেডো হলো সরু, ফানেল আকৃতির ঘূর্ণায়মান শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ। এ দ্বায়ুপ্রবাহ আকাশের বজ্র মেঘের, স্তর থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। টর্নেডো আকারে সাধারণত এক কিলোমিটারের কম হয়।
টর্নেডোর তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো-
১. টর্নেডোর ফলে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যেতে পারে।
২. ঘরের দেয়াল ভেঙে যেতে পারে।
৩. ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন হলো নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণায়মান সামুদ্রিক বজ্রঝড়। এটি ৫০০ থেকে ৮০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত হয়। কখনো কখনো ঘূর্ণিঝড়ের ফলে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
অধিক গরমের ফলে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের পানি ব্যাপক হারে বাষ্পে পরিণত হয়। এর ফলে ঐ সকল স্থানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপ থেকেই ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন সৃষ্টি হয়।
ঘূর্ণিঝড়ের তিনটি ক্ষতিকর প্রভাব হলো-
১. ঘূর্ণিঝড়ের ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে লোকালয় প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
২. জলোচ্ছ্বাসের ফলে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, যা সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
৩: এ ধরনের ঝড়ে অনেক মানুষ মারা যায়।
টর্নেডো ও ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে একটি পার্থক্য নিচে উল্লেখ
করা হলো- টর্নেডো হলো সরু ফানেল আকৃতির ঘূর্ণায়মান শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ।
পক্ষান্তরে ঘূর্ণিঝড় হলো নিম্নচাপের ফলে সৃষ্ট ঘূর্ণায়মান সামুদ্রিক
আমরা কোন কাপড় পরব বা কী করব তা ঐ দিনের আবহাওয়া দেখে ঠিক করি। আবার জলবায়ুর ধারণা কাজে লাগিয়ে কখন কোন ফসল চাষ করব তা ঠিক করতে পারি।
Related Question
View Allবায়ু উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলপ্রবাহিত হয়।
আর্দ্রতা হলো বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ।
সরু, ফানেল আকৃতির ঘূর্ণায়মান শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ হলো টর্নেডো ।
দিনে স্থলভাগ জলভাগ থেকে উষ্ণ থাকে।
রাতে স্থলভাগ সমুদ্রের তুলনায় ঠান্ডা থাকে।
অতি গরম আবহাওয়ার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাই হলো তাপদাহ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!