প্রাণীদের মতো উদ্ভিদও জড়বস্তুর ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। প্রাণীর মতো উদ্ভিদেরও শ্বাসকার্যের জন্য বায়ুর অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। উদ্ভিদ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে। মাটিতে উদ্ভিদের জন্য যে পুষ্টি উপাদান থাকে তা পানির মাধ্যমেই উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়। আবার অনেক উদ্ভিদের আবাসস্থল পানি। যেমন- শাপলা, কচুরিপানা, টোপাপানা ও প্রভৃতি।
উদ্ভিদ বংশবৃদ্ধির জন্য প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল। মৌমাছি, পাখি, প্রজাপতি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে। এদের মাধ্যমে এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলে স্থানান্তরিত হয়ে পরাগায়ন ঘটায়। পরাগায়ন না হলে অধিকাংশ উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধি সম্ভব হবে না। আবার পাখি ও প্রাণীরা ফল খেয়ে বীজ দূরে ছড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন স্থানে উদ্ভিদের জন্ম হয়। এভাবেই প্রাণীরা উদ্ভিদের পরাগায়ন ও বীজের বিস্তরণে সাহায্য করে, যা উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিকট পরিবেশ হিসেবে ধানক্ষেতে দেখা যায় এমন একটি খাদ্যশৃঙ্খলের প্রবাহচিত্র তৈরি করা হলো-

'জীব বলতে যাদের জীবন আছে তাদের বুঝায়। জীবের জন্ম ও মৃত্যু হয়, বৃদ্ধি পায়, শ্বাস নেয়, খাদ্য গ্রহণ করে, চলাফেরা করে ও বংশবিস্তার করতে পারে। উদাহরণ: মানুষ, গাছ, পাখি, মাছ, গরু ইত্যদি।
যেসব বস্তু নিজেরা জন্মাতে, নড়াচড়া করতে, খাদ্য গ্রহণ করতে ও বংশবিস্তার করতে পারে না সেসব বস্তুই হলো জড়বস্তু। এরা জীবিত নয়, কিন্তু জীবদের বেঁচে থাকার জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। উদাহরণ: পানি, বায়ু, মাটি, সূর্য ইত্যাদি।
জড়বস্তুর ওপর জীবের নির্ভরশীলতা বলতে বুঝায়- জীব বেঁচে থাকার জন্য জড়বস্তু যেমন মাটি, বায়ু, পানি, সূর্য ইত্যাদির উপর নির্ভরশীল। যেমন- জীবের শ্বাসকার্যে বায়ুর প্রয়োজন, খাদ্যশস্যের জন্য মাটি প্রয়োজন, জীবন বাঁচাতে পানি প্রয়োজন ইত্যাদি।
আমাদের চারপাশে যে সমস্ত জিনিস যেমন- বায়ু, মাটি, পানি, সূর্য, গাছপালা, প্রাণী ও মানুষ আছে, সেগুলোর সমষ্টিকে পরিবেশ বলা হয়। পরিবেশ জীবদের বেঁচে থাকার জন্য আবাস, খাদ্য, পানি ও বায়ু সরবরাহ করে। তাই জীবের প্রতিটি ধাপ পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত।
জীবেরা বেঁচে থাকার জন্য জড়বস্তুর ওপর নির্ভর করে।
যেমন- শ্বাসকার্য চালানোর জন্য বায়ু, পান করার জন্য পানি এবং খাদ্য উৎপাদনের জন্য সূর্যের আলো ও মাটি প্রয়োজন।
জড়বস্তুর ওপর উদ্ভিদের নির্ভরশীলতার তিনটি উদাহরণ হলো-
১. উদ্ভিদের শ্বাসকার্যের জন্য বায়ুর অক্সিজেন প্রয়োজন হয়।
২. সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে বায়ুর কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং পানি ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করে।
৩. মাটিতে থাকা পুষ্টি উপাদান পানির মাধ্যমেই উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে পৌঁছায়।
উদ্ভিদের পরাগায়নে প্রাণীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মৌমাছি, পাখি, প্রজাপতি ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রাণী ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে। এ সময় এদের মাধ্যমে এক ফুলের পরাগরেণু অন্য ফুলে ছড়িয়ে দিয়ে উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে।
বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর মৃতদেহ পচে প্রকৃতিতে জড় উপাদানে পরিণত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এদেরকে পুষ্টি উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে পরিবেশে গতিশীলতা ও ভারস্থাত্ম্য বজায় থাকে।
উদ্ভিদের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতার ৩টি কারণ হলো-
১. মানুষ খাদ্য তৈরি করতে পারে না, তাই খাবারের অধিকাংশই উদ্ভিদ থেকে গ্রহণ করে......
২. উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে অক্সিজেন উৎপন্ন করে মানুষ সেই অক্সিজেন গ্রহণ করে বেঁচে থাকে।
৩. মানুষ তার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র তৈরিতে উদ্ভিদের কাঠ ব্যবহার করে।
মানুষের ওপর প্রাণীর নির্ভরশীলতার ৩টি উদাহরণ হলো-
১. মানুষ যখন পশুপালন করে তখন প্রাণীর খাদ্য সরবরাহ করে।
২. বংশবৃদ্ধি ও নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে।
৩. সুস্থতার জন্য উন্নত পরিবেশ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করে।
প্রাণীর ওপর মানুষের নির্ভরশীলতার তিনটি বাক্য হলো-
১. মানুষের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে মাছ, মাংস, ডিম, দুধ থাকে সেগুলো প্রাণী থেকে আসে।
২.নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন- পোশাক, ব্যাগ, জুতা, চিরুনি ইত্যাদি প্রাণীর চামড়া, পশম ও হাড় থেকে তৈরি হয়।
৩. প্রাণীর হাড়ের গুঁড়ো থেকে তৈরি সার ফসল ফলাতে ব্যবহার হয়।
যে সকল প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে তারা হলো প্রথম স্তরের খাদক। যেমন- ঘাসফড়িং, গরু, ছাগল, হরিণ ইত্যাদি।
পরিবেশের উপাদানগুলো দুই ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো-
১. জীব উপাদান ও ২. জড় উপাদান।
মাটির নিচে বাস করে এমন তিনটি প্রাণীর নাম হলো-১. পোকামাকড়, ২. কেঁচো ও ৩. ইঁদুর।
পানিতে বাস করে এমন তিনটি প্রাণীর নাম হলো-
১. মাছ, ২. কুমির ও ৩. কাছিম।
উদ্ভিদ সূর্যের আলো, পানি ও বায়ু থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড ব্যবহার করে নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করে। উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির এই প্রক্রিয়া সালোকসংশ্লেষণ নামে পরিচিত।
উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে কিন্তু প্রাণী নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারেনা। তাই প্রাণী তার খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল.।
কোনো স্থানের সকল জীব ও জড় এবং তাদের মধ্যকার পারস্পরিক ক্রিয়াকে ওই স্থানের বাস্তুসংস্থান বলে। যেমন-পুকুরের বাস্তুসংস্থান, বনভূমির বাস্তুসংস্থান ইত্যাদি।
উদ্ভিদ কীভাবে প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল সে সম্পর্কে তিনটি বাক্য হলো-
১. উদ্ভিদ খাদ্য তৈরিতে প্রাণীর ওপর নির্ভরশীল।
২. উদ্ভিদ পরাগায়ন ও বীজের বিস্তরণের জন্য প্রাণীর উপর নির্ভরশীল।
৩. প্রাণীর মৃতদেহ পচে যে সার হয় তা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
মাতৃউদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন স্থানে বীজের ছড়িয়ে পড়াই হলো বীজের বিস্তরণ। বীজের বিস্তরণ নতুন নতুন উদ্ভিদ আবাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এ কাজে বিভিন্ন প্রাণী, যেমন- মানুষ, পাখি এবং জড় উপাদান, যেমন- বায়ু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রাণীর মৃত্যুর পর মাটিতেই পচন ক্রিয়া সংগঠিত হয়। এ সময় প্রাণীর মৃতদেহ পচে প্রাকৃতিক সারে পরিণত হয়। এই সার পুষ্টি হিসেবে ব্যবহার করে। উদ্ভিদ বেড়ে ওঠে। এভাবেই পুষ্টি উপাদানের জন্য উদ্ভিদ প্রাণীর উপর নির্ভরশীল।
পরাগায়নে সাহায্য করে এমন তিনটি প্রাণীর নাম হলো-
১. পাখি, ২. মৌমাছি ও ৩. প্রজাপতি।
খাদ্যশৃঙ্খল বলতে বাস্তুসংস্থানে উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে শক্তি প্রবাহের ধারাবাহিক প্রক্রিয়াকে বুঝায়। যেখানে, এক জীব অন্য জীবকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। সবুজ উদ্ভিদ থেকেই প্রতিটি খাদ্য শৃঙ্খলের শুরু।
খাদ্যশৃঙ্খলের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. শক্তি একমুখীভাবে প্রবাহিত হয়।
২. খাদ্যশৃঙ্খল সবুজ উদ্ভিদ থেকে শুরু হয়।
৩. শক্তি উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে প্রবাহিত হয়।
ঈগল, ঘাস, সাপ' ও ব্যাঙ দিয়ে খাদ্য শৃঙ্খলের সঠিক
ক্রমটি হলো: ঘাস ব্যাঙ সাপ ঈগল।
খাদ্যজাল হলো একাধিক খাদ্যশৃঙ্খলের সমন্বিত রূপ। অর্থাৎ একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল একত্রিত হয়ে খাদ্যজাল তৈরি করে। খাদ্যজালের মাধ্যমে বাস্তুসংস্থানের স্থিতিশীলতা রজায় থাকে।
খাদ্যজালের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. একাধিক খাদ্যশৃঙ্খলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
২. জীবদের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা থাকে।
৩. বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখে।
খাদ্যজাল পরিবেশে জীবদের পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখে। কোনো একটি প্রাণী রা উদ্ভিদ বিলুপ্ত হলে খাদ্যজালের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং অন্যান্য প্রাণীর জীবন বিপন্ন হয়।
সূর্যের আলো থেকে উদ্ভিদ শক্তি পায় এবং খাদ্য তৈরি করে। প্রাণীরা সেই উদ্ভিদ বা অন্যান্য প্রাণী খেয়ে শক্তি পায়। এভাবে শক্তি একস্তর থেকে অন্যস্তরে প্রবাহিত হয়।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্টের ফলে সৃষ্ট তিনটি ক্ষতিকর
দিক হলো-
১. জলবায়ু পরিবর্তন, ২. খরা সৃষ্টি ও ৩. খাদ্যজাল ধ্বংস হওয়া।
মাতৃউদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন স্থানে বীজের ছড়িয়ে পড়াই হলো বীজের বিস্তরণ।
পরিবেশের যে অজীব উপাদানগুলো জীবদের জীবনধারায় প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে সেসব উপাদানগুলোই হলো পরিবেশের মৌলিক জড় উপাদান। এই উপাদানগুলো জীবের খাদ্য তৈরি, শ্বাস-প্রশ্বাস, বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। যেমন- মাটি, পানি, বায়ু ও সূর্য।
পরাগায়নের ফলে উদ্ভিদের বীজ সৃষ্টি হয়।
প্রাণীর বর্জ্য ও মৃতদেহ পচে সার তৈরি হয়, যা মাটিতে মিশে উদ্ভিদের পুষ্টি যোগায়। এছাড়া প্রাণীরা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে যে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে, উদ্ভিদ তা ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। এভাবেই প্রাণীর বর্জ্য উদ্ভিদের উপকারে আসে।
প্রাকৃতিক সার উদ্ভিদ পুষ্টি হিসেবে গ্রহণ করে।
একাধিক খাদ্যশৃঙ্খল একত্রিত হয়ে খাদ্যজাল তৈরি করে।
Related Question
View Allখাদ্যশৃঙ্খলে সবুজ উদ্ভিদকে বলা হয় উৎপাদক l
তৃণভোজী প্রাণী হলো প্রথম শ্রেণির খাদক।
উদ্ভিদের বীজের বিস্তরণে সাহায্য করে পাখি l
জীব ও জড় উপাদানসমূহ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত।
আমাদের শ্বাসকার্য চালানোর জন্য বায়ুর প্রয়োজন।
পানি ছাড়া মানুষের জীবন অচল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!