পানির সাধারণত তিনটি অবস্থা থাকে। এগুলো হলো
যথাক্রমে: কঠিন (বরফ), তরল (পানি) এবং বায়বীয় (জলীয় বাষ্প)।'
পরমাণু ও অণুর মধ্যে দুইটি পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
| পরমাণু | অণু |
| ১. পদার্থের গাঠনিক একক হলো পরমাণু। | ১. পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশই হলো অণু। |
| পরমাণু | অণু |
| ২. অণুকে ভাঙলে পরমাণু পাওয়া যায়। | ২. পরমাণুর সমন্বয়ে অণু গঠিত হয়। |
পদার্থের তরল অবস্থার দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকৃতি নাই।
২. স্বাধীনভাবে প্রবাহিত হতে বা গড়িয়ে যেতে পারে।
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যাকে আর ভাঙা যায় না এবং পদার্থের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে তাকে পরমাণু বলে।
কোনো পদার্থকে ভাঙলে আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিছু কণা পাই, যা অণু নামে পরিচিত। এ সকল অণুকে ভাঙলে আবার অতিসূক্ষ্ম কিছু কণা পাওয়া যায়, যা পরমাণু নামে পরিচিত। পরমাণুকে খালি চোখে কিংবা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যায় না।
অণু ও পরমাণুর মধ্যে পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
| অণু | পরমাণু |
| ১. পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশই হলো অণু। | ১. প্রত্যেক পদার্থের গাঠনিক একক হলো পরমাণু। |
| ২. অণুর স্বাধীন অস্তিত্ব আছে। | ২. পরমাণুর স্বাধীন অস্তিত্ব নেই। |
| ৩. পরমাণুর সমন্বয়ে অণু গঠিত। | ৩. অণুকে ভাঙলে পরমাণু পাওয়া যায়। |
যে সকল পদার্থকে ভাঙলে একই ধরনের পরমাণু পাওয়া যায়, সে সকল পদার্থকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। অর্থাৎ মৌলিক পদার্থগুলো একই ধর্মের পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত।
আবার কোনো কোনো মৌলের অণুতে একটি পরমাণু থাকে। যেমন- সোডিয়াম, লোহা এবং কোনো মৌলের অণুতে একাধিক পরমাণু থাকে। যেমন, অক্সিজেনে ২টি, হাইড্রোজেনে ২টি।
যে সকল পদার্থকে ভাঙলে একাধিক রকমের তথা ভিন্ন ধর্মের পরমাণু পাওয়া যায়, সে সকল পদার্থকে যৌগিক পদার্থ বা যৌগ বলে। অর্থাৎ যৌগিক পদার্থগুলো একাধিক ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের পরমাণু দিয়ে গঠিত। আমাদের চারপাশে অসংখ্য যৌগিক পদার্থ রয়েছে। এদের মধ্যে যৌগিক পদার্থ হলো-
১. পানি [পানি = হাইড্রোজেন + অক্সিজেন পরমাণু]
২. চক চক = ক্যালসিয়াম + কার্বন + অক্সিজেন পরমাণু]
মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ :
| মৌলিক পদার্থ | যৌগিক পদার্থ |
| ১. একই ধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত। | ১. ভিন্ন ধরনের পরমাণু দ্বারা গঠিত। |
| ২. যৌগিক পদার্থ ভাঙলে মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়। | ২. একাধিক ভিন্ন ভিন্ন মৌলিক পদার্থ দিয়ে যৌগিক পদার্থ তৈরি হয়। |
| মৌলিক পদার্থ | যৌগিক পদার্থ |
| ৩. উদাহরণ: অক্সিজেন অণু, নাইট্রোজেন অণু ইত্যাদি। | ৩. উদাহরণ: পানি, চক ইত্যাদি। |
যে সকল পদার্থকে ভাঙলে ভিন্ন ধর্মের একাধিক পরমাণু পাওয়া যায়, সে সকল পদার্থই যৌগিক পদার্থ। অর্থাৎ যৌগিক পদার্থ একাধিক ভিন্ন ধর্মের পরমাণু দ্বারা গঠিত।
পানি ২টি হাইড্রোজেন (H) পরমাণু + ১টি অক্সিজেন (০) পরমাণু।
যেহেতু কে ভাঙলে হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন (O) পরমাণু পাওয়া যায়, যাদের ধর্ম ভিন্ন। সুতরাং পানি একটি যৌগিক পদার্থ।
যে সকল পদার্থের বিভাজনের ফলে একই ধর্মবিশিষ্ট একাধিক পরমাণু পাওয়া যায়, তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বলে।
অর্থাৎ একই ধরনের পরমাণু দিয়ে মৌলিক পদার্থ গঠিত। হাইড্রোজেন অণুকে ভাঙলে আমরা দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু পাই, যাদের ধর্ম একই। এ কারণে হাইড্রোজেন অণু মৌলিক পদার্থ।
পানির অণুর চিত্র অঙ্কন করে নিচে দেখানো হলো-

দেখা যাচ্ছে, পানির অণুতে একটি অক্সিজেন দুইটি হাত দ্বারা দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণুকে ধরে রাখে।
পরমাণুর তিনটি বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. পদার্থের গঠনগত একক হিসাবে কাজ করে।
২. স্বাধীন অস্তিত্ব নেই।
৩. খালি চোখে বা অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে দেখা যায় না।
আমাদের চারপাশে যে সকল পদার্থ রয়েছে তাদেরকে
তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. কঠিন পদার্থ,
২. তরল পদাথ ও
৩ বায়বীয় পদার্থ।
পানি কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিনটি অবস্থায় থাকে।
কঠিন অবস্থায় পানির অণুগুলো খুব কাছাকাছি থাকে। কঠিন অবস্থার পানিকে বরফ বলা হয়।
তরল অবস্থায় পানির অণুগুলো একটু দূরে দূরে অবস্থান করে।
রান্নার কাজে তরল পানি ব্যবহার করা হয়।
বায়বীয় অবস্থায় পানির অণুগুলো অনেক দূরে দূরে অবস্থান করে। পানির এই অবস্থাকে জলীয়বাষ্প বলে।
কঠিন পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. আন্তঃআণবিক বল খুবই শক্তিশালী।
২. অণুগুলো সুনির্দিষ্ট বিন্যাসে আবদ্ধ থাকে।
৩. নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তন আছে।
তরল পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. আন্তঃআণবিক বল কম থাকে।
২. অণুগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো বিন্যাস নেই।
৩. নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু আকৃতি নেই।
বায়বীয় পদার্থের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. আন্তঃআণবিক বল খুবই দুর্বল।
২. অণুগুলোর সুনির্দিষ্ট বিন্যাস নেই।
৩. নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি কিছুই নেই।
একাধিক ভিন্ন ভিন্ন পদার্থ যখন পাশাপাশি অবস্থান করে নিজ নিজ ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে তখন তাকে মিশ্রণ বলে।
মিশ্রণ দুই প্রকার। যথা- ১। সমসত্ব মিশ্রণ, ২। অসমসত্ব মিশ্রণ।
উদাহরণ: চিনির শরবত, বালু ও ইটের গুঁড়া ইত্যাদি।
মিশ্রণের তিনটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. মিশ্রণের উপাদানগুলো পাশাপাশি অবস্থান করে।
২. উপাদানের বৈশিষ্ট্য বা গুণাগুণ অক্ষুণ্ণ থাকে।
৩. নতুন কোনো পদার্থ তৈরি হয় না।
যে মিশ্রণে মিশ্রণের উপাদানগুলো মিশ্রণের সর্বত্র সমানভাবে বিস্তৃত থাকে, সেই মিশ্রণকে সমসত্ব, মিশ্রণ বলে।
যেমন- খাবার স্যালাইন, চিনির শরবত ইত্যাদি সমসত্ব মিশ্রণ।
যে মিশ্রণে মিশ্রণের উপাদানগুলো মিশ্রণের সর্বত্র সমানভাবে বিস্তৃত থাকে না, সেই মিশ্রণকে অসমসত্ব মিশ্রণ বলে। যেমন- বালু ও ইটের গুঁড়ার মিশ্রণ, মুড়ি-চানাচুর মিশ্রণ ইত্যাদি অসমসত্ব মিশ্রণ।
পুরোনো কোনো বস্তু ফেলে না দিয়ে তা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করাই বস্তুর, পুনর্ব্যবহার। যেমন- পুরানো জামা ফেলে না দিয়ে গরিব অসহায় মানুষদের দেওয়া বা ঘর পরিষ্কার করার কাজে লাগানো হলো পুরানো কাপড়ের পুনর্ব্যবহার।
পুনর্ব্যবহার করা যায় এমন তিনটি বস্তু হলো-
১. পুরানো জামা-কাপড়,
২. খালি পানির বোতল ও
৩. লেখা কাগজ।
অকেজো, ভাঙা বা পরিত্যক্ত কোনো জিনিস থেকে পুনরায় নতুন জিনিস তৈরি করার প্রক্রিয়াকে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ (রি-সাইকেল) বলে।
টিন, প্লাস্টিক, কাচ, কাগজ এগুলো রিসাইকেল করে নতুন দ্রব তৈরি করা যায়। যেমন- ভাঙা কাচ দিয়ে নতুন কাচ তৈরি করাকে কাচের রি-সাইকেল বা পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বুঝায়।
উদ্ভিদ ও প্রাণীর কিংবা ফলমূলের বিভিন্ন অংশ পচে গিয়ে যে সার তৈরি হয়, তাকে জৈব সার বলে।
যেমন- রান্না ঘরের শাকসবজি, মাছ-মাংসের কাটার পর আবর্জনাগুলো মাটিতে পুঁতে রাখলে সেগুলো থেকে জৈব সার তৈরি হয়।
চিনির শরবত একটি সমসত্ব মিশ্রণ। চিনির শরবতকে একটি পাত্রে নিয়ে তাতে তাপ দিতে দিতে এক পর্যায়ে পানি বাষ্প হয়ে উড়ে যাবে এবং পাত্রের তলায় চিনি পড়ে থাকবে। এভাবে চিনিকে শরবত থেকে পৃথক করা যায়।
ব্যবহার করার পর কোনো পদার্থ বা বস্তুকে ফেলে না দিয়ে পুনরায় অন্য কাজের জন্য ব্যবহার করাই হলো পদার্থের পুনর্ব্যবহার। যেমন- পুরাতন জামা ঘর মোছার কাজে ব্যবহার করা।
একই ধর্মবিশিষ্ট একই ধরনের পরমাণুর সমন্বয়ে যে সকল পদার্থ তৈরি হয়, সে সকল পদার্থই মৌলিক পদার্থ। যেমন- হচ্ছে মৌলিক পদার্থ।
ব্যবহার অনুপযোগী কোনো পদার্থকে পুনরায় নতুন কোনো পদার্থ তৈরি করার প্রক্রিয়াকে বস্তুর পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ বলে।
জানা আছে, একাধিক রকমের তথা ভিন্নধর্মী পরমাণু দ্বারা গঠিত পদার্থই হচ্ছে যৌগিক পদার্থ। পানিকে ভাঙলে ভিন্নধর্মী পরমাণু হাইড্রোজেন (H) এবং অক্সিজেন (০) পাওয়া যায়। এ কারণে পানি যৌগিক পদার্থ।
যে সকল পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তন থাকে তাদেরকে কঠিন পদার্থ বলে। যেমন- ইট, কাঠ ইত্যাদি কঠিন পদার্থ।
Related Question
View Allহাইড্রোজেনের একটি অণুতে দুইটি পরমাণু থাকে।
পদার্থের বায়বীয় অবস্থায় অণুসমূহ সবচেয়ে দূরে দূরে থাকে।
পানি খাওয়ার জন্য নিরাপদ করতে তাপ ব্যবহার করি।
পানির একটি অণুতে দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণু আছে।
অণুকে ভাঙলে পরমাণু পাওয়া যায়।
যে কোনো পদার্থের গাঠনিক একক পরমাণু ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!