ঈশ্বর সকল প্রাণীর দেহে আত্মারূপে অবস্থান করেন।
ঈশ্বর যুগে যুগে অবতীর্ণ হয়ে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করেন।
ভগবান বিষ্ণু সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি- এই চার যুগে অবতাররূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
রাম বিভীষণকে লঙ্কার রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেন।
ভরত রামের পাদুকা সিংহাসনে রেখেছিলেন।
স্বামী বিবেকানন্দের দুটি বাণী নিচে লেখা হলো-
১.ওঠো, জাগো এবং লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত থেমো না।
২. পরোপকারই ধর্ম, পরপীড়নই পাপ। শক্তি ও সাহসিকতাই ধর্ম। দুর্বলতা ও কাপুরুষতাই পাপ।
ভগিনী নিবেদিতার মানবকল্যাণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো- মেয়েদের শিক্ষার প্রসার। তিনি উত্তর কলকাতার বাগবাজারে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঘুরে ঘুরে সব বয়সে মেয়েদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতেন। তিনি গল্পের ছলে মেয়েদের শিক্ষা দিতেন। এছাড়াও মেয়েদের বিভিন্ন হাতের কাজ, সেলাই, আলপনা ইত্যাদিও শেখাতেন।
রাজপুতনার ক্ষেত্রী রাজা অজিত সিং নরেন্দ্রনাথের নাম স্বামী বিবেকানন্দ রেখেছিলেন।
মতুয়াদের তিনটি স্তম্ভ। স্তন্ড তিনটি হলো- সত্য, প্রেম ও পবিত্রতা।
হরিচাঁদ ঠাকুরের উপদেশগুলো 'দ্বাদশ আজ্ঞা' নামে পরিচিত।
অবতার বলতে ঈশ্বরের মানবরূপে পৃথিবীতে আবির্ভাবকে বোঝায়। যখন পৃথিবীতে অন্যায়, অত্যাচার ও অধর্ম বৃদ্ধি পায়, তখন ঈশ্বর, অবতীর্ণ হয়ে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করেন। তিনি মানবকল্যাণের জন্য কাজ করেন। যুগে যুগে বিভিন্ন রূপে ঈশ্বর অবতার হিসেবে আসেন।
রাবণ ছিলেন লঙ্কার রাজা ও এক প্রবল পরাক্রমশালী রাক্ষস। তাঁর পিতার নাম বিশ্রবা এবং মাতার নাম নিকষা বা কৈকসী। ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করে তিনি অজেয় বর লাভ করেন। কিন্তু এই শক্তির অপব্যবহার করে তিনি দেবতা ও মানুষদের ওপর অত্যাচার শুরু করেন। বনবাসকালে রাবণ সীতাকে হরণ করেন, সীতাকে উদ্ধার করতে গিয়ে রাম ও রাবণের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধে হয় এবং যুদ্ধে রাবণ মৃত্যুবরণ করেন।
পরশুরাম ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার। তাঁর পিতার নাম জমদগ্নি এবং মাতার নাম রেণুকা। তিনি ভৃগুবংশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, তাই ভার্গব ও ভৃগুরাম নামেও পরিচিত। তিনি মহাদেবের তপস্যা করেন। কঠোর তপস্যা করে তিনি মহাদেবের থেকে পরশু বা কুঠার লাভ করেন, যা তাঁকে অজেয় করে তোলে। তিনি একুশবার অত্যাচারী ক্ষত্রিয়দের হত্যা করে পৃথিবীতে শান্তি ফিরিয়ে আনেন।
রাম ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার। তাঁর পিতা ছিলেন দশরথ এবং মাতা কৌশল্যা। রামের জন্ম হয় চৈত্র মাসে, শুক্লাপক্ষের নবমী তিথিতে। রামের স্ত্রীর নাম সীতা। রাম যেমন ছিলেন বীর তেমনি বিনয়ী ও প্রজাবৎসল। রামের পিতৃভক্তির তুলনা নেই। পিতৃসত্য পালনের জন্য তিনি চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। মা, ভাই, স্ত্রী ও বন্ধুর প্রতি ভালোবাসায়ও রাম ছিলেন অসাধারণ। তিনি রাবণকে হত্যা করার মাধ্যমে রাক্ষসকুলকে ধ্বংস করেন।
রানি কৈকেয়ী রাজা দশরথের কাছে বর চাইলেন-
'এক বরে ভরতেরে দেহ সিংহাসন। আর বরে শ্রীরামেরে পাঠাও কানন।।'
অর্থাৎ প্রথম বরে ভরতকে রাজা করতে হবে। দ্বিতীয় বরে রামকে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে পাঠাতে হবে।
রামরাজত্ব সম্পর্কে নিচে তিনটি বাক্য লেখা হলো-
১. প্রজারা সুখে-শান্তিতে বাস করত।,
২. রাজ্যে কোনো অকাল মৃত্যু ছিল না।
৩. প্রজারা ন্যায়বিচার পেত।
শ্রীরামচন্দ্রের গুণাবলি সম্পর্কে নিচে লেখা হলো-
১. তিনি ছিলেন বীর, বিনয়ী ও প্রজাবৎসল।
২. পিতার প্রতি তাঁর ছিল অগাধ ভক্তি।
৩. তাঁর কোনো অহংকার ছিল না।
৪. অত্যাচারী দমনে তিনি ছিলেন নির্ভীক ও কঠোর।
একদিন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক পাঠদান করছিলেন, তখন
নরেন্দ্রনাথ সহপাঠীদের সাথে কথা বলছিল। এতে শিক্ষক রেগে গিয়ে সবাইকে পাঠ জিজ্ঞেস করলে কেবল নরেন্দ্রনাথই পাঠ বলতে পারে। এজন্য শিক্ষক নরেন্দ্রনাথ বাদে অন্যদের দাঁড়াতে বললে সহপাঠীদের সাথে নরেন্দ্রনাথও উঠে দাঁড়ায় এবং বলে 'আমিও কথা বলেছি, অপরাধ তো আমিও করেছি।' তার এই উত্তর শুনে শিক্ষক বিস্মিত ও আনন্দিত হন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তাঁর সততা ও নির্ভীকতার পরিচয় স্পষ্ট হয়।
নারী শিক্ষার জন্য নিবেদিতা কলকাতার বাগবাজারে একটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তিনি ঘুরে ঘুরে সব বয়সের মেয়েদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতেন। তিনি গল্পের ছলে মেয়েদের শিক্ষা দিতেন। সীতা, সাবিত্রী, গান্ধারী প্রমুখ মহীয়সী নারীর জীবনী অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে শোনাতেন।
ভগিনী নিবেদিতার জীবনী অনুসরণে আমি করতে পারি এরূপ কাজ হলো-
১. দুস্থ ও নিপীড়িত মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিই।
২. সকল মানুষকে সমান জ্ঞান করি।
৩. জাতি-ধর্ম ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করি।
৪. সকল মানুষকে আপন মনে করে সেবা করি।
স্বামী বিবেকানন্দের শৈশব জীবনে তাঁর চরিত্রের যেসব গুণের
প্রকাশ ঘটেছিল-
১. সততা, সাহস, কৌতূহল ও নেতৃত্বের গুণের প্রকাশ পায়।
২. তিনি ছিলেন দুরন্ত কিন্তু গভীরভাবে চিন্তাশীল ও আধ্যাত্মিক।
৩. সহপাঠীদের সাথে খেলতে খেলতেও তিনি ধর্ম ও ধ্যান নিয়ে ভাবতেন।
৪. বিদ্যালয়ের ঘটনার মাধ্যমে তাঁর সততা ও নির্ভীকতা প্রকাশ পায়।
স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বাস করতেন, প্রতিটি জীবের মধ্যে ঈশ্বর বিরাজমান। তাই জীবসেবা মানেই ঈশ্বরসেবা। তিনি বলেন, "জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।" তিনি সমাজের দরিদ্র, অশিক্ষিত ও নিম্নবর্ণের মানুষকে অবহেলা নয়, ভালোবাসা ও সহায়তার দৃষ্টিতে দেখতে শিখিয়েছিলেন। তাঁর এই মানবাদী দর্শন সমাজে করুণার, পরিবর্তে দায়িত্বরোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলে।
মতুয়াবাদ বলতে বোঝায় হরিচাঁদ ঠাকুর প্রদত্ত এক ধর্মীয় ও সামাজিক মতবাদ, যা তিনটি স্তম্ভের (সত্য, প্রেম ও পবিত্রতা) ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই মতবাদের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, একমাত্র হরিনামের মাধ্যমেই ঈশ্বরলাভ সম্ভব। হরিচাঁদ ঠাকুর শিখিয়েছিলেন যে জাতিভেদ, কুসংস্কার ও ভেদাভেদ দূর করে সবাইকে ভালোবাসতে হবে। মতুয়াবাদের মূল লক্ষ্য হলো মনুষ্যত্ব অর্জন, আত্মোন্নতি এবং সকলের কল্যাণ সাধন।
হরিচাঁদ ঠাকুরের চারটি উপদেশ হলো-
১. সদা সত্য কথা বলবে।
২. পিতা-মাতাকে দেবতাজ্ঞানে ভক্তি করবে।
৩. জাতিভেদ করবে না।
Related Question
View Allঈশ্বরের ত্রাতা রূপকে বলা হয় অবতার l
পরশুরাম ছিলেন বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার।
রাম যেমন ছিলেন বীর তেমনি বিনয়ী ও প্রজাবৎসল l
মহাসমারোহে রামের রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয়।
মিথিলার রাজার নাম ছিল জনক l
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!