ঢাকার যানজট নিরসনে করণীয়
বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় যানজট সমস্যা একটি মরণব্যাধি সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এই মরণব্যাধি যেন অক্টোপাসের মতো নগরবাসীর ওপর চেপে বসে আছে। কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না এই যানজট নামক মরণব্যাধি। রাজধানীর প্রতিটি সড়ক, অলিগলি, গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় লেগে থাকছে এ সমস্যা। এ সমস্যা নগরবাসীকে দিনের পর দিন অতিষ্ঠ করে তুলছে; বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং নিম্নআয়ের মানুষ বেশি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। যেখানে যেতে ১৫ মিনিট বা আধাঘণ্টা সময় লাগার কথা, যানজটের কারণে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। অফিস যেখানে শুরু সকাল ৯টা থেকে, সেই অফিসে পৌঁছাতে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। অর্ধেক সময় রাস্তায় কাটাতে হয় যানজটের কারণে। পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের হলে যেতে হয় ভোরবেলায়; ফলে ভালোমতো প্রস্তুতি নেয়াও সম্ভব হয় না। এই যানজটের কারণে সার্বিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা দিনের পর দিন ব্যাহত হতে চলেছে। অবৈধভাবে ফুটপাত দখল, বর্ষা মওসুমে অতিরিক্ত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে প্রবল বৃষ্টিপাতে সড়কগুলোর বেহালদশা, গাড়ি-ট্রাক-প্রাইভেট গাড়িগুলোর যত্রতত্র পার্কিং, জায়গায় জায়গায় বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা, গাড়ি চালানোর সময় চালকদের বিরামহীন প্রতিযোগিতা, গাড়িচালকদের অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন ঠিকমতো না মানা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় রেলক্রসিং থাকার দরুন বারবার ট্রেন আসা-যাওয়া করা ইত্যাদি হচ্ছে যানজট বৃদ্ধির কারণ। সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে যানবাহনের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে; কিন্তু সে তুলনায় রাস্তার সংখ্যা বাড়েনি। দেশের মানুষ যানজট নামক এই অসহনীয় মরণব্যাধি থেকে দ্রুত মুক্তি চায়। তারপরও যেন এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছে না। এ সমস্যা পরিবহন ব্যবস্থাকে একেবারেই পর্যুদস্ত করে দিয়েছে। সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ করতে প্রয়োজনে ক্ষমতা ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। সড়কের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে তার আগে প্রয়োজন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের ঈমান; তথা ধর্মবিশ্বাসকে মানবতার কল্যাণে কাজে লাগিয়ে সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও হক্বের পক্ষে ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। মানুষ যদি ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা ফিরে পায়, যদি বুঝতে পারে তাকে পৃথিবীতে পাঠানোর উদ্দেশ্য কী, কোন কাজটি তার প্রকৃত ইবাদত এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে সকল স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করা হয়, তাহলে ধর্মের প্রকৃত আদর্শের ভিত্তিতে যে কোনো বৃহৎ সমস্যা সহজেই সমাধান হয়ে যাবে। তাহলেই যানজট সমস্যা দূর হবে। এই কাজ শুধুমাত্র সরকার ও প্রশাসনের একার নয়, ১৬ কোটি মানুষের ঈমানী ও ধর্মীয় দায়িত্ব এবং অন্যদিকে সামাজিক কর্তব্য।
যানজট সমস্যা এখন আমাদের দেশের মানুষের জন্য একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিন যতই যাচ্ছে, ঢাকার শহরের যানজট ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যানজট সৃষ্টি হওয়ার পেছনে আমাদের অসচেতনতাটাই সবচেয়ে বেশি দায়ী। যানজটের কারণে বিশ্বে অচল শীর্ষ ১০টি নগরীর মধ্যে রাজধানী ঢাকাও অনেক আগে ঠাঁই করে নিয়েছে।
- বাংলাদেশে পার্কিং ব্যবস্থার উন্নত করতে হবে।
- ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে পাবলিক যানবাহনের ব্যবস্থা করতে হবে।
- মহাসড়কগুলিতে তিন চাকা ও দুই চাকার যানবাহনগুলি নিষিদ্ধ করে এসবের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে।
- ইউলুপসহ বিভিন্ন উন্নত পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে।
- ১০০ বছরের একটা মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে।
- বেসরকারি যানবাহনগুলিকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে রুটভিত্তিক অসংখ্য বাস ব্র্যান্ডের পরিবর্তে কয়েকটি বাস ব্র্যান্ডে সীমিত করার মাধ্যমে।
- রেল ও নৌপথে সমানভাবে উন্নতি করা যাতে সড়কের উপর চাপ কমে।
- স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ব্যাক্তিগত গাড়ির বদলে সবার জন্য বাসে পরিবহন বাধ্যতামূলক করা।
- পরিবেশবান্ধব সাইকেলকে উদ্বুদ্ধ করা। আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা।
- রাজধানীকেন্দ্রিকতা বাদ দিয়ে সারা দেশে অফিস আদালত ও কর্মসংস্থান ছড়িয়ে দেওয়া।
- যদি সম্ভব হয় ঢাকাকে বাদ দিয়ে আশেপাশের কোন জেলায় রাজধানী স্থানান্তর করা।
ঢাকার যানজট নিরসনে প্রথমে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা। গণপরিবহনের উন্নয়ন জরুরি, যাতে সবাই ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহার করে। রাস্তা প্রশস্ত করা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা এবং সুষ্ঠু পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। রাস্তার অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে এবং অযাচিত রিকশা ও ব্যাটারি চালিত যান কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নগরপরিকল্পনা অনুযায়ী শহরকে গড়ে তুলতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা যেমন সাইকেল লেন, পাতাল রেল চালু করা দরকার। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ঢাকার যানজট কমানো সম্ভব।
যানজট নিরসনে রাজধানীর রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণ, ফ্লাইওভার নির্মাণ, রাজপথ থেকে হকার উচ্ছেদ এবং অবৈধ পার্কিংয়ের অবসান ঘটাতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রেও আরোপ করতে হবে কঠোর শৃঙ্খলা।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় যানজট সমস্যা একটি মরণব্যাধি সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এই মরণব্যাধি যেন অক্টোপাসের মতো নগরবাসীর ওপর চেপে বসে আছে। কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না এই যানজট নামক মরণব্যাধি। রাজধানীর প্রতিটি সড়ক, অলিগলি, গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় লেগে থাকছে এ সমস্যা। এ সমস্যা নগরবাসীকে দিনের পর দিন অতিষ্ঠ করে তুলছে; বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং নিম্নআয়ের মানুষ বেশি বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। যেখানে যেতে ১৫ মিনিট বা আধাঘণ্টা সময় লাগার কথা, যানজটের কারণে সেখানে পৌঁছাতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। অফিস যেখানে শুরু সকাল ৯টা থেকে, সেই অফিসে পৌঁছাতে ২ থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। অর্ধেক সময় রাস্তায় কাটাতে হয় যানজটের কারণে। পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের হলে যেতে হয় ভোরবেলায়; ফলে ভালোমতো প্রস্তুতি নেয়াও সম্ভব হয় না। এই যানজটের কারণে সার্বিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা দিনের পর দিন ব্যাহত হতে চলেছে। অবৈধভাবে ফুটপাত দখল, বর্ষা মওসুমে অতিরিক্ত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে প্রবল বৃষ্টিপাতে সড়কগুলোর বেহালদশা, গাড়ি-ট্রাক-প্রাইভেট গাড়িগুলোর যত্রতত্র পার্কিং, জায়গায় জায়গায় বাস থামিয়ে যাত্রীদের ওঠানামা, গাড়ি চালানোর সময় চালকদের বিরামহীন প্রতিযোগিতা, গাড়িচালকদের অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন ঠিকমতো না মানা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোয় রেলক্রসিং থাকার দরুন বারবার ট্রেন আসা-যাওয়া করা ইত্যাদি হচ্ছে যানজট বৃদ্ধির কারণ। সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে যানবাহনের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে; কিন্তু সে তুলনায় রাস্তার সংখ্যা বাড়েনি। দেশের মানুষ যানজট নামক এই অসহনীয় মরণব্যাধি থেকে দ্রুত মুক্তি চায়। তারপরও যেন এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছে না। এ সমস্যা পরিবহন ব্যবস্থাকে একেবারেই পর্যুদস্ত করে দিয়েছে। সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ করতে প্রয়োজনে ক্ষমতা ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। সড়কের সংখ্যা বাড়াতে হবে। তবে তার আগে প্রয়োজন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের ঈমান; তথা ধর্মবিশ্বাসকে মানবতার কল্যাণে কাজে লাগিয়ে সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য, ন্যায় ও হক্বের পক্ষে ১৬ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা। মানুষ যদি ইসলাম সম্পর্কে সঠিক ধারণা ফিরে পায়, যদি বুঝতে পারে তাকে পৃথিবীতে পাঠানোর উদ্দেশ্য কী, কোন কাজটি তার প্রকৃত ইবাদত এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে সকল স্বার্থপরতা ও আত্মকেন্দ্রিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে জাতির কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করা হয়, তাহলে ধর্মের প্রকৃত আদর্শের ভিত্তিতে যে কোনো বৃহৎ সমস্যা সহজেই সমাধান হয়ে যাবে। তাহলেই যানজট সমস্যা দূর হবে। এই কাজ শুধুমাত্র সরকার ও প্রশাসনের একার নয়, ১৬ কোটি মানুষের ঈমানী ও ধর্মীয় দায়িত্ব এবং অন্যদিকে সামাজিক কর্তব্য।
ঢাকার যানজট একটি গুরুতর সমস্যা যা শহরের জীবনের গতি ও মান উন্নতিতে বাধা দেয়। যানজট নিরসনের জন্য কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
1. পরিবহন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন: ঢাকা শহরের সড়ক ও মহাসড়কগুলোর উন্নয়ন করতে হবে। নতুন সড়ক নির্মাণ ও পুরাতন সড়কগুলোর প্রশস্তকরণ করা উচিত।
2. মেট্রো রেল ও অন্যান্য ট্রানজিট সিস্টেম: মেট্রো রেল, বিআরটি (বাকিং রুট ট্রানজিট), এবং অন্যান্য ট্রানজিট সিস্টেমের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়াবে এবং যানজট কমাতে সহায়তা করবে।
3. ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: ট্রাফিক সিগন্যালের আধুনিকীকরণ, সড়কবিভাগের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং ট্রাফিক কন্ট্রোল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম উন্নত করতে হবে।
4. গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন: বাস, ট্রেন, অটোরিকশার মতো গণপরিবহন ব্যবস্থার মান বৃদ্ধি করা উচিত। বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) সিস্টেমের মতো প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়া উচিত।
5. নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়ন: যানজট কমানোর জন্য ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। অবৈধ পার্কিং, রাস্তার পাশে দোকানপাট ইত্যাদি বন্ধ করতে হবে।
6. স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার: স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেম, রিয়েল-টাইম ট্রাফিক আপডেট ও মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে যানজট নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতে পারে।
7. পাবলিক ট্রান্সপোর্ট প্রাধান্য: যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, গণপরিবহন ব্যবহারের প্রচার ও প্রণোদনা প্রদান করা উচিত।
8. জেলার বাইরে বিকেন্দ্রীকরণ: ঢাকা শহরের বাইরে নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত যাতে ঢাকার উপর চাপ কমে যায়।
9. মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব: মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব তৈরি করা যেতে পারে যেখানে বিভিন্ন ধরনের পরিবহন একত্রিত হবে, যেমন বাস, ট্রেন ও মেট্রো।
10. সাধারণ জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি: যানজটের সমস্যা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা এবং তাদেরকে দায়িত্বশীল আচরণের জন্য উৎসাহিত করা।
এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঢাকার যানজট সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বুয়েটের বেশ কয়েকজন অধ্যাপকের এবং বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর গাড়ির গড় গতি গত ১২ বছরে ২১ কিলোমিটার থেকে নেমে এসেছে পাঁচ কিলোমিটারে, যেন হেঁটে চলছে রাজধানী। অতিরিক্ত গাড়ির চাপে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।যানজট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, গাড়ি বেহিসাবে বাড়ছে। ফলে সব ধরনের পদক্ষেপ ব্যর্থ হচ্ছে। গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ না করলে লালবাতি জ্বলতে থাকলেও গাড়ি চলে। নানা রঙের বাতি জ্বললেও ট্রাফিক পুলিশকে হাতের ইশারায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। রাজধানীর যানজট নিরসনে সরাসরি জড়িত ১০টি সংস্থা। পরোক্ষসহ বিভিন্নভাবে জড়িত ৩২টি সংস্থা। তার মধ্যে কেইস নামে একটি প্রকল্পের অধীনে ঢাকায় ৮৮টি স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল চালু করা হয়েছিল। এর মধ্যে নষ্ট হয়েছে বেশিরভাগ। সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। পিক আওয়ারে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে সোনারগাঁও-বিজয় সরণি অংশে। মেট্রো রেল প্রকল্পের জন্য মিরপুরে ও সোনারগাঁও থেকে মতিঝিলের বিভিন্ন অংশে রাস্তার মাঝামাঝি ১১ মিটার জায়গা সীমানাবেষ্টিত করা হয়েছে। এসব কারণেও গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানীতে গাড়ির চাপ সামলাতে রিমোট কন্ট্রোলড সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বাংলামোটরসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। একটি ক্রসিংয়ের বিভিন্ন দিকের গাড়ির চাপ অনুপাতে দূর থেকেই স্থির করা হবে গাড়ি চলাচলের নির্দেশনা। ডিজিটাল ডিসপ্লেতে দেখেই চালকরা কোন দিকে গাড়ি চালাবে, তা বুঝতে পারবে। সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যালে আগে থেকেই ঠিক করা থাকত কোন দিকে লালবাতি কতক্ষণ জ্বলবে। এ ক্ষেত্রে তা হবে না।
ডিজিটাল লালবাতির পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশও গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব ব্যবস্থা কোনো সুফল আনবে না। ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ছোট গাড়ি কমিয়ে বাস বাড়াতে হবে। আর আমাদের সবার মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শুধু আইন বা বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণ করে যানজট নিরসন করা যাবে না।
একাধিক বাক্য দিয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচিত হয়। আবার বহু অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে তৈরি হয় প্রবন্ধ, গল্প ইত্যাদি গদ্যরচনা। এদিক থেকে অনুচ্ছেদ হলো গদ্যরচনার একক। একটি অনুচ্ছেদের মধ্যে বিশেষ একটি ভাবের প্রকাশ ঘটে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের অবতারণা করা হয়। তাই অনুচ্ছেদের বাক্যগুলো ভাব বা বিষয়ের দিক দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে। ভালো অনুচ্ছেদের সমন্বয়ে একটি গদ্যরচনা আকর্ষণীয় হয়। শিক্ষার্থীকে তাই ভালোভাবে অনুচ্ছেদ লিখতে শেখা দরকার। অনুচ্ছেদ রচনার সময়ে যেসব বিষয় মনে রাখতে হয়, সেগুলো নিম্নরূপ:
ক. অনুচ্ছেদে সব সময়ে একটি ভাব বা একটি বিষয় থাকে।
খ. একটি অনুচ্ছেদের মধ্যে একাধিক ভাব বা বিষয়ের অবতারণা করা ঠিক নয়।
গ. একটি বাক্য দিয়েও একটি অনুচ্ছেদ হয়। তবে দশ থেকে পনেরো বাক্যের অনুচ্ছেদই হলো আদর্শ অনুচ্ছেদ।
ঘ. অনেক সময়ে যৌক্তিক কারণে অনুচ্ছেদ দীর্ঘতর হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভাব বা বিষয়ের সূক্ষ্মতর বিভাজন বিবেচনায় নিয়ে একটি অনুচ্ছেদকে একাধিক অনুচ্ছেদে বিভক্ত করা যায়।
ঙ. অনুচ্ছেদের প্রথম বাক্যে মূল ভাব বা বিষয়ের উল্লেখ করা হয়।
চ. অনুচ্ছেদের পরের বাক্যগুলোতে প্রথম বাক্যে উল্লিখিত ভাব বা বিষয়ের বিস্তার ঘটানো হয়ে থাকে।
ছ. অনুচ্ছেদের শেষ বাক্যে থাকে ভাব বা বিষয়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত।
Related Question
View All"পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার"
বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে পরিবেশ দূষণ একটি ব্যাপক আলোচিত ঘটনা যা আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। গত কয়েক দশক ধরে প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা মানব জাতিকে সতর্ক ও সচেতন হতে নির্দেশ দিয়ে আসছেন। পরিবেশ দূষণ মানব সমাজে নিদারুন সংকটের সৃষ্টি করেছে এবং মানব জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কিন্তু এই পরিবেশ দূষণের ফলে শুধু মানব গোষ্ঠীই নয়, বরং সমস্থ জীবকূলের অস্তিত্ব এই পৃথিবী থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দূষণ পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর স্বকীয়তা নষ্ট করে দেয়। পরিবেশে বিভিন্ন উপাদানে ক্ষতিকারক বস্তুর অনুপ্রবেশ ঘটে। বিশিষ্ট বস্তুবিজ্ঞানী ওডামের মতে, “বায়ু, পানি, মাটি” ইত্যাদি ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক বৈশিষ্ট্যের যে পরিবর্তন মানব সভ্যতাকে অথবা কোন প্রজাতির জীবনকে সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক সম্পর্কে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বা করতে পারে, তাকেই দূষণ বলে। পরিবেশ দূষণের প্রকারভেদগুলো হলোঃ পানি দূষণ, মাটি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ ।
পানি দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. পানিতে আবর্জনা, সার বা বিষাক্ত দ্রব্য না ফেলা।
২. উপযুক্ত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
৩. ভূগর্ভস্থ পানির পরিমিত ব্যবহার।
৪. জমিতে সার বা কীটনাশক ব্যবহারে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
বায়ু দূষণমুক্ত রাখতে করণীয়:
১. ধুমপানের ধোঁয়া, যানবাহন ও কলকারখানার ধোঁয়া ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে রাখা।
২. ওজোন স্তরে ছিদ্র হয়ে যে সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে তা প্রতিরোধ করা।
৩. গ্রীণ হাউজ গ্যাসের কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধ করা।
৪. আবর্জনাকে ধরণ অনুযায়ী পৃথক করে জমা ও অপসারণ করা। ৫. জনগণকে বৃক্ষ রোপনে উৎসাহী করা।
শব্দ দূষণ রোধে করণীয় :
১. উচ্চস্বরে কথা/চিৎকার করা যাবে না।
২. জোরে গান বাজানো যাবে না।
৩. হাইড্রোলিক হর্ণ/ বোমাবাজি/ বিকট আওয়াজে স্লোগান ইত্যাদি করা
মাটি দূষণ মুক্ত রাখতে করণীয়:
১. প্লাস্টিকের ব্যাগ, পলিথিন পরিহার করতে হবে।
২. বৃক্ষরোপন, পাহাড় ও উচ্চভূমি রক্ষা করতে হবে।
৩. কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৪. ইটের বিকল্পে ব্লক ইট ব্যবহার।
৫. পরিকল্পিত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
কারাগারের রোজনামচা
কারাগারের রোজনামচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রচিত একটি গ্রন্থ সংকলন। গ্রন্থটির নামকরণ করেন বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্ম বার্ষিকীতে ২০১৭ সালে গ্রন্থটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা দেবার পর বাঙালি জাতির মহানায়ক গ্রেফতার হন। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু কারান্তরীণ থাকেন। সেই সময়ে কারাগারে প্রতিদিন তিনি ডায়েরী লেখা শুরু করেন। ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ঘটনাবহুল জেল- জীবনচিত্র এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর জেল-জীবন, জেল-যন্ত্রণা, কয়েদীদের অজানা কথা, অপরাধীদের কথা, কেন তারা এই অপরাধ জগতে পা দিয়েছিলো সেসব বিষয় যেমন সন্নিবেশিত হয়েছে; ঠিক তেমনি তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দুঃখ-দুর্দশা, গণমাধ্যমের অবস্থা, শাসক গোষ্ঠীর নির্মম নির্যাতন, ৬ দফার আবেগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা, ষড়যন্ত্র, বিশ্বাস ঘাতকতা, প্রকৃতি প্রেম, পিতৃ-মাতৃ ভক্তি, কারাগারে পাগলদের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সংবেদনশীলতার সাথে তুলে ধরেছেন।
রাতারগুল জলাবন
রাতারগুল জলাবন বা রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট (Ratargul Swamp Forest) বাংলাদেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন বা সোয়াম্প ফরেস্ট এবং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, যা সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর মাত্র কয়েকটি জলাবনের মধ্যে অন্যতম একটি। রাতারগুল যা বাংলার অ্যামাজন নামেও পরিচিত চিরসবুজ এই বন গুয়াইন নদীর তীরে অবস্থিত এবং চেঙ্গির খালের সাথে একে সংযুক্ত করেছে। বর্ষাকালে এই বন ২০ থেকে ৩০ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। বাকি সারা বছর, পানির উচ্চতা ১০ ফুটের মতো থাকে। বর্ষাকালে এই বনে অথৈ জল থাকে চার মাস। এখানে গাছের ডালে ডালে ঘুরে বেড়ায় নানান বন্য প্রাণী আর পাখি। শীতে জল শুকিয়ে যায় বলে বর্ষা এবং বর্ষা পরবর্তী সময় (জুলাই থেকে অক্টোবর) রাতারগুল ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। সিলেট শহর থেকে রাতারগুলের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় এ বনের অবস্থান। সিলেট বন বিভাগের উত্তর সিলেট রেঞ্জে-২ এর অধীন প্রায় ৩০ হাজার ৩শ' ২৫ একর জায়গা জুড়ে এ জলাভূমি। এর মধ্যে ৫শ' ৪ একর জায়গার মধ্যে বন, বাকি জায়গা জলাশয় আর সামান্য কিছু উঁচু জায়গা। তবে বর্ষাকালে পুরো এলাকাটিই পানিতে ডুবে থাকে। শীতে প্রায় শুকিয়ে যায় রাতারগুল। তখন বনের ভেতরে খনন করা বড় জলাশয়গুলোতে শুধু পানি থাকে। পুরাতন দুটি বড় জলাশয় ছাড়াও ২০১০-১১ সালে রাতারগুল বনের ভেতরে পাখির আবাসস্থল হিসেবে ৩.৬ বর্গ কিলোমিটারের একটি বড় লেক খনন করা হয়। শীতে এ জলাশয়ে বসে নানান পাখির মিলন মেলা। রাতারগুল একটি প্রাকৃতিক বন। এরপরেও বন বিভাগ হিজল, বরুণ, করচ আর মুতা-সহ কিছু জলবান্ধব জাতের গাছ লাগিয়ে দেয় এ বনে। এছাড়াও রাতারগুলের গাছপালার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ কদম, জালিবেত, অর্জনসহ জল সহিষ্ণু প্রায় ২৫ প্রজাতির গাছপালা। সিলেটের শীতলপাটি তৈরির মূল উপাদান মুতার বড় অংশ এই বন থেকেই আসে। বাংলাদেশ বন বিভাগ ১৯৭৩ সালে এ বনের ৫শ' ৪ একর এলাকাকে বন্যপ্রাণীর জন্য অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!