উত্তরঃ
যুক্তিবিদ্যায় কোনো পদের নির্ভুল অর্থ ও সুস্পষ্ট ধারণা প্রদানের জন্য সংজ্ঞা অপরিহার্য। একটি সঠিক সংজ্ঞার কিছু নিয়মকানুন রয়েছে এবং এই নিয়মগুলো ভঙ্গের ফলে সংজ্ঞায় বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি বা দোষ দেখা দেয়, যা সংজ্ঞা দোষ নামে পরিচিত। উদ্দীপকের তথ্য-২ এবং তথ্য-৩ এ দুটি ভিন্ন সংজ্ঞা দোষ বিদ্যমান, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
উদ্দীপকের তথ্য-২ এ বলা হয়েছে, "যৌক্তিক সংজ্ঞা হলো পদের জাত্যর্থের বিশ্লেষণ।" এখানে যৌক্তিক সংজ্ঞাকে 'পদের জাত্যর্থের বিশ্লেষণ' বলা হয়েছে। যদিও জাত্যর্থ (Genus + Differentia) বিশ্লেষণই যৌক্তিক সংজ্ঞার মূল ভিত্তি, তবে একটি পূর্ণাঙ্গ যৌক্তিক সংজ্ঞা প্রদানের জন্য নিকটতম জাতি (Proximate Genus) ও বিশেষ পার্থক্য (Specific Difference) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। কেবলমাত্র 'জাত্যর্থের বিশ্লেষণ' বলাটা সংজ্ঞার পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিকে বা কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করে না। এই কারণে এই সংজ্ঞাটি 'অব্যাপক সংজ্ঞা দোষে' দুষ্ট হয়েছে। এটি যৌক্তিক সংজ্ঞার সম্পূর্ণ ব্যাপ্তি বা গঠনগত বৈশিষ্ট্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্যদিকে, তথ্য-৩ এ বলা হয়েছে, "টাকা হলো সুসজ্জিত মুদ্রিত বিনিয়োগের মাধ্যম।" এই সংজ্ঞাটিতে দুটি প্রধান দোষ বিদ্যমান। প্রথমত, 'টাকা' কেবল 'বিনিয়োগের মাধ্যম' নয়, এটি বিনিময়ের মাধ্যম, মূল্যের পরিমাপক, সঞ্চয়ের আধার ইত্যাদি বহুবিধ কাজ করে থাকে। সংজ্ঞায় শুধুমাত্র একটি দিক তুলে ধরায় এটি 'অব্যাপক সংজ্ঞা দোষে' দুষ্ট হয়েছে। দ্বিতীয়ত, 'সুসজ্জিত' শব্দটি 'টাকা'র মৌলিক বা অপরিহার্য গুণকে বোঝায় না। এটি একটি আবেগপ্রবণ, ব্যক্তিগত পছন্দ বা মূল্যবোধ সম্পর্কিত শব্দ, যা সংজ্ঞাকে ব্যক্তিভিত্তিক করে তোলে। তাই এটি 'আবেগপ্রবণ সংজ্ঞা দোষে' দুষ্ট।
তথ্য-২ এবং তথ্য-৩ উভয়টিতেই সংজ্ঞা দোষ থাকলেও, তারা 'আবেগপ্রবণ সংজ্ঞা দোষ'-এর কারণে পৃথক। তথ্য-২ এ সংজ্ঞাটি মূলত যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি আংশিক বা অসম্পূর্ণ বিবরণ হওয়ায় 'অব্যাপক' হয়েছে। কিন্তু তথ্য-৩ এ 'টাকা'র সংজ্ঞায় 'সুসজ্জিত' শব্দটি ব্যবহার করায় বস্তুনিষ্ঠতার অভাব দেখা দিয়েছে এবং এটি সংজ্ঞায় আবেগ বা ব্যক্তিবিশেষের অনুভূতিকে যুক্ত করেছে। সংজ্ঞায় যখন আবেগ, অনুভূতি, পক্ষপাতিত্বমূলক বা মূল্যবোধসম্পন্ন শব্দ ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে আবেগপ্রবণ সংজ্ঞা দোষ বলে। একটি যৌক্তিক সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো পদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ অর্থ প্রকাশ করা, আবেগ প্রকাশ করা নয়। 'সুসজ্জিত' শব্দটি টাকার কার্যকারিতা বা মৌলিক প্রকৃতিকে বোঝায় না, বরং এর বাহ্যিক বা ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়ন প্রকাশ করে, যা সংজ্ঞার উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। এই আবেগপ্রবণতা তথ্য-৩ কে তথ্য-২ থেকে স্বতন্ত্র করেছে, কারণ তথ্য-২ এর সংজ্ঞায় কোনো আবেগপ্রবণ শব্দ ব্যবহৃত হয়নি।