সুশাসন শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ হচ্ছে Good Governance
শাসন শব্দটির সাথে সু প্রত্যয় যোগ করে সুশাসন শব্দটির উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। এটি বিশ্বব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা। সুশাসন অর্থ হচ্ছে নির্ভুল, দক্ষ ও কার্যকরী শাসন। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল। যথা- ১. দায়িত্বশীলতা, ২. স্বচ্ছতা, ৩. আইনি কাঠামো ও ৪. অংশগ্রহণ। ম্যাককরনী (Mac Corney) সুশাসনের সংজ্ঞায় বলেন, "সুশাসন হচ্ছে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের ও শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ক।”
কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ফলমূল, সবজি ও মাছ সতেজ ও টাটকা রাখার জন্য ফরমালিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মেশান। এ ফরমালিন বা রাসায়নিক পদার্থসমূহ মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এজন্য ফলমূল, সবজি ও মাছে ফরমালিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মেশানো প্রতিরোধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ফল বিক্রেতা, সবজি বা কাঁচামাল ব্যবসায়ী এবং মাছ ব্যবসায়ীদের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবসায়িক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এ খুদে ব্যবসায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য নিয়মিত তাদের দোকান বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে 'তদারক করতে হবে। তাদের ব্যবসায়িক পণ্যে ফরমালিনসহ অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থ মেশানো এবং অন্যান্য অস্বচ্ছতা প্রমাণিত হওয়ার সাথে সাথে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। তাছাড়া ফরমালিন বা অন্যান্য পদার্থের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয় মহলকে সচেতন করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
সুশাসনের ধারণাটি একটি বহুমাত্রিক ধারণা। এজন্য সুশার্সনের কার্যকর বা সুনির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই। বিভিন্ন তাত্ত্বিক, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতা সংস্থা এ প্রত্যয়টিকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। সুশাসন প্রত্যয়টি উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক উদ্ভাবিত একটি ধারণা। ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষায় সুশাসন শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয়। এটি দ্বারা উন্নয়নশীল দেশের অনুন্নয়নের কারণগুলোকে চিহ্নিত করা। বিশ্বব্যাংকের মতে, সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
যথা- ১. দায়িত্বশীলতা, ২. স্বচ্ছতা, ৩. আইনি কাঠামো ও ৪. অংশগ্রহণ। মারটিন মিনোগ সুশাসনকে একটু ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, বৃহৎ অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতিপয় উদ্যোগের সমাহার ও একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে আরও বেশি গণতান্ত্রিক, মুক্তমনা, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে তোলে। Social Encylclopaedia-তে সুশাসন সম্পর্কে বলা হয়েছে, "এটি সরকার পরিচালনা অপেক্ষা একটি বিস্তৃত ধারণা যা একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে সামাজিক নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহারের প্রশ্নে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকার সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত।" ম্যাককরনী রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে সুশাসন বলে অভিহিত করেছেন। সুতরাং সুশাসন শব্দটির। একক কোনো সংজ্ঞা নেই। বিভিন্ন ব্যক্তি বা সংস্থা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সুশাসনের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। সুতরাং সুশাসনের ধারণাটি বহুমাত্রিক।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!