সংবিধান হলো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মৌলিক আইন। এটি এমন একটি দলিল যা একটি রাষ্ট্রের স্বরূপ, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতা ও কার্যাবলি এবং জনগণের অধিকার ও কর্তব্যের রূপরেখা নির্ধারণ করে। বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অ্যারিস্টটলের মতে, “সংবিধান হলো রাষ্ট্রের এমন এক জীবন পদ্ধতি যা রাষ্ট্র নিজেই নিজের জন্য বেছে নিয়েছে।”
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ: বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টররে প্রথম কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল জুন)। পরবর্তীতে তিনি 'জেড ফোর্স' গঠন করলে মেজর রফিকুল ইসলাম (জুন ডিসেম্বর) সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমানের অবদান:
১ নং সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমান উল্লেখযোগ্য অবদানসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
বিদ্রোহ ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম সেনানিবাসে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক থাকাবস্থায় তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
স্বাধীনতার ঘোষণা: ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ রাতে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন যা সারা দেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে দিতে এবং বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করতে অপরিসীম ভূমিকা রেখেছিল।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রতিরোধ: যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট এবং পাহাড়তলী এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
জেড-ফোর্স (Z-Force) গঠন: জুন ১৯৭১-এ নিয়মিত সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে তিনি 'জেড-ফোর্স' নামে প্রথম ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড গঠন করেন এবং এর নেতৃত্ব দেন। তিনি এর অধিনায়ক হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেন
সেক্টর গঠন ও পরিচালনা: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন তিনি ১ নম্বর সেক্টরের (চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা) প্রথম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সম্মুখ যুদ্ধে সাহসিকতার পরিচয় দেন।
যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্ব: কামালপুর, নকশি, এবং রৌমারীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সম্মুখ যুদ্ধে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দেন।
সংক্ষেপে, মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমান শুধু ১ নং সেক্টর কমান্ডারই ছিলেন না, বরং যুদ্ধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি অন্যতম প্রধান সামরিক নেতা হিসেবে অবদান রাখেন।