বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান।
নাগরিকগণ তাদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নিবার্চন করে আইন প্রণয়ন এবং সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে থাকে। আর প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণ তথা নাগরিকদের পক্ষেই শাসন পরিচালনা করে থাকে। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সফলতার পূর্বশর্তই হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন। এজন্যই বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচনে নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
উদ্দীপকের আনোয়ারুল হকের ভূমিকার সাথে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের ভূমিকার সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের পূর্বে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে এবং তৎকালীন এরশাদ সরকারকে স্বৈরাচারী হিসেবে আখ্যায়িত করে। দুই দলের আন্দোলনের একপর্যায়ে এরশাদ সরকার পদত্যাগ করে এবং নির্দলীয় ব্যক্তি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে। উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করেন এবং এ কমিশনের অধীনে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, বিদ্যালয়ের আসন্ন শিক্ষক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ দুদলে ভাগ হয়ে একজন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকের দাবি করেন। অবশেষে প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল হক সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস দিলে ক্ষমতাসীনরা পদত্যাগ করেন। আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হলে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ সন্তুষ্ট হন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত নির্বাচন বাংলাদেশের ১৯৯১ সালের ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের শিক্ষকগণের সন্তুষ্টি যেন ১৯৯১ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সন্তুষ্টিরই প্রতিচ্ছবি- কথাটি যথার্থ।
১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদকে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঐদিনই রাষ্ট্রপতি এরশাদ উপ-রাষ্ট্রপতির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে পদত্যাগ করেন। পণ্যম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বাধিক সংখ্যক দল ও প্রার্থী অংশগ্রহণ করে এবং ভোটাররাও বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ছিল। উক্ত নির্বাচনের ফলাফল অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল সন্তুষ্ট চিত্তে গ্রহণ করে।
৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়। দেশে অবাধ তথ্য প্রবাহ সৃষ্টি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, পত্র-পত্রিকার ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হয়। কার্যত এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের সামরিক শাসনের অবসান ঘটে। ফলে গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে যায়। রাজনৈতিক ভাষ্যকার, সাংবাদিক, বিশ্লেষক সকলেই এরূপ অভিমত ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এরূপ অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পূর্বে কখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
উত্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষকগণের সন্তুষ্টি ১৯৯১ সালের ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সন্তুষ্টিরই প্রতিচ্ছবি।
Related Question
View All২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য যারা প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদেরকে নির্বাচকমণ্ডলী বলে।
নির্বাচকমণ্ডলী বা ভোটাররাই হচ্ছে প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য যোগ্য বিচারক। বাংলাদেশে ১৮ বছর বয়স্ক যারা ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদেরকে ভোটার বা নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এদেশের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার বেশকিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
বাংলাদেশে সর্বজনীন প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম থাকা আবশ্যক। এদেশে সকল নাগরিকের জন্য 'এক ব্যক্তি এক ভোট' নীতি প্রচলিত। প্রত্যেক নির্বাচনি এলাকার জন্য একটিমাত্র ভোটার তালিকা থাকে। বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসমূহ এবং জাতীয় সংসদের ৩৫০ আসনের মধ্যে ৩০০টি সাধারণ আসনের সদস্যগণ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। আর বাকি ৫০ টি সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্যগণ পরোক্ষভাবে ৩০০ জন সংসদ সদস্য কর্তৃক নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত সকল নির্বাচন গোপন ভোটদান পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এ পদ্ধতিতে ভোটারগণ প্রার্থীর নাম ও প্রতীকের পাশে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সরবরাহকৃত নির্ধারিত সীলমোহর ব্যবহার করেন। এতে ভোট গণনার কাজে সুবিধা হয়। এদেশের নির্বাচনে সমগ্রদেশকে জনসংখ্যার সমতার ভিত্তিতে ৩০০টি একক প্রতিনিধি নির্বাচনি এলাকায় বিভক্ত করা হয়। এছাড়া সকল জন প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় একক নির্বাচনি এলাকা থেকে একজন করে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন রয়েছে। এই কমিশনই নির্বাচনি সকল কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এদেশের সংবিধানে নিয়মিতভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় EVM ব্যবহার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর সাহায্যে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ ও গণনার কাজ করা হয়।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় নাগরিকদের ভূমিকা অপরিসীম।
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে সরকার নয়, জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। এ দেশের জনগণ নির্বাচনে সঠিক মাত্রায় অংশগ্রহণ করে বলেই রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে তাদের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত আছে। জনগণের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখছে।বাংলাদেশের নাগরিকগণ জেনে, বুঝে সকল প্রভাবমুক্ত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। আর এভাবে ভোট প্রয়োগের ফলে সৎ যোগ্য ও দক্ষ প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া সম্ভব। আর এমন জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করতে পারলে দেশে আইনের শাসন কায়েম হবে, দুর্নীতি দূর হবে। কেবল নিজের ভোটদানের মাধ্যমেই একজন নাগরিকের দায়িত্ব শেষ হয় না। অন্যকে ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে ভোটদানে উৎসাহিত করাও নাগরিকের কর্তব্য। নির্বাচনি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা কেবল সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সকল প্রকার সন্ত্রাসী অপতৎপরতা বন্ধে নাগরিক সচেতনতা একান্ত প্রয়োজন। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা। এক্ষেত্রে নাগরিকগণ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করে থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশে সরকারি সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে সকল পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তা সত্ত্বেও নির্বাচনকে অর্থবহ, ফলপ্রসূ ও প্রাণবন্ত করার ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, গ্রাম-শহর, পেশা নির্বিশেষে প্রাপ্ত বয়স্ক সকল নাগরিকের ভোটাধিকার প্রাপ্তিকেই সর্বজনীন ভোটাধিকার বলে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন পরিচালিত। নাগরিকগণ তাদের ভোট প্রদানের মাধ্যমে প্রতিনিধি নিবার্চন করে আইন প্রণয়ন এবং সরকার পরিচালনায় অংশ্রহণ করে থাকে। আর প্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জনগণ তথা নাগরিকদের পক্ষেই শাসন পরিচালনা করে থাকে। আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সফলতার পূর্বশর্তই হচ্ছে নির্বাচন। এজন্যই বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনে নাগরিকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!