'আদুভাই' গল্পে লেখকের সাথে আদুভাইয়ের দীর্ঘদিন যোগাযোগ না হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।
লেখক ও আদুভাই একই স্কুলে পড়তেন। তিনি ক্লাস সেভেনে আদুভাইয়ের সহপাঠী ছিলেন। লেখক স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে কলেজে উন্নীত হলেও আদুভাই ক্লাস সেভেনেই পড়ে থাকেন। ফলে আদুভাইয়ের সাথে লেখকের যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জীবনের প্রয়োজনে অবিরাম ছুটে চলতে গিয়ে উভয়ের পক্ষে আর সেভাবে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয় না।
মূলত, আদুভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি বোঝানোর জন্যই লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।
Related Question
View Allআবুল মনসুর আহমদ রচিত 'আদুভাই' গল্পে আদু মিয়া ওরফে আদুভাই একইসাথে সহজসরল, সৎ, নিয়মনিষ্ঠ ও দুর্ভাগা একটি চরিত্র। তিনি প্রতিদিন স্কুলে যান, ক্লাসে মনোযোগ দিয়ে শিক্ষকের কথা শোনেন, সকলের সাথে সৌহার্দপূর্ণ আচরণ করেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করেন না কিন্তু ভাগ্যের ফোরে কখনো ক্লাস সেভেন পাশ করতে পারেন না।
'আদুভাই' গল্পে আদুভাইকে অত্যন্ত নিরীহ একটি চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি প্রমোশন না পেলেও কখনো অন্যকে হিংসা করেন না। নিজের ব্যর্থতা নিয়ে তার মধ্যে কোনো হতাশা বা বিষণ্ণতাও পরিলক্ষিত হয় না। তিনি কখনো নকল করে পাশ করার চেষ্টা করেননি। এমনকি নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি কখনো কোনো শিক্ষককে অনুরোধ করেননি। তিনি সবসময় নিজের যোগ্যতায় ক্লাস এইটে উন্নীত হতে চেয়েছেন।
আদুভাই তার প্রমোশন পাওয়ার ব্যাপারে নিঃসন্দেহ ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন সব সাবজেক্টে পাকা হয়ে উঠলে তার প্রমোশন কেউ আটকে রাখতে পারবে না। পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনকে তিনি ঘৃণা করতেন। তবে তিনি তাকে নিয়ে অন্যদের তামাশা ঠিকমতো বুঝতে পারতেন না। কারণ তার মনে কোনো জটিলতা ছিল না।
আদুভাইয়ের মনে তার স্কুলের শিক্ষকদের প্রতি চাপা ক্ষোভ ছিল। কারণ, শিক্ষকেরা চাইলেই তাকে প্রমোশন দিতে পারতেন। কিন্তু তারা তা করেননি। অবশেষে আদুভাই প্রবীণ বয়সে কঠোর পরিশ্রম করে ক্লাস সেভেন পাশ করেন।
উপরের আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, আদু মিয়া ওরফে আদুভাই ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিরীহ, পরিশ্রমী, বিনয়ী, দুঃখী ও দুর্ভাগা একটি চরিত্র।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!