Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View All'Authority' শব্দের অর্থ কর্তৃত্ব।
সমাজস্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্যের অভাবই সামাজিক অসমতা।
অসমতা বলতে মূলত সমতার অভাবকে বোঝায়। মানুষের পদমর্যাদা, ক্ষমতা, সম্পদ, সুযোগ প্রভৃতির ভিত্তিতে সামাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট অসম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পার্থক্যই হলো সামাজিক অসমতা। মানবসমাজ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত। মানবসমাজের এ বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভাজন সমাজজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মানবসমাজে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Religion' যার অর্থ বন্ধন বা সংহতি। ধর্মের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ধর্ম হলো এমন একটি ধারণা যা কোনো একটি বিশেষ শক্তিধর সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে অভিন্ন ধারণা পোষণকারীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে রাখে। নৃবিজ্ঞানী জেমস ফ্রেজার বলেন, "ধর্ম হচ্ছে অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস। আর এ শক্তি মানবজীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।" সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, "ধর্ম কেবল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে তা নয়, ধর্ম মানুষ ও অন্য কোনো উর্ধ্ব শক্তির মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি করে।" মানব সমাজের বিভিন্ন পাঠে বিভিন্ন স্থানে ধর্মের বিচিত্র রূপ লক্ষ করা যায়। প্রাচীনকাল হতেই মানুষ কোনো শক্তির ওপর ভয় ও বিশ্বাস স্থাপন করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। বিপদ আপদ হতে মুক্তি পাবার আশায় মানুষ প্রার্থনা করছে। আর এ প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ইহজাগতিক মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত সংস্কৃতি থেকেই ধর্মের উৎপত্তি।
উপরের আলোচনা ও ধর্মের সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই উক্ত প্রতিষ্ঠান তথা ধর্ম; সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে- আমি এ উক্তির সাথে একমত।
ধর্মের একটি সামাজিক দিক রয়েছে। সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে ধর্ম তার সামাজিক ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যক্তি মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজজীবনের ধারা ধর্মীয় অনুশাসনের দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সামাজিক ব্যক্তিবর্গের পারিবারিক ও গোষ্ঠীজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারার ওপর ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব অপরিসীম। ধর্ম মানুষকে নীতিবান করে তুলে এবং সামাজিক বিধি-নিষেধ মেনে চলতে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে। ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষের আচার-ব্যবহার স্বভাবতই সংযত হয়ে পড়ে। ধর্ম বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে উদয় হয় ভয় মিশ্রিত এক শ্রদ্ধা-ভক্তির মনোভাব। এই মনোভাবের ভিত্তিতে ব্যক্তি মানুষ তার বাহ্যিক আচার-আচরণকে সংযত ও নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়। সমগ্র সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ধর্মের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সমাজজীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আর এ কারণেই আমি প্রশ্নোল্লিখিত উক্তির সাথে সহমত পোষণ করি।
সামাজিক পরিবর্তনশীলতা বলতে সমাজ কাঠামোর পরিবর্তনকে বোঝায়।
আমরা জানি, সমাজ সবসময় পরিবর্তনশীল। এ কারণে আদিম সমাজের সাথে বর্তমান সমাজের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। সামাজিক পরিবর্তনশীলতার ক্ষেত্রে সামাজিক সম্পর্ক প্রধান ভূমিকা পালন করে।
সার্বভৌমত্ব নামক উপাদান থাকার কারণে চেঙ্গিস খান মোঙ্গল সাম্রাজ্য গঠন করতে পেরেছিলেন।
সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, চূড়ান্ত ও অসীম ক্ষমতা। এ ক্ষমতাবলে রাষ্ট্র তার অভ্যন্তরে সব ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর কর্তৃত্ব করে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র সবাইকে তার প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে বাধ্য করতে পারে। এটি এমন এক উপাদান যা রাষ্ট্রকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বা সংঘ থেকে আলাদা করে। এটি রাষ্ট্রের প্রাণস্বরূপ। সার্বভৌমত্বের দুটি দিক রয়েছে; অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দিক। অভ্যন্তরীণ ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার নিয়ন্ত্রণাধীন এবং বাহ্যিক ক্ষমতাবলে সার্বভৌমত্ব দেশকে বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
উদ্দীপকে দেখতে পাই, ১২০৬ খ্রিষ্টাব্দে চেঙ্গিস খান মোঙ্গলদের একত্রিত করে স্বাধীন মোঙ্গল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালীন অন্যান্য রাজ্য ও নতুন এ সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিয়েছিল। কারণ মোঙ্গল রাজ্য ছিল সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এ ক্ষমতার কারণেই তারা রাজ্যের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে একে রক্ষা করতে পেরেছিল। তাই বলা যায়, সার্বভৌমত্ব উপাদান থাকার কারণেই চেঙ্গিস খান মোঙ্গল সাম্রাজ্য গঠন করতে পেরেছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!