আইন বিভাগের মূল কাজ হলো আইন প্রণয়ন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে আইনের ব্যাখ্যা ও বিচারকার্য পরিচালনার সময় বিচারকদের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মতামত প্রকাশের ক্ষমতাকে বোঝায়। স্বাধীন বিচার বিভাগ বলতে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত বিচার বিভাগকে বোঝায়। গণতন্ত্রকে সুরক্ষা এবং গণতন্ত্রের মহান আদর্শ সমুন্নত রাখতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ খুব প্রয়োজন।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিভাগটি হলো বিচার বিভাগ। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সকল দেশেই সরকারের এমন একটি বিভাগ রয়েছে যা বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে, অপরাধীর দণ্ড বিধান করে। কিন্তু সুজনের দেশে বিভাগটি স্বাধীন নয়। 'পৌরনীতি ও সুশাসন' পাঠে জেনেছি যে, সরকারের বিচার বিভাগ আইনসভার আইন বা বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে এবং অপরাধীর দণ্ড বিধান করে। তাই উদ্দীপক পাঠে বোঝা যায় যে, বর্ণিত বিভাগটি বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগের বহুবিধ কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে। নিচে সেগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
১. বিচার বিভাগের প্রথম কাজ হলো আইন অনুযায়ী বিচার করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়া বিচার বিভাগ আইনের ব্যাখ্যা প্রদান করে।
২. নতুন কোনো বিষয়ে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে যদি বিচারকগণ দেখেন যে প্রচলিত আইনে এর বিচার সম্ভব নয়, তবে নিজেদের সুবিবেচনা ও ন্যায়বোধ থেকে বিচারকার্য সম্পন্ন করেন। এভাবে বিচারকগণ নতুন আইন প্রণয়ন করেন অনেকক্ষেত্রে।
৩. সংবিধানের অস্পষ্ট ও পরস্পরবিরোধী কোনো ধারার ব্যাখ্যা দিতে পারে উচ্চ আদালত এবং প্রয়োজনে বিভিন্ন ধারা রায়ের মাধ্যমে বাতিল করতে পারে। সংবিধানের অভিভাবক ও ব্যাখ্যাকারক হলো বিচার বিভাগ। তাই আইন বা শাসন বিভাগের প্রণীত কোনো আইন যদি সংবিধানবিরোধী হয় তবে সেই আইন বাতিল করে বিচার বিভাগ।
৪. ব্যক্তিস্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার তথা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ বিচার বিভাগের গুরুদায়িত্ব বা কাজ। সরকার নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করলে বিচার বিভাগ তা প্রতিহত করে।
৫. বিচার বিভাগ শাসনসংক্রান্ত কিছু কাজও করে। যেমন-নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ, আইন ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স প্রদান, আদালতের অধস্তন কর্মচারী নিয়োগ, বিদেশি নাগরিকদের নাগরিকত্ব দাঁন প্রভৃতি।
৬. গুরুতর অন্যায় ও দুর্ঘটনা কিংবা নাশকতার তদন্তের ভার বিচার বিভাগের ওপর দেওয়া হয়। এরূপ তদন্তকমিটি বিচারকদের নিয়ে গঠিত হয় এবং বিস্তারিত অনুসন্ধান করে নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দেওয়া বিচার বিভাগের কাজ। এসব ছাড়াও বিচার বিভাগ আরও বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে এবং এসব কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে বিচার বিভাগ সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশে সরকারের বিভাগসমূহ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে অর্থাৎ পরাধীনভাবে কাজ করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সকল দেশেই সরকারের এমন একটি বিভাগ রয়েছে যা বিদ্যমান আইনসমূহ প্রয়োগ করে, অপরাধীর দণ্ডবিধান করে। কিন্তু সুজনের দেশে এ বিভাগটি স্বাধীন নয়। এখানে সুজনের দেশের বিচার বিভাগের কথা বলা হয়েছে। সুজনের দেশের বিচার বিভাগটি স্বাধীন নয়।
পৌরনীতি ও সুশাসন' পাঠে আমরা জেনেছি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। গণতান্ত্রিক শাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের কোনো বিকন্তু নেই। স্বাধীন রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থার উৎকর্ষের জন্য স্বাধীন বিচারব্যবস্থা অপরিহার্য। স্বাধীন বিচার বিভাগ নাগরিক অধিকার, স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক নীতিকে রক্ষা করে। স্বাধীন বিচার বিভাগm আইনের ব্যাখ্যা, ন্যায়বিচার ও কর্তব্য পালনে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ মুক্তmহয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে। কিন্তু উদ্দীপকে উল্লিখিত সুজনের দেশের বিচার বিভাগটি স্বাধীন নয়। তাই এটি অবশ্যই শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে অধ্যাপক গার্নার বলেন, "যদি বিচারকগণ জ্ঞান, ন্যায়পরায়ণতা ও স্বাতন্ত্র্যবোধের অভাবে রায় দিতে অসমর্থ হন, তবে নিশ্চিতরূপে বলা যায়, বিচার বিভাগ সঠিক লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে না। উদ্দীপকের সুজনের দেশের বিচার বিভাগটিও স্বাধীন নয় বিধায় সেও সঠিক লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে না। সুজনের দেশের সরকারব্যবস্থায় বিভাগসমূহ রাষ্ট্রপ্রধানের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সরকারের বিভাগসমূহপরাধীন। তাই বিভাগ তিনটি নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না। সুজনের দেশে আইন বিভাগের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা থাকে না; বরং সরকারের কাছেই বিভাগসমূহ জবাবদিহি করে। আবার শাসন বিভাগই এখানে সর্বেসর্বা। সুজনের দেশের শাসন বিভাগই মূলত আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই তার দেশের আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে অপারগ হয়।
Related Question
View Allগণচীনে সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত।
বিচার বিভাগ জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে। কিন্তু যদি এটি স্বাধীনভাবে কাজ করতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই নিরপেক্ষভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। বিচার বিভাগকে অনেক সময় সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিতে হয়। সরকারের অন্য কোনো বিভাগের অধীনে থেকে কাজ করলে সব সময় সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়া সম্ভব হয় না। এজন্য ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে হয়।
A চিহ্নিত সংস্থাটি আইন প্রণয়নকারী সংস্থা বা আইনসভা।
রাষ্ট্রের তিনটি মৌলিক অঙ্গের মধ্যে আইনসভা বা আইন বিভাগ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থাতে আইনবিভাগের গুরুত্ব ও ভূমিকা অনেক বেশি। আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো আইন প্রণয়ন করা। সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় আইনসভা শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকে। আইনসভা এখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল অংশের কাজ করে। জনপ্রতিনিধিরা আইনসভায় জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন। আইন প্রণয়ন ছাড়াও সংবিধান প্রণয়ন, সংশোধন, আলোচনা, বিতর্ক, জনমত গঠন, আর্থিক বিবৃতি প্রণয়ন, তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, বিচারসংক্রান্ত কাজ, শাসনসংক্রান্ত কাজ, সমালোচনামূলক কাজ ইত্যাদি করে থাকে। সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় আইনসভা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সরকারের তিনটি মৌলিক বিভাগের মধ্যে কাজ সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা আইন বিভাগের কাজ। আইন অনুসারে দেশ পরিচালনা করা শাসন বিভাগের কাজ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা বিচার বিভাগের কাজ।
উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B-তে যথাক্রমে আইন ও শাসন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। একটি দেশ পরিচালনা তথা নিয়ন্ত্রণের মূল দায়িত্বে থাকে এই দুটি বিভাগ। একটি দেশের শাসন বিভাগ ব্যাপক অর্থে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে গ্রামের চৌকিদার পর্যন্ত বিস্তৃত কর্মী বাহিনী নিয়ে গঠিত। শাসনকার্য পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দেশরক্ষা, দেশের উন্নয়নমূলক কার্যাবলি পরিচালনা সবই শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত। শাসন বিভাগ এসব কার্যাবলি সম্পন্ন করে আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে।
শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইন বিভাগের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকে। শাসন বিভাগের কার্যাবলিকে বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে আইন বিভাগ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য বিচার করে থাকে। কিন্তু বিচার বিভাগের রায়কে বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও থাকে শাসন বিভাগের হাতে। আবার বিচার বিভাগের প্রদত্ত রায় বা শাস্তিকে মওকুফ বা মার্জনার ক্ষমতা শাসন বিভাগের হাতে আছে। এ দিক থেকে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণে আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগ মূল নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকে। শাসন বিভাগের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়লে একটি রাষ্ট্র বিপন্ন হতে বাধ্য। আবার আইন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ না থাকলে শাসন বিভাগ বেপরোয়া হয়ে যেতে পারে।
এদিক থেকে শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগ পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক, নিয়ন্ত্রক এবং সমন্বয় সাধনকারী। রাষ্ট্র পরিচালনায় এই দুটি বিভাগের ভূমিকাও অনেকটা তত্ত্বাবধায়কের ন্যায়। তাই আমি মনে করি, একটি রাষ্ট্র উদ্দীপকে চিহ্নিত A এবং B দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
ব্রিটেনের আইনসভার উচ্চকক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস এবং নিম্নকক্ষের নাম হাউস অব কমন্স।
সরকারের যে বিভাগ আইনসভা প্রণীত আইন অনুসারে রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালনা করে, তাকে শাসন বিভাগ বলে। অর্থাৎ আইন বিভাগ প্রণীত আইন অনুসারে যে বিভাগ দেশ শাসন বা পরিচালনা করে থাকে, তাই শাসন বিভাগ। সংকীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ হলো প্রজাতন্ত্রের নীতি ও কার্যক্রম নির্ধারণের দায়িত্ব প্রাপ্ত অংশ যেমন- প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীবর্গ, আমলারা। আর ব্যাপক অর্থে আইন ও বিচার বিভাগ ব্যতীত প্রজাতন্ত্রের সকল অংশীজন শাসন বিভাগের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!