সকালে কিছুতেই উঠতে চায় না রূপন। ছ'টা বাজীর পরই আম্মা বিছানার ওপর পাশে গিয়ে বসেন। গায়ে হাত দিয়ে আদর করে ডাকেন, ওঠো সোনা, ছ'টা বাজে, স্কুলে যেতে হবে না? এখন না উঠলে দেরি হয়ে যাবে। রূপন চোখ খুলে আবার বন্ধ করে। তার মানে, আর একটু ঘুমুতে চায় সে। আম্মা একটু অপেক্ষা করে আবার ডাকতে থাকেন, ওঠো না, দেরি হয়ে যাবে যে। সাড়ে সাতটায় তোমার স্কুল, তা মনে আছে?

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

গল্পকথক শেষবারের মতো তপুকে হাইকোর্টের মোড়ে দেখেছিলেন।

উত্তরঃ

"আমি হলপ করে বলতে পারি, ওর মা-ও চিনতে পারবে না ওকে।"- কথকের এ কথাটিতে শহিদ তপুর কঙ্কাল দেখে তার মা তাকে চিনতে না পারার দিকটি বোঝানো হয়েছে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে কথকের জবানিতে ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর বীরত্বগাথা ও তাঁর আত্মত্যাগের কাহিনি ফুটে উঠেছে। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে রাজপথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে শহিদ হয় তপু। তার কপালের ঠিক মাঝখানে গুলি লেগে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সে। তার মৃতদেহটাও দুজন মিলিটারি তুলে নিয়ে যায়। চার বছর পর তাঁর বন্ধুরা একটি কঙ্কালের কপালের ক্ষত ও বাঁ পায়ের হাঁড়ের মাপ দেখে বুঝতে পারে যে এটিই তপুর কঙ্কাল। তপুর মা তাঁর ছেলের এ কঙ্কাল দেখে চিনতে পারবেন না- এ কথাটি জোর দিয়ে বোঝাতেই কথক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের তপুর দুই বন্ধুকে ঘুম থেকে জাগানোর দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

কয়েকজন বন্ধু দীর্ঘদিন একসাথে থাকার ফলে সবার মধ্যে একটি আত্মার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যখন কোনো বন্ধু কোনো কারণে জীবন থেকে হারিয়ে যায় তখন তার রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো বন্ধুরা স্মরণ করে।

উদ্দীপকের রূপনকে তার মা ছয়টা বাজার পরই আদর করে গায়ে হাত দিয়ে তাকে ডাকেন, ঘুম থেকে তাকে ওঠানোর চেষ্টা করেন। রূপন ঘুমুতে চাইলেও মা আবার ডাকতে থাকেন, ঘুম থেকে না উঠলে তার স্কুলে যেতে যে দেরি হয়ে যাবে তা মনে করিয়ে দেন। 'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের গল্পকথক তপুর স্মৃতি মনে করতে গিয়ে কাক-ডাকা ভোরে তাদের বিছানা ছেড়ে ওঠার কথা বলে। তখন তপু সবার আগে উঠে কথক ও রাহাতকে জাগাত। ভোর হয়েছে বলে সবাইকে ঘুম থেকে ওঠার তাড়া দিত। গায়ের ওপর থেকে লেপটা টেনে ফেলে দিয়ে জোর করে তাদের ঘুম ভাঙাত তপু। মাথার কাছে জানালাটা খুলে দিয়ে বাইরের মিষ্টি রোদ দেখিয়ে ঘুম থেকে উঠতে বলত। তপুর বন্ধুদের ঘুম থেকে জাগানোর দিকটি উদ্দীপকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরঃ

"সাদৃশ্য থাকলেও 'একুশে গল্প' নামক ছোটগল্পের মূলভাব উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। অনেক মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার। ফলে এ আন্দোলনটি ভবিষ্যতের যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামে বাঙালি জাতিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রেরণা জোগাবে।

উদ্দীপকে রূপন সকালে ঘুম থেকে উঠতে চায় না। ছয়টা বাজার পরই তার আম্মা বিছানার পাশে বসে আদর করে তাকে ঘুম থেকে ওঠানোর চেষ্টা করেন। মায়ের ঘুম থেকে জাগানোর এ দিকটি 'একুশের গল্প' গল্পের তপুর বন্ধুদের খুব সকালে ঘুম থেকে জাগানোর দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ দিকটি গল্পটির মূলভাবকে ধারণ করে না। কেননা আলোচ্য গল্পটিতে ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তপু নামের এক সাহসী যুবকের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘদিন পর তার কঙ্কাল ফিরে পাওয়ার দিকটি বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে প্রাণোচ্ছল ও স্বপ্নবান এক তরুণের আত্মত্যাগ মূল বিষয় হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পটির প্রধান চরিত্র তপু। গল্পকথক, রাহাত ও তপু তিন বন্ধু। মূলত এ তিন বন্ধুর আন্তরিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ভেতর দিয়ে এ গল্পে উঠে এসেছে ভাষা আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহের বাংলাদেশের বাস্তবতা। অথচ উদ্দীপকে কেবল এ গল্পের তপুর মাধ্যমে দুই বন্ধুকে ঘুম থেকে জাগানোর দিকটি ফুটে উঠেছে, যা এ গল্পের একটি খন্ডচিত্র মাত্র। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

60
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
773
উত্তরঃ

তপু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল, কারণ তারা ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর মৃতদেহ দুজন মিলিটারি নিয়ে যাওয়ার পর এই প্রথম তপুর কঙ্কাল দেখছে।

'একুশের গল্প' নামক ছোটগল্পের কথক তপুর বন্ধু। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তপু, রাহাত ও গল্পকথক অংশ নিয়েছিল। তারা চার বছর আগে ভাষার মিছিলে যোগ দিয়ে হাইকোর্টের মোড়ে যাওয়ার পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী মিছিলে গুলি চালায়। লাল কালিতে লেখা 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড-নিয়ে তপু মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুজন মিলিটারি এসে তপুর মৃতদেহ নিয়ে চলে যায়। সেই ঘটনার চার বছর পর হোস্টেলে তপুর সিটে আসা নতুন রুমমেটের কাছে থাকা কঙ্কালটি কাকতালীয়ভাবে ভাষা আন্দোলনে শহিদ তপুর। অন্যরূপে হলেও প্রিয় বন্ধু ফিরে আসায় সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল।

626
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' রচনার তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

বাঙালি হলো বীরের জাতি। তারা অধিকার আদায়ে ছিল তৎপর। তাদের উপর যখনই কোনো অন্যায়-অবিচার হয়েছে তখনই তারা ঝাঁপিয়ে পড়েছে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। আদায় করেছে নিজেদের অধিকার।
উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এক তরুণের আত্মদানের কথা বলা হয়েছে। এই তরুণের নাম মাগফার আহমেদ চৌধুরী আজাদ। তিনি আগস্ট মাসে ধরা পড়ে শত্রুর হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তবুও সহযোদ্ধাদের কোনো তথ্য তিনি শত্রুদের দেননি। তার এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চেতনা 'একুশের গল্প' ছোটগল্পের তপুর সাহসী চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তপু 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' প্ল্যাকার্ড নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়েছে। স্ত্রী রেণুর বাধা, অনুরোধ উপেক্ষা করেছে। এভাবে উদ্দীপকের আজাদের সঙ্গে 'একুশের গল্প' শীর্ষক গল্পটির তপু চরিত্রটি সাদৃশ্যপূর্ণ

323
উত্তরঃ

যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্প কথক- এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায় মানুষের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে।

একজন দেশপ্রেমিক সব সময় দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেন। অধিকার আদায়ের জন্য মানুষকে দিনের পর দিন আন্দোলন করতে হয়। মানুষ ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকে।

'একুশের গল্প' গল্পে গল্পকথক, রাহাত ও তপু- তারা তিন বন্ধু ভাষা আন্দোলনে যোগ দেয় এবং 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' বলে স্লোগান দেয়। মিছিলে শত্রুরা গুলি চালালে তপু পুলিবিদ্ধ হয়ে প্লাকার্ডসহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বাংলা ভাষার জন্য তার এ আত্মদানের সঙ্গে উদ্দীপকের আজাদের মিল রয়েছে। তিনিও প্রিয় মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করতে শত্রুর নির্মমতা সহ্য করেছেন, তবুও সহযোদ্ধাদের বিষয়ে কোনো প্রকার তথ্য দেননি।

'একুশের গল্প' গল্পে তপু ও তার বন্ধুরা অসীম সাহস নিয়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় রাজপথে নেমে পড়ে। তাদের মতো উদ্দীপকের আজাদও দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য একই কাতারে দাঁড়িয়েছে। আসলে তরুণের ধর্মই এই। দেশে যখনই কোনো ক্রান্তিকালে পড়ে তখনই তরুণরা দেশ উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই বলা যায়, দেশমাতৃকার প্রশ্নে যুগে যুগে আজাদ, তপু, রাহাত, গল্পকথক এঁরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়।

244
উত্তরঃ

"তুমিও চলো না আমাদের সাথে।"- কথাটি তপু বলেছে তার স্ত্রী রেণুকে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যেতে।

'একুশের গল্প' শীর্ষক ছোটগল্পে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও জীবনদানের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তপু তার বন্ধু গল্পকথক ও রাহাতকে নিয়ে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেয়। একটু পরে তপুর স্ত্রী রেণু এসে তপুর হাত ধরে, তাকে মিছিলে থেকে সরিয়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চায়। তপু তখন স্ত্রীর হাত ছাড়িয়ে নিয়ে তাকেও মিছিলে যোগ দিতে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।

146
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews