চৌকিদার শব্দের অর্থ প্রহরী।
বিধুর উপস্থিত বুদ্ধি, দূরদর্শিতা ও বিচারক্ষমতা দেখে সকলের ভাবনা ছিল বিধু বড় হলে উকিল হবে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে অন্যতম প্রধান চরিত্র বিধু। সে সমবয়সী বন্ধুদের তুলনায় একটু বেশি পরিপক্ক। তার দূরদৃষ্টি ও বিবেচনাবোধ সবাইকে বিস্মিত করে। মেঘের ক্ষীণ ডাক শুনে সে বলে দেয় কালবৈশাখী ঝড় হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার সত্যতা প্রমাণিত হয়।
এছাড়াও পড়ে পাওয়া বাক্সটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে পেতে কাগজে লিখে তা গাছে সেঁটে দেওয়া বাক্সের মিথ্যা মালিক সেজে লোক এলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া সর্বোপরি প্রকৃত মালিককে বাক্স ফিরিয়ে দেওয়ার সময়ে প্রাপ্তি রসিদ লিখে রাখা ইত্যাদি বিষয় দেখে সবাই বুঝতে পারে সে বড় হলে উকিল হবে।
উদ্দীপকের মংলুর কাজে 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোরদের সততা ও কর্তব্যপরায়ণতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
সততা সবসময় মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত। অন্যদিকে অসৎ মানুষ সবার কাছে নিন্দিত ও ঘৃণিত। একজন সৎ ও কর্তব্যপরায়ণ মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে সহজেই পৌছতে পারে। জীবনকে সুন্দরভাবে সাজাতে পারে।
উদ্দীপকে মংলু নামের এক ঝাড়ুদারের সততার কথা বলা হয়েছে।
রাস্তা ঝাঁট দিতে গিয়ে সে একটি হ্যান্ডব্যাগ কুড়িয়ে পায়। সেখানে সে পাঁচশত টাকার দুটি বান্ডিল দেখতে পেয়ে সেটা আত্মসাৎ না করে থানায় জমা দিয়ে আসে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের লেখক ও তাঁর বন্ধুরা কালবৈশাখী ঝড়ে আম কুড়াতে গিয়ে একটি ডবল টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। তাঁরা সেটাকে না ভেঙে বাক্সের প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাক্সটা তার মালিককে ফিরিয়ে দিতে সমর্থ হয়। গল্পের কিশোরদের এই সততা ও কর্তব্যপরায়ণতার দিকটিই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিকটি ছাড়াও 'পড়ে পাওয়া' গল্পে আরও নানা ঘটনার সমাবেশ ঘটেছে- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষের মহৎ গুণাবলির মধ্যে নৈতিকতা, সততা ও কর্তব্যপরায়ণতা অন্যতম প্রধান গুণ। এসব গুণ একজন মানুষকে উদার করে, মহৎ করে। সে জীবনে সফলতা ও মানসিক শান্তি লাভ করে। সুন্দর ও পরিচ্ছন্নভাবে বাঁচতে পারে।
উদ্দীপকে মংলু নামের একজন ঝাড়ুদারের সততা ও নৈতিকতার কথা আলোচিত হয়েছে। সে রাস্তা ঝাঁট দিতে গিয়ে অনেক টাকা কুড়িয়ে পেয়েও আত্মসাৎ করেনি। চূড়ান্ত নৈতিকতা ও কর্তব্যপরায়ণতার পরিচয় দিয়ে সে টাকাগুলো থানায় জামা দিয়ে আসে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পেও এ বিষয়টি পরিদৃষ্ট হয়। তবে এটি ছাড়াও গল্পে নানা ঘটনার সমাবেশ ঘটেছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পটিতে কিশোরদের সততা ও নৈতিকতা বর্ণনার পাশাপাশি কম বয়সে দায়িত্বশীলতার পরিচয়, দুরন্ত শৈশব, ঐক্যচেতনা, উন্নত মানবিকবোধ, চারিত্রিক দৃঢ়তা ও তীক্ষ্ণ বিবেচনাবোধের পরিচয় পাওয়া যায় যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!