সমাজ সংগঠনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো জ্ঞাতিসম্পর্ক।
পরিবার হচ্ছে আদিম সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্রতম বর্গ বা একক।
সাধারণত বাবা, মা ও তাদের অবিবাহিত সন্তানদের সমন্বয়ে পরিবার গড়ে ওঠে। তবে অনেক পরিবারেই বিবাহিত পুত্র সন্তানদের বাবা-মা, স্ত্রী ও নিজ সন্তানদের সহযোগে পারিবারিক জীবনযাপন করতে দেখা যায়। আবার কিছু পরিবারে বাবা, মা, ভাই বোন, স্ত্রী, সন্তান, চাচা-চাচি তাদের সন্তানদের একত্রে বসবাস করতে দেখা যায়। তবে সন্তান জন্মের আগে কেবল স্বামী-স্ত্রী মিলেও পরিবার গড়ে ওঠে।
পরিবার হচ্ছে আদিম সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্রতম বর্গ বা একক।
সাধারণত বাবা, মা ও তাদের অবিবাহিত সন্তানদের সমন্বয়ে পরিবার গড়ে ওঠে। তবে অনেক পরিবারেই বিবাহিত পুত্র সন্তানদের বাবা-মা, স্ত্রী ও নিজ সন্তানদের সহযোগে পারিবারিক জীবনযাপন করতে দেখা যায়। আবার কিছু পরিবারে বাবা, মা, ভাই বোন, স্ত্রী, সন্তান, চাচা-চাচি তাদের সন্তানদের একত্রে বসবাস করতে দেখা যায়। তবে সন্তান জন্মের আগে কেবল স্বামী-স্ত্রী মিলেও পরিবার গড়ে ওঠে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সজিবের পরিবারটি পিতৃপ্রধান পরিবারের ইঙ্গিত বহন করে।
পিতৃপ্রধান পরিবার বলতে সেই পরিবার ব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে পিতা বা আদি পুরুষের দিক থেকে বংশ পরিচয় গণনা করা হয় এবং বয়োজ্যেষ্ঠ পুরুষের প্রাধান্য স্বীকার করা হয়। পিতৃপ্রধান পরিবারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তথা নেতৃত্ব পিতা, স্বামী, কিংবা বয়স্ক কোনো পুরুষের ওপর ন্যস্ত থাকে।
পিতৃপ্রধান বা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারের অন্যতম শর্ত হলো সম্পত্তির উত্তরাধিকার। এতে সম্পত্তিতে মূলত পুত্র সন্তানের প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয়। কন্যা সন্তান বিবাহের পর শ্বশুরালয়ে অবস্থান করে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সজিবের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির টাকা তার বাবা দেন এবং প্রতিমাসে লেখাপড়ার জন্য টাকা পাঠান। কোনো সমস্যা হলে তার পিতাই সমাধানের চেষ্টা করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকাই মুখ্য। এসব বৈশিষ্ট্য পিতৃপ্রধান পরিবারের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।
সুতরাং উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সজিবের পরিবারটি পিতৃপ্রধান পরিবার।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অম্লানের পরিবারটি সজীবের পরিবারের বিপরীত। অর্থাৎ অম্লানের পরিবারটি মাতৃপ্রধান পরিবার। মাতৃপ্রধান পরিবার মূলত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর নির্ভরশীল- একথা যথার্থ।
মাতৃপ্রধান পরিবারে সাধারণত মাতা সবসময় কর্তার ভূমিকা পালন করেন। এ পরিবারের সন্তানরা সমাজে মায়ের পরিচয়ে পরিচিত হয়। এ পরিবার প্রথায় বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীর পরিবারে অবস্থান করে। এ পরিবার ব্যবস্থায় পিতার সব সম্পত্তি কন্যা পায় এবং মায়ের দিক থেকে উত্তরাধিকার হিসেব করা হয়। এ ধরনের পরিবারে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীরাই প্রধান ভূমিকা পালন করে। এসব পরিবারে পুরুষের তুলনায় নারীর অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় থাকে।
আধুনিককালে শিক্ষার যতই প্রসার ঘটছে এবং মহিলারা যতই পরিবারের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হচ্ছেন ততই পরিবারের মহিলা সদস্যরা মতামত প্রকাশ করতে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছেন। এজন্যেই আধুনিক গণতান্ত্রিক সমাজে শিক্ষিত পরিবারগুলো এমন একটি রূপ পরিগ্রহ করছে যাকে সমাজবিজ্ঞানীরা সমতাভিত্তিক পরিবার (Egalitarion Family) বলে আখ্যায়িত করেছেন। এসব পরিবারে পুরুষ এবং মহিলা পারিবারিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যেখানে কেউ কারও ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে না।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, মাতৃপ্রধান বা মাতৃতান্ত্রিক পরিবার মূলত গণতান্ত্রিক মূল্যেবোধের ওপর নির্ভরশীল।
Related Question
View Allগারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম সাংসারেক।
শহুরে সমাজে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশের শহুরে সমাজ সাধারণত বৃহৎ এবং অধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট। ফলে সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ কম। শহরের মানুষেরা অত্যন্ত যান্ত্রিক ও কৃত্রিম প্রকৃতির হওয়ায় পারস্পরিক আলাপ তেমন হয় না। ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের সামাজিক দূরত্ব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে'?' চিহ্নিত স্থানে নির্দেশিত বিষয়টি হচ্ছে পরিবার। ক্ষমতার মাত্রার ভিত্তিতে বাংলাদেশে দু ধরনের পরিবারের অস্তিত্ব লক্ষণীয়। যথা- পিতৃপ্রধান ও সমতাভিত্তিক পরিবার। সহজ কথায়, এ দেশের পরিবার প্রধানত পিতৃপ্রধান। অর্থাৎ সমস্ত পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পুরুষের অধিকার সর্বস্বীকৃত। তবে পিতৃপ্রধান পরিবারে নারীর মর্যাদা একেবারেই নেই এমন কথা বলা চলে না। এ বিষয়টি পরিবার থেকে পরিবারে পৃথক হতে পারে। অন্যদিকে, নগরাঞ্চলে উচ্চ শিক্ষিত ও উদার মনোভাবাপন্ন পরিবারে সমতার নীতি মেনে চলতে দেখা যায়। তবে এ দেশের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা নিতান্তই কম দেখা যায়।
উদ্দীপকের ছকে প্রদর্শিত উপাদানগুলোর ভিত্তিতে বাংলাদেশে যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিচয় পাওয়া যায় তা হলো চাকমা নৃগোষ্ঠী।
চাকমা সমাজে আদামের নেতৃত্বে কারবারী, মৌজার নেতৃত্বে হেডম্যান এবং সার্কেলের নেতৃত্বে থাকেন রাজা। অবশ্য বর্তমানে এ ধরনের নেতৃত্ব ব্যবস্থায় কিছুটা পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। তবে রাজনৈতিক, প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। আবার এটাও ঠিক যে, অনুরূপ রাজনৈতিক প্রশাসনিক কাঠামোর নেতৃত্ব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে।
আদাম বা পাড়া: কতকগুলো চাকমা পরিবার গুচ্ছ নিয়ে গঠিত হয় আদাম বা পাড়া। আদামের প্রধানকে বলা হয় কারবারী। চাকমা রাজা তাকে নিয়োগ করেন। তিনি আদামের শান্তিশৃঙ্খলা এবং সালিশ বিচার কার্যে মৌজা প্রধানকে সাহায্য করে থাকেন।
গ্রাম বা মৌজা: কতকগুলো চাকমা আদাম নিয়ে গঠিত হয় গ্রাম বা মৌজা। এর প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান। চাকমা রাজার সুপারিশক্রমে ডেপুটি কমিশনার হেডম্যানকে নিযুক্ত করেন। হেডম্যান মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। খাজনা আদায় করার দায়িত্ব তার ওপর অর্পিত থাকে।
চাকমা সার্কেল: চাকমা সমাজের কয়েকশ মৌজা বা গ্রাম মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত। এর প্রধান হচ্ছেন চাকমা রাজা। রাজা বংশ পরম্পরায় নিযুক্ত হন। চাকমা রীতি অনুযায়ী তিনি সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করেন। চাকমা রাজা চাকমা সমাজের প্রতীক।
তিনি সমগ্র চাকমা জনগোষ্ঠীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের পাত্র।
বিবাহের প্রধান সামাজিক উদ্দেশ্য হলো পরিবার প্রতিষ্ঠা করা।
কোচরা বিভিন্ন উৎসব পালন করে থাকে।
কোচদের প্রধান উৎসবের মধ্যে হেমন্তকালে ধান রোপণ করার সময় 'গোচর পর্ণা', নতুন ফসল তোলার সময় 'লবণ খাওয়া' ও 'ধানের ফুল দেওয়া; পিতামাতার আত্মার কল্যাণ কামনায় 'কৈনা গৎ', পুত্র সন্তান লাভের আশায় ভাদ্র মাসের অষ্টম চাঁদে 'জিড়য়া' ও 'ভাদু' এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে বৃষ্টির কামনায় 'হুদুমা' ইত্যাদি প্রধান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!