প্রাচানকালে ঝাষগণ মানবজীবনকে যে চারাট পর্যায়ে বিভক্ত করে দেখিয়েছেন, এগুলোকে একত্রে চতুরাশ্রম বলে।
মানবসভ্যতা, বিকাশের প্রাথমিক পর্যায় ধরা হয় সত্যযুগকে। হিন্দুধর্ম মতে যুগ হচ্ছে চারটি-সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি। এর মধ্যে সত্যযুগ ছিল ধর্মপ্রাণ মানুষের যুগ। তাদের জীবন ছিল সৎকর্মময়। এ যুগে ধর্ম ছিল পূর্ণ, ষোল আনা। সত্যযুগের প্রধান তপস্যাই ছিল ধর্ম।
উদ্দীপকের সতীশ বাবু কর্মের বিচারে ক্ষত্রিয় বর্ণের লোক।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কর্মের আলোকে বর্ণ বিভাজন করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রকৃতির গুণ ও কর্মের বিভাগ অনুসারে আমিই চারটি বর্ণ সৃষ্টি করেছি। এগুলো হচ্ছে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র। সমাজে যারা জ্ঞান বুদ্ধিতে উন্নত তাঁরা ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত হন। এরা জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান বিতরণ এবং ধর্মকর্মে নিযুক্ত থাকতেন। আবার রাজকার্যে সুশীল, দেশ রক্ষার কাজে দক্ষ এই শ্রেণির লোকদের বলা হয় ক্ষত্রিয়। ব্যবসায় বাণিজ্য পরিচালনা এবং শস্যাদি উৎপাদন কর্মে উৎসাহী ব্যক্তিরা হলেন বৈশ্য। আর শ্রমজীবী ব্যক্তিদের শূদ্র শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সতীশ বাবু একজন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সকলের সাথে মিলে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার কর্ম বিভাজনের আলোকে আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি সতীশ বাবু দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করা।
একজন ক্ষত্রিয় বর্ণের লোক, কারণ ক্ষত্রিয়দের একমাত্র কাজ হচ্ছে
হ্যাঁ, সতীশ বাবুও বাঁধনের বর্ণের ভিন্নতা সম্পর্কে আমি একমত। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গুণ ও কর্মের ভিত্তিতে চার বর্ণের সৃষ্টি করেছেন। যারা জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান বিতরণ এবং ধর্মকর্মে নিযুক্ত তারা হলেন ব্রাহ্মণ। আর যারা রাজকার্যে কুশলী এবং দেশরক্ষার কাজে দক্ষ তারা হলেন ক্ষত্রিয়। উদ্দীপকের সতীশ বাবু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশমাতৃকার টানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশকে স্বাধীন করে তিনি ক্ষত্রিয়ের ধর্ম পালন করেছেন। আর বাঁধন বাবু বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন এবং ধর্মীয় কাজে অংশগ্রহণ করেন বলে তাকে ব্রাহ্মণ বর্ণের লোকের কাতারে শামিল করা যায়।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় কর্ম বিভাজনের আলোকে বর্ণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে যারা দেশমাতৃকার জন্য যুদ্ধ করে দেশমাতৃকাকে রক্ষা করেন তাদের ক্ষত্রিয় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর যারা জ্ঞান-বুদ্ধিতে উন্নত তারা ব্রাহ্মণ নামে পরিচিত হন। তারা জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান বিতরণ এবং ধর্মকর্মে নিযুক্ত থাকতেন। এদিক বিচারে দেখা যায়, সতীশ বাবু ক্ষত্রিয় বর্ণের এবং বাঁধন বাবু ব্রাহ্মণ বর্ণের। এ থেকে আমরা বলতে পারি সতীশ বাবু ও তার বাঁধন বাবু একই বর্ণের লোক নয়।
Related Question
View Allবেদের মতামত ঠিক রেখে বেদের পরে সবরকম কর্তব্যকর্মের উপদেশ দিয়ে যে গ্রন্থ রচিত হয় তাকে স্মৃতিশাস্ত্র বলে।
যে ব্যক্তি ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করেন তিনিই প্রকৃত ধার্মিক। ধর্ম সৃষ্টিকে বিশেষভাবে ধারণ করে আছে। সংক্ষেপে যা কিছু ধারণশক্তিসম্পন্ন তাই ধর্ম। একজন ধার্মিক ব্যক্তির মাঝে ধর্মের সব লক্ষণ উপস্থিত থাকে। ধর্মই তাকে প্রতি পদক্ষেপে রক্ষা করে। ধর্ম নষ্ট হলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। ধার্মিক ব্যক্তি ধর্ম মেনে চলে এবং ধর্ম তাকে সর্বদা রক্ষা করে চলে।
সুবোধ ধর্মের বিশেষ লক্ষণ সদাচারকে অনুসরণ করেছে।
হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে ধর্মের লক্ষণসমূহকে সাধারণ লক্ষণ ও বিশেষ লক্ষণ এ দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র, সদাচার ও বিবেকের বাণী এ চারটি হলো ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। এ চারটিকে অনুসরণ করে কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম তা নির্ণয় করা যায়। উদ্দীপকের সুবোধকে শ্রীরামকৃষ্ণের আদর্শ অনুসরণ করতে দেখা যায়। সে সকল ধর্মমতকে সম্মান করে। তার এরূপ আচরণের মধ্য দিয়ে ধর্মের যে বিশেষ লক্ষণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা হলো সদাচার। সৎ আচার = সদাচার। সৎ ব্যক্তিদের আচার-আচরণের মধ্য দিয়ে ধর্মের প্রকাশ ঘটে। বেদ ও স্মৃতিশাস্ত্রের মাধ্যমে যদি ধর্ম ও অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে সমাজে মহাপুরুষদের আচার-আচরণ ও উপদেশ-নির্দেশ অনুসরণ করাই ধর্ম। উদ্দীপকে সুবোধকে শ্রীরামকৃষ্ণের অ্যদর্শ অনুসরণ করতে দেখা যায় বিধায় বলা যায়, সে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ সদাচারকে অনুসরণ করেছে।
হ্যাঁ, শ্রীকান্তের কাজটি অবশ্যই ধর্মসম্মত। কেননা সে ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বিবেকের বাণী অনুসরণ করে নিরপরাধ লোকের প্রাণ বাঁচিয়ে পুণ্য করেছে।
ধর্মের সাধারণ লক্ষণ বর্ণনার পর ধর্মের বিশেষ লক্ষণসমূহে বলা হয়েছে। এ সম্পর্কে মনুসংহিতায় বলা হয়েছে- বেদঃ স্মৃতিঃ সদাচারঃ স্বস্য চ প্রিয়মাত্মনঃ।
এতচ্চতুর্বিধং প্রাহুঃ সাক্ষাৎ ধর্মস্য লক্ষণম্ । (২/১২) অর্থাৎ, বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র, সদাচার ও বিবেকের বাণী- এ চারটি ধর্মের বিশেষ লক্ষণ। এ চারটিকে অনুসরণ করে কোনটি ধর্ম, কোনটি অধর্ম তা নির্ণয় করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সন্ত্রাসীদের তাড়া করা একজন নিরপরাধ মানুষ শ্রীকান্তদের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। সন্ত্রাসীদের কাছে মিথ্যা বলে শ্রীকান্ত লোকটির প্রাণ রক্ষা করে। এক্ষেত্রে শ্রীকান্ত তার বিবেকের বাণীকে কাজে লাগিয়েছে বলা যায়। বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র ও সদাচার অনুসরণ করেও যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে ধর্ম-অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মানুষকে তার নিজস্ব বিবেকের আশ্রয় নিতে হয়। মানুষ বিবেকবান প্রাণী। তাই তাকে বিবেকবৃদ্ধি অবলম্বন করে জীবনপথে চলতে হয়। সর্বক্ষেত্রে ধর্মের নির্দেশ মেনে চলা মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। যেমন- শাস্ত্রের নির্দেশ হচ্ছে সত্য বলা ধর্ম, আর মিথ্যা বলা পাপ। এ নির্দেশ সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। যদি দেখা যায় মিথ্যা বললে একজন নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মিথ্যা বলাই ধর্ম। এরূপ ক্ষেত্রে সত্য বলা ধর্ম নয়। এমন জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের অন্তরে অবস্থিত ঈশ্বর বা বিবেকের নির্দেশ নিয়ে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করতে হয়। উদ্দীপকের শ্রীকান্ত এ নির্দেশই অনুসরণ করেছে। তাই তার কাজটি অবশ্যই ধর্মসম্মত।
ত্রেতা যুগের পরবর্তী যুগের নাম হলো দ্বাপর যুগ।
ধর্মের বিশেষ লক্ষণ বেদ, স্মৃতিশাস্ত্র ও সদাচার অনুসরণ করেও যদি বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে, ধর্ম-অধর্ম নির্ণয় করা সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে মানুষকে তার নিজস্ব বিবেকের আশ্রয় নিতে হয়। মানুষ বিবেকবান প্রাণী। তাই তাকে বিবেকবুদ্ধি অবলম্বন করে জীবনপথে চলতে হয়। সর্বক্ষেত্রে ধর্মের নির্দেশ মেনে চলা মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। যেমন- শাস্ত্রের নির্দেশ হচ্ছে সত্য বলা ধর্ম, আর মিথ্যা বলা পাপ। এ নির্দেশ সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। যদি দেখা যায় মিথ্যা বললে একজন নির্দোষ মানুষের জীবন রক্ষা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে মিথ্যা বলাই ধর্ম। এরূপ ক্ষেত্রে সত্য বলা ধর্ম নয়। এমন জটিল পরিস্থিতিতে মানুষের অন্তরে অবস্থিত ঈশ্বর বা বিবেকের নির্দেশ নিয়ে ধর্মাধর্ম নির্ণয় করতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!