Republic' গ্রন্থের রচয়িতা হলেন গ্রিক দার্শনিক প্লেটো।
পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপকতার সাথে কোনো কিছু সম্পন্ন করতে হলে যে পন্থার সাহায্য নিতে হয় তাকেই পদ্ধতি বলে।
পদ্ধতি হচ্ছে গবেষণার একটি পন্থা। নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের সুশৃঙ্খল ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ হলো পদ্ধতি। আর গবেষণা পদ্ধতি বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যার মাধ্যমে একজন গবেষক গবেষণাকার্য সম্পাদন করে।
সত্যজিৎ গবেষণার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। বিজ্ঞানসম্মত অনুসন্ধানের দক্ষ উপায়কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলা হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি হলো বিজ্ঞানের ভিত্তি। বিজ্ঞানী যে যৌক্তিক পদ্ধতিতে সামাজিক ও প্রাকৃতিক বিষয়াবলি বর্ণনা, ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাধারণ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন তাকেই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বলে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণার বিষয় নির্ধারণের পর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যসমূহের শ্রেণিবিন্যাস, কল্পনা প্রণয়ন এবং তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়, যার ভিত্তিতে একটি সাধারণ সূত্রে পৌছানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। উদ্দীপকে সত্যজিৎও গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করেছে। আর তা হলো 'বাল্যবিবাহের প্রতি গ্রামবাসীর মনোভাব'। সে প্রথমে গবেষণার সমস্যা নির্বাচন, সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে তার গবেষণা শেষ করে যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুতরাং উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সত্যজিৎ তার গবেষণা কার্য সম্পাদনের জন্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে।
উদ্দীপকে সত্যজিৎ তার গবেষণা কার্যে যে পর্যায়গুলো প্রয়োগ করেছে তা হলো সমস্যা নির্বাচন, সমস্যা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ভবিষ্যদ্বাণী করে গবেষণা শেষ করা।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রথম কাজ হলো গবেষণার জন্য বিষয় বা সমস্যা নির্বাচন। যেমন- মাদকাসক্তি, যৌতুক, বাল্যবিবাহ ইত্যাদি এক একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির দ্বিতীয় স্তর হলো সমস্যার সংজ্ঞায়ন। নির্বাচিত সমস্যাটিকে সূক্ষ্মভাবে চরিত্রায়ন এবং গবেষণার উপযোগী সংজ্ঞা প্রদান করা হয়। গবেষণা সমস্যার মধ্যকার ধারণাগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের মাধ্যমে গবেষণা সমস্যা সমাধানের একটি আনুমানিক বিবৃতিই হলো অনুসিদ্ধান্ত বা কল্পনা। অনুসিদ্ধান্ত গঠন করার পর তা প্রাপ্ত তথ্যাবলির দ্বারা সমর্থিত হচ্ছে কিনা সেটা যাচাই করে দেখা প্রয়োজন। তথ্য সংগ্রহ করার পর গবেষককে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করতে হয়। অবশেষে কল্পনাটি যদি তথ্য দ্বারা সমর্থিত হয় অথবা যথার্থ সাধারণীকরণ সম্ভব হয় তাহলে ভবিষ্যদ্বাণী করা যেতে পারে।
বস্তুত ভবিষ্যদ্বাণী গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত হয়। অবশ্য গৃহীত অনুসিদ্ধান্তের বিপরীত সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সকল গবেষককে একটি নির্দিষ্ট পন্থা অবলম্বন করে গবেষণা কার্য সম্পাদন করতে হয়।
Related Question
View Allহার্বাট স্পেন্সার তার The Principles of Sociology' গ্রন্থে চার ধরনের সমাজের কথা উল্লেখ করেছেন।
গণমাধ্যম আধুনিককালে ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
গণমাধ্যম বলতে বোঝানো হয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইত্যাদিকে। এসব মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান শিশুদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এর ফলে শিশু-কিশোররা নিজেদেরকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হয়।
উদ্দীপকের আশুর পঠিত বিষয়ের সাথে অর্থাৎ- সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান ঠিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো নয়, তবে এটি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করে। বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রজ্ঞা, ধীশক্তি, নির্দেশনা বা ধারণার জন্ম দেওয়া নয়, বরং জ্ঞানের উদ্ভাবন। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে প্রথমে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করা হয়। তারপর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন এবং তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় এবং এর ভিত্তিতে একটি সাধারণ সূত্রে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যসমূহের বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক জ্ঞান অন্বেষণের প্রচেষ্টা চালায়। এদিক থেকে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের আশু বলে, সমাজের গতি-প্রকৃতি জানতে হলে একটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয় এবং এ বিষয়টি পদ্ধতিগত দিক থেকে বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়েছে। আশুর এ বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে। আর সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক মিল বা সাদৃশ্য যা উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আশুর পঠিত বিষয় সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের মিল বা সম্পর্ক রয়েছে।
উদ্দীপকের আশুর বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের সমাজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আর সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। সমাজের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার কারা কতটা এবং কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাইবা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, সম্পর্ক, কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের সমস্যা দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান পথ নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জন অসন্তোষ, সম্পদহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য সমাধান সূত্র নির্ণয়ে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজ যেহেতু প্রধানত স্তৱায়িত, তাই সমাজ উন্নয়নে কোন শ্রেণির বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর কী ভূমিকা থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকে জানতে ও বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সমাজকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে।
বিজ্ঞান শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশেষ জ্ঞান।
যুক্তি বিকাশের ধারাবাহিকতায় মানুষের অগ্রসর চিন্তার ফসল হচ্ছে একেশ্বরবাদ।
যুক্তির ধারাবাহিকতায় বহু ঈশ্বরের ক্ষমতা একজন ঈশ্বরের ওপর আরোপ করা হয়। এখানে মনে করা হয়, সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনার সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে সর্বশক্তিমান একক সত্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!