(৫)

সত্যবাদিতা

(প্রবন্ধ রচনা লিখুন)

সত্যবাদিতা

ভূমিকা: যেসব মহৎ গুণ মানুষকে মহামানবে পরিণত করে সত্যবাদিতা তার মধ্যে অন্যতম। সত্যকে কোনো রকম বিকৃত না করা এবং ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনে সত্যচর্চার নামই সত্যবাদিতা। একজন সত্যবাদী মানুষ কখনো মিথ্যার আশ্রয় নেয় না। সেজন্য তিনি সবার কাছে সম্মান পেয়ে থাকেন।

সত্যবাদিতার মূল্যায়ন: সত্যের কোনো বিকল্প নেই। তাই গুণ হিসেবে সত্যবাদিতার স্থান সবার ওপরে। যার জীবনে সত্যবাদিতার অভাব আছে তাকে সব ক্ষেত্রে অপমানিত হতে হয়। আর সত্যকে ধারণ করে অনেক ব্যক্তি সকলের সম্মানের পাত্র হয়ে ওঠেন। কখনো কখনো অসত্যের জয় হলেও চূড়ান্ত বিচারে সত্যেরই জয় হয়। সত্যই মানুষকে দেখায় মুক্তি ও কল্যাণের পথ। তাই বলা যায়, জীবন ও জগৎকে সুন্দর করতে সত্যকে বেছে নেওয়া উচিত।

সত্য ও মিথ্যার প্রভেদ: যার মধ্যে সত্য আছে সকলে তাকে বিশ্বাস করে, ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে আর অসত্য মানুষকে মিথ্যার বেড়াজালে আবদ্ধ করে। একটি মিথ্যার আশ্রয় নিতে গিয়ে মানুষ অসংখ্য অসত্যকে প্রশ্রয় দিতে বাধ্য হয়। এভাবে অসত্য মানুষকে এমন এক জায়গায় নিয়ে যায় যেখান থেকে ফিরে আসা সহজ হয় না। ফলে অসত্য সমাজে অন্যায়, অবিশ্বাস, অনাস্থা ও অনাচারের জন্ম দেয়। যে সত্যে বিশ্বাসী সে শত প্রলোভনেও সত্যভ্রষ্ট হয় না। সে নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান। নৈতিকতা অর্জন মানব জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সত্য মানুষকে সেই শক্তি দেয় যার গুণে মানুষ সত্যিকার মানুষ হয়, যা না থাকলে তার সঙ্গে পশুর কোনো পার্থক্য থাকে না। যে সমাজে সত্য নেই সে সমাজ মানুষের নয়, পশুর। তাই কখনো মিথ্যা বা অসত্যের আশ্রয় নেওয়া উচিত নয়। এমনকি কৌতুক করেও মিথ্যা বলা উচিত নয়। অর্ধসত্য কথাও মিথ্যাতুল্য।

ব্যক্তিজীবনে সত্যবাদিতার গুরুত্ব: ব্যক্তিজীবনে সত্যবাদিতার গুরুত্ব অপরিসীম। সত্যবাদী ব্যক্তির প্রতিটি কাজকর্মে সততার লক্ষণ প্রকাশ পায়। সততা আছে এমন ব্যক্তির পক্ষে সৎ চিন্তা, সৎ কাজ, সদ্ব্যবহার বাদ দিয়ে সুন্দর জীবন কল্পনা করা সম্ভব নয়। সৎ ব্যক্তির সত্যবাদিতার প্রভাব পড়ে তার পারিবারিক জীবনে। সৎ ব্যক্তির সত্যের আদর্শের শিক্ষা পায় তার স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা।

সমাজজীবনে সত্যবাদিতার প্রভাব: সমাজজীবনে সত্যবাদিতার আছে শক্তিশালী প্রভাব। সৎ ব্যক্তি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পছন্দের ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হয়। ফলে তার ওপরই সকলে ন্যস্ত করতে চায় নেতৃত্ব। সত্যবাদিতার গুণেই ব্যক্তি সমাজে উচ্চ অবস্থানে আসীন হয়। যুগে যুগে শিক্ষাহীন, ধর্মহীন মানুষকে দীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়েছিল সমাজের সত্যবাদী ব্যক্তিদের মাধ্যমেই। তাই মহৎ ও বরণীয় মানুষমাত্রই মানবজীবনে সত্যের মূর্ত প্রতীক। সমাজজীবনে সত্য কথার অভাব হলে সমাজে অন্যায়-অবিচার বৃদ্ধি পায়। সমাজ হয়ে পড়ে অস্থিতিশীল। তাই একটি সুন্দর সমাজের জন্য সত্য কথা বলার চর্চা করা উচিত। কর্মজীবনেও সত্য কথা না থাকলে সহকর্মীদের শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা লাভ করা যায় না।

সত্যবাদিতার দৃষ্টান্ত: পৃথিবীতে যে সকল মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে তাঁরা সবাই সত্যবাদী ছিলেন। হজরত মুহাম্মদ (স.) সদ্গুণের কারণে আল-আমিন উপাধি পেয়েছিলেন। হজরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) ডাকাতদের কবলে পড়লে তাদের নিকট তাঁর আস্তিনে লুকানো স্বর্ণমুদ্রার কথা অকপটে স্বীকার করেন। । তাঁর এ সত্যবাদিতায় মুগ্ধ হয়ে ডাকাত সর্দারসহ দলের সকলে ডাকাতি করা ছেড়ে দিয়ে ভালো হয়ে গিয়েছিল। সত্যের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হন যিশুখ্রিষ্ট। দাশনিক সক্রেটিসকে সত্য সমুন্নত রাখতে হেমলক বিষ পান করে জীবন দিতে হয়েছে। তাই মানব ইতিহাসে এদের নাম লেখা হয়েছে স্বর্ণাক্ষরে আর মিথ্যাশ্রয়ীরা নিক্ষিপ্ত হয়েছে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে।

উপসংহার; ব্যক্তিজীবনে, সমাজজীবনে সত্যবাদিতার চেয়ে মূল্যবান গুণ খুব কম আছে। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্যবাদিতা প্রতিষ্ঠা করেই আমরা সমাজকে সুখী ও সুন্দর করে তুলতে পারি। সত্যের বিনাশ নেই বিধায় সদা সত্য কথা বলব, সৎপথে চলব, সত্যের সেবা করব- এই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

8 months after

প্রবন্ধ হলো প্রকৃষ্টরূপে বন্ধনযুক্ত রচনা। অর্থাৎ অন্যান্য রচনা, যেমন- কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদির সঙ্গে প্রবন্ধ লেখার রীতি ও কৌশলের পার্থক্য রয়েছে। কবির একান্ত অনুভূতিই কবিতায় প্রকাশ পায়। গল্প হলো মানবজীবনের নির্বাচিত ঘটনার আখ্যান বা কাহিনি। উপন্যাসের পরিসর বড়। সেখানে লেখক গল্পকারের তুলনায় বেশি স্বাধীন। উপন্যাসে সমগ্র জীবন ফুটে ওঠে। নাটকে কেবলই থাকে সংলাপ। বিবরণ বা বর্ণনার সেখানে তেমন স্থান নেই। কিন্তু প্রবন্ধকে হতে হয় যুক্তি ও তথ্যনির্ভর। কাদের জন্য প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে সেটা মনে রাখতে হয়। কোন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হচ্ছে তাও গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধ-রচয়িতার মেধা, জ্ঞান, প্রকাশক্ষমতা প্রবন্ধের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়। প্রবন্ধের ভাষা স্থির করা হয় প্রবন্ধের বিষয় অনুসারে। বিজ্ঞানের কোনো বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে গেলে তাতে বিজ্ঞানের পরিভাষা ব্যবহার করতে হবে। সকল বয়সের পাঠকের জন্য একই ভাষায় প্রবন্ধ লেখা যায় না। শিশুরা যে-ভাষা বুঝবে, তাদের জন্য প্রবন্ধ সেভাবে লিখতে হবে। বিষয় অনুসারে প্রবন্ধের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। বিজ্ঞানের বিষয়কে আশ্রয় করে রচিত প্রবন্ধকে আমরা বলি বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ। সমাজের সমস্যা, সংকট, অবস্থা যেসব প্রবন্ধের মূল বিষয়, সেগুলোকে বলা হয় সামাজিক প্রবন্ধ। সাহিত্যকর্মের গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে যেসব প্রবন্ধ রচিত হয়, সেগুলোকে বলে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ। লেখকের অনুভূতিই যখন প্রবন্ধের আকারে তুলে ধরা হয়, তখন তাকে বলে অনুভূতিনির্ভর প্রবন্ধ। এ ছাড়াও প্রবন্ধের আরও শ্রেণি নির্দেশ করা যায়।

প্রবন্ধ-রচনার কৌশল

প্রবন্ধের প্রধানত তিনটি অংশ থাকে- (ক) ভূমিকা (খ) মূল অংশ (গ) উপসংহার।
ক) ভূমিকা: যে-বিষয়ে প্রবন্ধ লেখা হয় সে-বিষয়ে শুরুতেই সংক্ষেপে প্রথম অনুচ্ছেদে একটি ধারণা দেওয়া হয়। এটিই হলো ভূমিকা। এ-অংশ হতে হবে বিষয় অনুযায়ী, আকর্ষণীয় ও সংক্ষিপ্ত।
খ) মূল অংশ: প্রবন্ধের মধ্যভাগ হলো মূল অংশ। এখানে প্রবন্ধের মূল বক্তব্য পরিবেশিত হয়। বিষয় অনুসারে এ অংশ বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত হতে পারে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ যেন মূল প্রবন্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। এ-অংশে কোনো উদ্ধৃতি ব্যবহার করা হলে তা যাতে কোনোভাবেই বিকৃত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে অর্থাৎ মূল রচনায়, যেভাবে আছে সেভাবেই তা ব্যবহার করতে হবে।
গ) উপসংহার: অল্প কথায় সমাপ্তিসূচক ভাব প্রকাশ করাই উপসংহার। ব্যক্তিগত মত, সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশা এ-অংশে প্রকাশ করা যেতে পারে।

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জনের উপায়

প্রবন্ধ-রচনায় দক্ষতা অর্জন একদিনে হয় না। কিন্তু তা সাধ্যের অতীত কোনো বিষয় নয়। এজন্য করণীয় হলো-

১. প্রবন্ধের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা লাভ করা।

২.দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রবন্ধ পড়া। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ, সংবাদ, প্রতিবেদন, ভাষণ ইত্যাদি নিয়মিত পাঠ করলে নানা প্রসঙ্গে বিষয়গত ধারণা লাভ করা যায়।

৩. প্রবন্ধের বক্তব্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তুলে ধরতে হবে।

৪. প্রবন্ধ-রচনার ভাষা হবে সহজ ও সরল।

৫. প্রবন্ধে কোনো অপ্রয়োজনীয় বিষয় থাকবে না এবং একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটানো যাবে না।

৬. প্রবন্ধে উদ্ধৃতি, উক্তি বা প্রবাদ-প্রবচন ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু এসবের ব্যবহার যেন অতিরিক্ত পর্যায়ে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৭.প্রবন্ধ যাতে অতিরিক্ত দীর্ঘ না হয় তা লক্ষ করতে হবে।

Related Question

View All

সচরাচর দিনের বেলা খোলা আকাশের রং নীল দেখা যায়।

8 months after

রাতের বেলা আকাশের কালো রঙের উপর রূপালি রং ভালো ফোটে; তাই রুপালি চাঁদ আর ঝকঝকে অসংখ্য তারা দেখা যায়।

8 months after

দিন ও রাতে আকাশে রঙে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। দিনের বেলা সাধারণত আকাশ নীল দেখায়। বর্ষাকালে আকাশ ধূসর মেঘে ছেয়ে থাকে। আবার শরৎকালে সাদা মেঘ ভেসে বেড়ায়। ভোরে ও সন্ধ্যায় সোনালি রঙের বন্যা। অন্যদিকে রাতের আকাশ কালো দেখা যায়। কালো আকাশে ওঠে রুপালি চাঁদ আর অসংখ্য রূপালি তারা।

8 months after

আমার দেখা আকাশের সঙ্গে অনুচ্ছেদের আকাশের মিল বেশি, অনেক।

ঘুম থেকে উঠেই আমি দেখি সোনালি রোদ ছড়িয়ে আছে পুব আকাশে। আকাশ নীল। মাঝে মাঝে সাদা মেঘের ভেলা। বিকেলেই হঠাৎ দেখি আকাশজুড়ে পাংশু আর কালো মেঘ ছড়ানো। আবার সন্ধ্যার পর দেখি কালো আকাশজুড়ে রুপালি চাঁদ আর অসংখ্য জ্বলজ্বলে রুপোর মতো তারার মেলা।

8 months after

হ্যাঁ, খালি চোখে দেখা আকাশ আর অনুচ্ছেদে বর্ণিত আকাশ একই। অনুচ্ছেদের দিনের বেলার এবং রাতের বেলার আকাশের রূপ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলার সূর্যের কিরণ ও আকাশের নীল রং খালি চোখে দেখা যায়। আবার রাতের কালো আকাশের রূপালি চাঁদ ও ঝকঝকে গ্রহ, তারা সবই খালি চোখে দেখা যায়।

8 months after

মাদার তেরেসার গঠিত সংঘটির নাম 'মিশনারিজ অব চ্যারিটি'।

8 months after
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews