'শুক্লাদ্বাদশী' অর্থ চাঁদের বারোতম দিন।
"আমাকে সবাই ভুলিলে বাঁচি"- আক্ষেপ থেকে সুভা এ কথাটি মনে করত।
'সুভা' গল্পে সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। কথা বলতে পারে না বলে প্রতিবেশীরা সুভার উপস্থিতিতে তার এই অপারগতার জন্য তাকে নিয়ে তাচ্ছিল্য করে। তার সঙ্গে দেখা হলেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করে। এতে সুভার সীমাবদ্ধতা তার বারবার মনে পড়ে। সে নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে রাখতে চায়। এ জন্য সুভা উক্ত কথাটি মনে করত।
'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের প্রতিবন্ধিতার দিক থেকে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
কোনো ব্যক্তি শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ত্রুটিগ্রস্ত হলে এবং এর ফলে সাধারণ জীবনযাপনে অক্ষমতা প্রকাশ পেলে সেই অবস্থাকে প্রতিবন্ধিতা বলা হয়। এটি একটি নিয়তিনির্ভর অবস্থা, যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তির কোনো হাত থাকে না।
উদ্দীপকের তাহমিদ সদা হাস্যোজ্জ্বল ও অদম্য সাহসী একজন ছেলে। সে ক্লাসের প্রিয়মুখ। বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, খেলাধুলা ইত্যাদিতে সে এগিয়ে থাকে সব সময়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারায় তাহমিদ। অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনার কারণে তাকে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়। তার ওপরে যেমন বিষাদের কালো ছায়া নেমে আসে তেমনই তার পরিবারও পড়ে যায় ভীষণ দুশ্চিন্তায়। 'সুভা' গল্পে সুভাও একজন বাষ্প্রতিবন্ধী বালিকা। সে কথা বলতে পারত না ঠিক, কিন্তু সুদীর্ঘপল্লববিশিষ্ট বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ ছিল। তার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্র কচি কিশলয়ের মতো কেঁপে উঠত অর্থাৎ তার ছিল তীক্ষ্ণ অনুভূতি শক্তি। শুধু তার প্রতিবন্ধিতা বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার কারণ ছিল। ফলে তাকে দুঃখময় বিষণ্ণ জীবন পার করতে হয়। তাই বলা যায়, 'সুভা' গল্পের সুভার সঙ্গে উদ্দীপকের তাহমিদের সাদৃশ্য শরীরিক প্রতিবন্ধিতায়।
'উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না'- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতা মানুষের কোনো অযোগ্যতা নয়। সামান্য সহানুভূতি ও উৎসাহ দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব। এতে সমাজের কল্যাণ সাধিত হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। মূলত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের বিকাশে মমত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি, সহযোগিতা ও সহানুভূতিই তাদের মানবসম্পদে পরিণত করতে পারে।
উদ্দীপকে সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারানো তাহমিদের প্রতি বন্ধুদের সহানুভূতি ও সাহস জোগানোর দিকটি আমরা লক্ষ করি। এমন দুঃখ-দুর্দশার সময় তাহমিদের পাশে এসে তার বন্ধুরা দাঁড়িয়েছে। যার ফলে সে মানসিকভাবে দৃঢ় হতে পেরেছে এবং আপন শক্তিতে বলীয়ান হওয়ার উৎসাহ লাভ করেছে। একটি পা হারিয়ে হতাশার ভয়াল অন্ধকারে সে হারিয়ে যায়নি; বরং বন্ধুদের সাহস ও সহযোগিতায় আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বিষণ্ণতার অন্ধকার থেকে উঠে আসতে পারেনি। কারণ তাকে সাহস ও সহানুভূতি দেখানোর কেউ ছিল না। এমনকি তার পরিবারও তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে মনে করতেন। অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার অভাব সুভাকে দুঃসহ বিড়ম্বনার মধ্যে ফেলে দেয়।
উদ্দীপকের তাহমিদ বন্ধুদের কাছে থেকে যেমন উৎসাহ ও সহযোগিতা পেয়ে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে তেমনটি কিন্তু গল্পের সুভা পায়নি। সাহস দিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ ও সহযোগিতা প্রদান করলে সুভাও নিজেকে স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সম্মত হতো এবং তার পরিবারও কন্যাদায়গ্রস্ততা থেকে মুক্তি পেত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তাহমিদের বন্ধুদের মতো সহযোগিতা পেলে সুভা ও তার পরিবারকে বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো না।
Related Question
View All'পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার'- কথাটির মধ্য দিয়ে লেখক বাষ্প্রতিবন্ধী সুভার বিয়ের বয়স হওয়া সত্ত্বেও বিয়ে দিতে না পারায় পিতা-মাতার হৃদয়ের নীরব কষ্টকে বোঝাতে চেয়েছেন।
সুভা বাণীকন্ঠের ছোট মেয়ে। সে কথা বলতে পারে না। বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোট মেয়ে সুভাকে বিয়ে দিতে পারেননি। তাই সুভার ভবিষ্যৎ নিয়ে বাণীকণ্ঠ এবং তার স্ত্রী উভয়েই চিন্তিত। সন্তানের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে তাদের হৃদয়ে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়। লেখক সেই কষ্টকেই বলেছেন- পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার।
উদ্দীপকের প্রথম অংশের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার শারীরিক প্রতিবন্ধিতার দিকটির সংগতি দেখানো হয়েছে।
শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে অনেকে সমাজে অবহেলার শিকার হয়। এতে সমাজের মানুষ হীনম্মন্যতার পরিচয় দেয়। প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূশীল হলে তবেই তারা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সমাজে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করতে পারবে।
'সুভা' গল্পে সুভা কথা বলতে পারে না। আনন্দের বার্তা নিয়ে পৃথিবীতে এলেও কথা বলতে না পারার বিষয়টি কিছুটা সুভার বাবা- মায়ের মনে নীরব হৃদয়ভারের জন্ম দেয়। উদ্দীপকের কল্যাণীর জন্মও পরিবারে আনন্দ নিয়ে আসে। কিন্তু তার মানসিক প্রতিবন্ধিতার দিকটি সবাইকে চিন্তিত করে তোলে। তার মানসিক বিকাশ কিছুটা কম হয়েছে। 'সুভা' গল্পের সুভাও বাষ্প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার পরিবারের সবার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের বক্তব্যে কল্যাণী ও সুভার প্রতিবন্ধিতার দিকটি সংগতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কল্যাণী ও সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন- মন্তব্যটি যথার্থ।
শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আমাদের সমাজে বিভিন্নভাবে অবহেলার সম্মুখীন হয়। তারা আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদের মতোই মানুষ। তাই তাদের কল্যাণে এগিয়ে আসা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের সহানুভূতি পেলে তারা জীবনের পূর্ণতা লাভ করবে।
উদ্দীপকে কল্যাণীর মানসিক বিকাশ ঠিকভাবে ঘটেনি। বিয়ের কথাবার্তায় তার বাবা পলাশ বাবু বরপক্ষের কাছে সে সব কথা খুলে বলেন। তারা সব শুনে উদারতার পরিচয় দেন। বরের বাবা সুবোধ বাবু মহত্ত্বের পরিচয় দিয়ে কল্যাণীকে ঘরে নিয়ে যেতে চান। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা বাষ্প্রতিবন্ধী। সে কথা বলতে পারে না। সবার কাছ থেকে অবহেলা পেলেও সুভা তার বাবার ভালোবাসা পেয়েছে। সুভার সাথে কেউ মেশে না বলে সে পোষা প্রাণীদের মাঝে নিজের একটি বিশাল জগৎ তৈরি করেছে।
উদ্দীপকের কল্যাণী ও 'সুভা' গল্পের সুভা একই পরিস্থিতির শিকার হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ও পরিণতি ভিন্ন। কল্যাণী সুবোধ বাবুর উদারতায় পেয়েছে সুন্দর ভবিষ্যতের সন্ধান। অথচ 'সুভা' গল্পের সুভার পরিণতি এতটা মানবিকতায় সিক্ত হয়নি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
শঙ্খের মধ্যে যেমন সমুদ্রের শব্দ শুনা যায়, তেমনি এই লাইব্রেরির মধ্যে কি হৃদয়ের উত্থানপতনের শব্দ শুনিতেছ
শঙেখর মাঝে সমুদ্রের শব্দ শোনা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!