যে ঘরে সদ্য ফোটা বাচ্চাদের জন্ম থেকে ৪ বা ৬ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত কৃত্রিমভাবে তাপ প্রদান, টিকা, লিটার, খাদ্য ও পানির ব্যবস্থা করতে হয় তাকে ব্রুডার ঘর বলে।
হাইড্রোজেন আয়নের ঋণাত্মক লগারিদম কে pH বলে। পানির পিএইচ পানির অম্ল বা ক্ষার বা নিরপেক্ষ অবস্থার নির্দেশক। পিএইচ এর স্কেল ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিস্তৃত। পানির পিএইচ ৭ এর নিচে থাকলে তা অম্লীয়, ৭ এর উপরে হলে ক্ষারীয় এবং পিএইচ ৭ হলে নিরপেক্ষ।
উদ্দীপকে জামিল উদ্দিন স্যার ছাত্রদেরকে বিদ্যালয়ের পুকুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চুন ও সার প্রয়োগ করতে বলেছিলেন। পুকুরের আয়তন ৫ শতক।
সুতরাং এ পুকুরে চুন প্রয়োগের মাত্রা
| পানির পিএইচ মান | চুনের পরিমাণ (কেজি) (শতকে) | চুনের পরিমাণ (কেজি) (৫ শতকে) |
| ৩-৫ | ১২ | ১২৫=৬০ |
| ৫-৬ | ৮ | ৮৫=৪০ |
| ৬-৭ | ২ | ২৫=১০ |
জৈব সার প্রয়োগের মাত্রা
| সারের নাম | পরিমাণ (কেজি/শতক) | জৈব সারের পরিমাণ (কেজি) (৫ শতকে) |
| গোবর/মুরগির বিষ্ঠা | ৫-৭/৩-৪ | ২৫-৩৫/১৫-২০ |
অজৈব সার প্রয়োগের মাত্রা
| সারের নাম | পরিমাণ (গ্রাম/শতক) | অজৈব সারের পরিমাণ (গ্রাম) (৫ শতকে) |
| ইউরিয়া | ১০০-১৫০ | ৫০০-৭৫০ |
| টিএসপি | ৫০-৭৫ | ২৫০-৩৭৫ |
| এমওপি | ২০ | ১০০ |
উপরিউক্ত মাত্রা অনুযায়ী জামিল উদ্দিন স্যার ছাত্রদেরকে পুকুরে চুন ও সার প্রয়োগ করতে বলেছিলেন।
উদ্দীপকে স্যার নবম শ্রেণির ছাত্রদের নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি পুকুরে মাছ চাষের জন্য প্রস্তুত করেন।
মাছ চাষের পূর্বে পুকুর ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিলে মাছ স্বাস্থ্যসম্মত ও বসবাসের অনুকূল পরিবেশ পায়। মাছ চাষের জন্য পুকুরে পরিকল্পনামাফিক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছ চাষের আওতায় আনতে পারলে মাছের বৃদ্ধি বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব।
তুহিন আলম স্যার পুকুরে পোনা ছাড়ার পূর্বে সার প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়েছে কিনা সেজন্য পরীক্ষা করে দেখেন। পুকুরে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য থাকলে মাছ দ্রুত বাড়ে এবং খেতে সুস্বাদু হয়। পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য না থাকলে মাছের যথাযথ বৃদ্ধি হয় না, রোগবালাই দেখা দেয় এবং উৎপাদন কমে যায়।
অতএব, স্যার পোনা ছাড়ার আগে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের উপস্থিতি নির্ণয়ের যে পরীক্ষা করেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক।
Related Question
View Allগবাদিপশু যে সকল উপাদান খাদ্যরূপে গ্রহণ করে এবং পরিপাক, শোষণ ও বিপাকের মাধ্যমে দেহে শক্তি উৎপাদন করে তাকে গো-খাদ্য বলে।
যে খাদ্যে কম পরিমাণ আঁশ এবং বেশি পরিমাণে শক্তি পাওয়া যায় তাকে দানাজাতীয় খাদ্য বলে।
দুধাল বা মাংস উৎপাদনকারী গবাদিপশুর ক্ষেত্রে শুধু আঁশ জাতীয় খাদ্য সরবরাহ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। কারণ দানাজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ পদার্থ থাকে যা গবাদিপশুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস শুকিয়ে হে তৈরির মাধ্যমে যথোপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
তিনি হে তৈরির জন্য মে সঠিক পূর্ণতাপ্রাপ্ত গাছ (ফুল আসার আগে) কেটেছিলেন। কেননা সুগিত মানের হে তৈরির জন্য কম বয়সের গাছ বেশি উপযুক্ত। এরপর ঘাসগুলোকে সঠিকভাবে শুকিয়েছিলেন যাতে এটি মোল্ডমুক্ত ও অতিরিক্ত তাপমুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করা যায়। অতিরিক্ত সূর্যের আলো পরিহার করে ঘাসগুলোকে দ্রুত শুকিয়েছিলেন। ঘাসগুলোকে কেটে রৌদ্রে এমনভাবে উল্টাপাল্টা করে দিয়েছিলেন যেন এগুলোর পাতা ঝরে পড়ে না যায়। এরপর এগুলো শুষ্ক অবস্থায় (১৫-২০% আর্দ্রতায়) সংরক্ষণ করেছিলেন।
উল্লিখিত উপায়ে কনক বড়ুয়া কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেছিলেন।
কনক বড়ুয়া তার গবাদিপশুর সারাবছরের খাদ্য চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কাঁচা ঘাস সংরক্ষণ করেন।
খরা মৌসুমে মাটিতে রসের পরিমাণ কম থাকায় ঘাসের উৎপাদন কমে আসে। ফলে গবাদিপশুকে শুকনো খড় জাতীয় খাদ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে খাদ্যের অভাবে কনক বড়ুয়ার গবাদিপশুর মাংস ও দুধের উৎপাদন কমে যায় এবং পশুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। কনক বড়ুয়া তার চারণ ভূমিতে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণ করেছিলেন। এভাবে সবুজ ঘাস সংরক্ষণের মাধ্যমে সারাবছর গবাদিপশুর খাদ্য চাহিদা মেটানোর পাশাপাশির পশুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের চাহিদা মেটানো যায়। এতে করে গবাদিপশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে না। মাংস ও দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায় না। ফলে কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। যারা পশু পালনের সাথে জড়িত তাদের সবার উচিত এভাবে বর্ষা মৌসুমে উৎপাদিত অতিরিক্ত ঘাস সাইলেজ বা হে তৈরির মাধ্যমে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। অর্থাৎ, কনক বড়ুয়ার কার্যক্রমটি সঠিক ও সুদূরপ্রসারি ছিল।
মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে প্রতি লিটারে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।
পানির পিএইচ কমে গেলে পুকুরে চুন প্রয়োগ করে পানির পিএইচ ঠিক করা হয়।
চুন পানির ঘোলাত্ব দূর করে পানি পরিষ্কার করে। সার প্রয়োগের আগে চুন প্রয়োগের মাধ্যমে সারের কার্যকারিতা বাড়ানো যায়। এভাবে চুন পানির উর্বরতা বাড়িয়ে পানির গুণগত মান বৃদ্ধি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!