সন্তোষ বাবু চাকরির সুবাদে শহরে বসবাস করেন। তাঁর বৃদ্ধ মা-বাবা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। একদিন তার মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে তিনি রাতেই বাড়িতে ছুটে যান এবং দেখতে পান মা মৃত্যু শয্যাশায়ী। তিনি বিলম্ব না করে মাকে কোলে তুলে ডাক্তারের কাছে রওয়ানা হন। কিন্তু খেয়াঘাটে এসে দেখেন নৌকা বাঁধা আছে, মাঝি নেই, বৈঠাও নেই। এ অবস্থায় তিনি মাকে নৌকায় তুলে নদীতে ঝাঁপ দেন এবং রশি দিয়ে টেনে নৌকা ওপারে নিয়ে যান। এরপর ডাক্তার বাড়িতে গেলে ডাক্তারের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থায় তার মা সুস্থ হয়ে উঠেন।

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় তারাপীঠ অবস্থিত।

উত্তরঃ

বামাক্ষেপার আসল নাম বামাচরণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি ছিলেন খুবই সরল প্রকৃতির ও ধর্মভীরু একজন মানুষ। অল্প বয়সে দীক্ষা নিয়ে তিনি সাধনায় ডুবে যান। তারা মায়ের সাধনায় তার ক্ষেপামি বা একরোখা ভাব দেখে সবাই তাঁকে বামাক্ষেপা বলে ডাকতেন। এভাবে বামাচরণ বামাক্ষেপা নামে পরিচিত হয়ে উঠেন।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সন্তোষ বাবু চাকরির জন্য শহরে থাকেন। কিন্তু তার গ্রামের বাড়িতে মা থাকেন। মায়ের প্রতি তার ভক্তি প্রবল। একদিন তিনি মায়ের অসুস্থতার কথা শুনলে তাৎক্ষণিক ছুটে চলে যান গ্রামের বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখেন তার মা অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন। কোনো উপায় না পেয়ে দৌড়ে গেলেন ডাক্তার আনতে। খেয়াঘাটে গিয়ে দেখেন মাঝি নেই, এমনকি নৌকার বৈঠাও নেই। তিনি তৎক্ষণাৎ ঝাঁপিয়ে জলে পড়ে গিয়ে দড়ি টেনে নৌকা পার করে ডাক্তার নিয়ে আসেন এবং মাকে সুস্থ করে তুলেন। বামাক্ষেপার ক্ষেত্রেও আমরা দেখতে পাই তিনি তাঁর মাকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন। মা রাজকুমারী মারা যাওয়ার পর তার দেহ তারাপীঠে আনা হয়। বর্ষাকালে নদীতে ঢেউ থাকার কারণে ওপারে তারাপীঠ শ্মশানে কেউ যেতে সাহস পাচ্ছে না। তখন বামাক্ষেপার ইচ্ছানুযায়ী তিনি তাঁর মায়ের দেহকে তাঁর দেহের সঙ্গে বেঁধে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওপারে নিয়ে এলেন। কারণ তার মনের ধারণা তারাপীঠের শ্মশানে তার মায়ের দেহ দাহ করলে তার মায়ের আত্মার সৎগভি হবে। তারপর তাঁর মায়ের দেহ তারাপীঠের শ্মশানে দাহ করলেন।

সুতরাং সন্তোষ বাবুর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসা ও অগাধ মাতৃভক্তির সাথে বামাক্ষেপার নদীতে ঝাঁপ দিয়ে মায়ের দেহ ও তারাপীঠের শ্মশানে নিয়ে যাওয়া ও মাতৃভক্তির মিল পাওয়া যায়।

উত্তরঃ

সন্তোষ বাবু গ্রামের একজন শিক্ষিত মানুষ। চাকরির সুবাদে তার শহরে থাকতে হয়। শহরে থাকলেও তিনি সবসময় বাড়ির খোঁজখবর রাখেন। কারণ তার মা বাড়িতে থাকেন। তিনি তার মাকে খুবই ব্যক্তি ও শ্রদ্ধা করেন। একদিন তিনি শুনতে পান তার মা অসুস্থ হয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। তিনি দেরি না করে তাড়াহুড়া করে ছুটে আসেন বাড়িতে। তাড়াতাড়ি ডাক্তারের খোঁজে গিয়ে দেখেন নদীতে খেয়া নৌকা পড়ে আছে। নৌকার মাঝি নেই, বৈঠাও নেই। তিনি আর দেরি না করে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে রশি টেনে নৌকা পার করে ডাক্তারের ব্যবস্থা করলেন এবং মাকে সুস্থ করে তুললেন।

সাধক বামাক্ষেপার বেলায়ও আমরা দেখতে পাই, তিনি তার মাকে খুবই শ্রদ্ধা করতেন। মায়ের প্রতি তাঁর ছিল অবিচল ভক্তি। মায়ের মৃত্যুর পর তিনি তারাপীঠের শ্মশানে মাকে দাহ করতে নিয়ে এলে নদীতে প্রচন্ড ঢেউ থাকার কারণে ওপারে শ্মশানে কেউ যেতে সাহস পাচ্ছে না। কিন্তু তার একান্ত ইচ্ছা তারাপীঠে তার মায়ের দেহ দাহ-করলে তাঁর মায়ের আত্মার সৎগতি হবে। অবশেষে মায়ের দেহকে নিজের দেহের সাথে বেঁধে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওপারে তারাপীঠের শ্মশানে পৌঁছান। ওখানে নিয়ে মায়ের দেহ দাহ করেন।

সুতরাং সন্তোষ বাবুর কর্মকান্ড ও সাধক বামাক্ষেপার কর্মকাণ্ড পর্যালোচনায় এটি বলা যায়, সন্তোষ বাবুর মাতৃভক্তি যেন বামাক্ষেপারই প্রতিচ্ছবি ।

122

ভারতবর্ষে অনেক মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারী জন্মগ্রহণ করেছেন। আজীবন তাঁরা জগতের কল্যাণ করেছেন। মানুষের মঙ্গল করেছেন। তাঁদের জীবনী থেকে আমরা অনেক কিছু শিখতে পারি। আমাদের জীবন সুন্দরভাবে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারি। তাই তাঁদের জীবনী আমাদের কাছে আদর্শ জীবনচরিত হিসেবে বিবেচ্য। এ অধ্যায়ে পাঁচজন আদর্শ মহাপুরুষ এবং মহীয়সী নারীর জীবনচরিত বর্ণনা করা হলো। তাঁরা হলেন শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী, রাণী রাসমণি, শ্রীরামকৃষ্ণ ও বামাক্ষেপা।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • শ্রীকৃষ্ণের শৈশবকালের জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
  • নৈতিক চরিত্র গঠনে শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শের শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • নৈতিকতা গঠনে শ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবনাদর্শের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
  • রাণী রাসমণির জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানতে পারব
  • রাণী রাসমণির সংস্কারমূলক কার্য বর্ণনা করতে পারব
  • নৈতিক চরিত্র গঠনে শ্রীরামকৃষ্ণের জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
  • নৈতিক চরিত্র গঠনে বামাক্ষেপার জীবনাদর্শ বর্ণনা করতে পারব
  • মহাপুরুষ ও মহীয়সী নারীদের জীবনাদর্শের শিক্ষা নিজ জীবনাচরণে মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ হব
  • পাঠ্যপুস্তক বহির্ভূত মহাপুরুষ-মহীয়সী নারীদের জীবনী ও অবদান সম্পর্কে অনুসন্ধান পরিচালনা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

শ্রীকৃষ্ণ জন্মের পূর্বে মাথুরায় কংস রাজা জনগণের ওপর নানা ধরনের অত্যাচার করছিল। নিজের পিতাকে বন্দি করে কংস সিংহাসন দখল করে। এই কংসকে ধ্বংস করে জগতের কল্যাণের জন্য তিনি মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীকৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। জগতে যখন অধর্ম বেড়ে যায় তখন ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অবতাররূপে ভগবান পৃথিবীতে অবতরণ করেন। আর এ কারণেই শ্রীকৃষ্ণ মধুরা রাজ্যকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মানবরূপে জন্মগ্রহণ করেন।

92
উত্তরঃ

'রানি রাসমনি জমিদারির পাশাপাশি জনকল্যাণ ও ধর্মচর্চা সমানভাবে করে গেছেন। তিনি পুণ্যভূমি জগন্নাথ ক্ষেত্রে যান। সেখানকার রাস্তাঘাট ছিল জরাজীর্ণ। বর্ষাকালে সেখানে প্রচুর কাদামাটি তৈরি হতো। এ কারণে তীর্থযাত্রীদের খুব কষ্ট হতো চলাফেরা করতে। রাসমনি তাঁদের সুবিধার কথা চিন্তা করে সমস্ত রাস্তা - সংস্কার করেন। শুধু তা-ই নয়, ষাট হাজার টাকা ব্যয় করে তিনি জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এ তিন বিগ্রহের জন্য হীরকখচিত তিনটি মুকুট তৈরি করে দেন। তিনি জগন্নাথদেবের জন্য ১,২২,১১৫ টাকা ব্যয় করে জন্য রূপার রথ তৈরি করেন।

109
উত্তরঃ

বামাক্ষেপা তারামায়ের ভক্ত হলেও নিজের মাকে খুব শ্রদ্ধা করতেন। মা রাজকুমারী মারা যাওয়ার পর তাঁর দেহ তারাপীঠে আনা হয়। বামা তখন দ্বারকা নদীর ওপারে তারাপীঠ শ্মশানে। বর্ষাকালে নদীতে প্রচন্ড ঢেউ। তাই ভয়ে কেউ মৃতদেহ ওপারে শ্মশানে নিতে চাইছে না। এপারেই দাহ করার আয়োজন করছে। কিন্তু মায়ের আত্মার সদ্গতির জন্য তারাপীঠের শ্মশানেই তাঁকে দাহ করা দরকার। এ কথা ভেবে বামাক্ষেপা মা তারার নাম নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিলেন। এপারে এসে মায়ের শরীর নিজের সঙ্গে বেঁধে সাঁতার কেটে ওপারে গেলেন এবং তারাপীঠ শ্মশানে মায়ের দেহ দাহ করলেন। এভাবে বামা মায়ের আত্মার সদ্‌গতি করেন।

149
উত্তরঃ

লোকনাথকে এক গোয়ালিনী দুধ দিতেন তিনি গোয়ালিনীকে মা বলে ডাকতেন। কারণ লোকনাথ জাতি, ধর্ম, বর্ণের বিচার করতেন না। তাঁর কাছে সব মানুষই ছিল সমান। সমাজের উঁচু-নিচু সবাইকে সমান মর্যাদা দিতেন তিনি। জীবের সেবা করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জীবসেবাই ইশ্বর সেবা। তিনি জীবের মধ্যেই ব্রহ্মের উপস্থিতি উপলব্ধি করতেন। জীবের কল্যাণে তিনি আনন্দ পেতেন। আর এ কারণে তিনি ছোট-বড়, উঁচু-নিচু ভেদাভেদ করতেন না। তাছাড়া গোয়ালিনীকে তিনি স্বপ্নে মা রূপে দেখেছিলেন। তাই গোয়ালিনীকে তিনি মা বলে ডাকতেন।

106
উত্তরঃ

'কৃষ্ণস্ত ভগবান স্বয়ম'-এই কথাটির অর্থ হলো শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছে ষয়ং ভগবান। জগতের কল্যাণের জন্য তিনি অবতরণ করেছিলেন এই ধরাধমে। দুষ্টকে দমন করে তিনি শিষ্টের পালন করেছিলেন।

222
উত্তরঃ

কংস যখন তার বোন দেবকীকে রথে করে তার স্বামী বসুদেবের ঘরে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন, তখন কংস একটি অদ্ভুত দৈববাণী শুনতে পেল। দৈববাণীটি এরকম-'শোন কংস, দেবকীর অষ্টম গর্ভের সন্তান তোমায় হত্যা করবে।' এ কথা শুনে কংস ক্ষেপে গিয়ে দেবকীকে হত্যা করতে উদ্যত হন।

109
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews