স্বৈর = স্ব + ঈর
সন্ধি বাংলা ব্যাকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে দ্রুত উচ্চারণের সুবিধার্থে দুটি সন্নিহিত ধ্বনির মিলন ঘটে। ‘ইচ্ছা’ শব্দটি ব্যঞ্জন সন্ধির একটি উদাহরণ এবং এটি একটি তৎসম শব্দ, অর্থাৎ সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষায় এসেছে।
‘ইচ্ছা’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ হলো ইষ্ + ছা। এখানে মূল ধাতু হলো ‘ইষ্’ (যার অর্থ কামনা করা বা চাওয়া) এবং ‘ছা’ একটি প্রত্যয়। এই সন্ধিতে ‘ষ্’ ধ্বনির বিশেষ পরিবর্তন ঘটে, যা সংস্কৃত ব্যঞ্জন সন্ধির কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের উপর নির্ভরশীল। এটি বাংলা ব্যাকরণের সন্ধি আলোচনায় তৎসম শব্দের ধ্বনিতাত্ত্বিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
যদিচ্ছা = যদি + ইচ্ছা
মহর্ষি = মহা + ঋষি
অহরহ = অহঃ + অহ
Related Question
View All"ষান্মাসিক" শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: ষট্ + মাসিক।
"ষান্মাসিক" শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ হলো: ষষ্ঠ+মাসিক
সন্ধি হলো দুটি সন্নিহিত ধ্বনির মিলন। বাংলা ব্যাকরণে সন্ধি মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে: স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি। 'শয়ন' শব্দটি স্বরসন্ধির একটি উদাহরণ, যা মূলত অয়াদি স্বরসন্ধির নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে।
অয়াদি স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, 'এ'-কার (এ) এর পর অন্য কোনো স্বরধ্বনি থাকলে 'এ' স্থানে 'অয়' হয়।
- নিয়ম: এ + অন্য স্বরধ্বনি = অয়
- উদাহরণ: শে + অন = শয়ন
এখানে, 'শে' এর 'এ' ধ্বনির সাথে 'অন' এর 'অ' ধ্বনির মিলন হয়ে 'অয়' রূপান্তর হয়েছে, ফলে শব্দটি 'শয়ন' গঠিত হয়েছে।
পর্যালােচনা শব্দটি একটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। এটি ই-কারের পর ই বা ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে য হয় এই নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত। এখানে 'পরি' শব্দের শেষে থাকা 'ই' কার এবং 'আলােচনা' শব্দের শুরুতে থাকা 'আ' স্বরবর্ণ মিলিত হয়ে 'যা' হয়েছে, যার ফলে 'পর্যালােচনা' শব্দটি গঠিত হয়েছে। এটি য-ফলা আগমের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ, যা বাংলা ব্যাকরণে সন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অতি + ইব
‘অতীব’ শব্দটি স্বরসন্ধির একটি উদাহরণ। এখানে ‘অতি’ শব্দের শেষ বর্ণ ‘ই’ এবং ‘ইব’ শব্দের প্রথম বর্ণ ‘ই’ মিলিত হয়ে ‘ঈ’ (দীর্ঘ ই-কার) হয়েছে। স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী, ‘ই’ (হ্রস্ব ই-কার) অথবা ‘ঈ’ (দীর্ঘ ই-কার)-এর পর ‘ই’ অথবা ‘ঈ’ থাকলে উভয় মিলে ‘ঈ’ হয়। এই নিয়ম অনুসারে, অতি + ইব = অতীব।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!