লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
রফিক-শফিকের চোঙা ফোঁকার ঘটনাটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, বাদলদের গাছে কাগজের লিফলেট দেওয়ার ঘটনার সাথে সংগতিপূর্ণ।
সৎ ও নির্লোভ হওয়া মানুষের অন্যতম গুণ। আর সততার মাধ্যমে সমাজের অনেক মহৎ কর্ম সম্পাদন করা যায়। সৎ মানুষরা সুখী হয়।
উদ্দীপকের রফিক ও শফিকের বাড়িতে নিজেদের ছাগলের সঙ্গে অন্য একটি ছাগল আথালে ঢুকে পড়ে। তাই তারা দাদুর পরামর্শমতো ছাগলের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার জন্য চোঙা নিয়ে গাঁয়ে ঘোষণা দেয়। তারা যার ছাগল তাকে এসে মতিন শিকদারের বাড়ি থেকে নিয়ে যেতে বলে। উদ্দীপকের এ ঘটনাটির সঙ্গে বিধুদের টাকার বাক্স পড়ে পাওয়া ও বাক্সের প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার জন্য নদীর ধারে রাস্তায় ভিন্ন ভিন্ন গাছে কাগজের লিফলেট লাগানোর ঘটনার মিল রয়েছে। এখানেই উদ্দীপকের ঘটনা আলোচ্য গল্পের ঘটনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
"উদ্দীপকের দাদু যেন 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল চেতনারই প্রতিভূ।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
নির্লোভ মানসিকতা ও দায়িত্বশীলতা মনুষ্যত্বের পরিচয় দেয়। আর এর দ্বারা অপরের কল্যাণ সাধিত হয়। নির্লোভ ব্যক্তি সবার কাছে সম্মান পায়।
উদ্দীপকের রফিক, শফিক দাদুর কথামতো ছাগল পাওয়ার ঘটনাটি গ্রামে জানায়। কারণ দাদু জানে ছাগলটি তাদের নয়, আর যে ব্যক্তির ছাগলটি হারিয়েছে সে হয়তো ছাগলের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও বাক্সের মালিকের কথা চিন্তা করে বাক্সটি অক্ষত রেখেছে এবং প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করে তার হাতে বাক্সটি বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এ ব্যাপারে উদ্দীপকের দাদুর মতো বিধুরাও সততার পরিচয় দিয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে কিশোরদের ঐক্যচেতনার যেমন পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনই তাদের উন্নত মানসিক বোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। কিশোদের এমন সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধ আলোচ্য গল্পের মূল চেতনা। উদ্দীপকের দাদু চরিত্রে সেই চেতনারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। সুতরাং মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!