যেসব উদ্ভিদের দেহে মূল, কান্ড ও পাতা থাকে এবং ফুল, ফল ও বীজ হয় সেসব উদ্ভিদকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে।
ইতোপূর্বে আমরা বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিকরণ সম্পর্কে জেনেছি। আমরা জানি, উন্নত উদ্ভিদ দুই ধরনের যথা নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ। আবৃতবীজী উদ্ভিদকে একটি আদর্শ উদ্ভিদ হিসেবে ধরে তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী তা আমরা এ অধ্যায়ে জানব। একটি সপুষ্পক উদ্ভিদের কোন কোন অংশ থাকে, কোথায় তাদের অবস্থান তা জানব। এর প্রধান অংশগুলোর প্রকারভেদ, কাজ ও মানবজীবনে এসব অঙ্গের অবদান কী তা আলোচনা করা হবে।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
- উদ্ভিদের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- মূলের প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- কাণ্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পাতার প্রধান বৈশিষ্ট্য, বিভিন্ন অংশ, প্রকারভেদ এবং কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- উদ্ভিদ এবং মানবজীবনে মূল, কাণ্ড ও পাতার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- উদ্ভিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ প্রদর্শন করব।
Related Question
View Allউদ্ভিদের যে অংশগুলো মাটির উপরে থাকে তাদের একত্রে বিটপ বলে। বিটপে কান্ড, পাতা, ফুল ও ফল থাকে।
চিত্রের A ও B চিহ্নিত অংশ দুটি উদ্ভিদের কান্ড ও মূল। নিচে এদের পার্থক্য তুলে ধরা হলো-
A (কান্ড) | B (মূল) |
১. কান্ড ভ্রূণের ভূণমুকুল থেকে উৎপন্ন হয়। | ১. মূল ভ্রূণের ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন হয়। |
২. উদ্ভিদদেহের ঊর্ধ্বগামী অঙ্গ গঠন করে। | ২. উদ্ভিদের নিম্নগামী অঙ্গ গঠন করে। |
৩. এতে পর্ব ও মধ্যপর্ব থাকে এবং শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুল, ফল ধারণ করে। | ৩. এতে পর্ব ও মধ্যপর্ব থাকে না। কেবল শাখা-প্রশাখা, মূল ধারণ করে। |
৪. এর অগ্রভাগে মূলত্রের পরিবর্তে অগ্রমুকুল থাকে। | ৪. এর অগ্রভাগে মূলত্র থাকে। |
৫. কাণ্ডের বর্ণ সাধারণত সবুজ, অবস্থা বিশেষে বর্ণহীন। | ৫. মূল সাধারণত বর্ণহীন; অবস্থা বিশেষে বর্ণ যুক্ত হয়। |
চিত্রের A ও B চিহ্নিত অংশগুলো যথাক্রমে উদ্ভিদের কান্ড ও মূল। নিচে এদের গুরুত্ব আলোচনা করা হলো-
কান্ডের গুরুত্ব:.
১. কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভার বহন করে।
২. উদ্ভিদের কান্ড থেকে আমরা আসবাবপত্র, খুঁটি ইত্যাদি তৈরি করি।
৩. অনেক উদ্ভিদের কাণ্ড আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি।
৪. কাণ্ডের মধ্য দিয়ে মূল দ্বারা শোষিত পানি, খনিজ লবণ ইত্যাদি উদ্ভিদের শাখা-প্রশাখা, পাতায়, ফুলে এবং ফলে বাহিত হয়।
৫. এটি পাতায় প্রস্তুত খাদ্য দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে সহায়তা করে।
মূলের গুরুত্ব:
১. মূল উদ্ভিদটিকে মাটির সাথে শক্তভাবে আটকে রাখে ফলে ঝড় বাতাসে সহজে হেলে পড়ে না।
২. মূল মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। মূলে মূলরোম অঞ্চল বলে একটি অংশ থাকে। এখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম রোম উৎপন্ন হয়, যার মাধ্যমে উদ্ভিদ পানি ও খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করে।
৩. কিছু কিছু উদ্ভিদ যেমন- মুলা, শালগম, গাজর ইত্যাদির মূল আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি।
৪. অনেক উদ্ভিদের মূল থেকে ভেষজ ঔষধ তৈরি করা হয়। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, A ও B অর্থাৎ, কাণ্ড ও মূলের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
উদ্ভিদের যে অংশ পর্ব, পর্বমধ্য ও অগ্রমুকুলবিহীন তাকে মূল বলে।
আম পাতার বৃন্তের উপরে একটি মাত্র ফলক থাকে। তাই একে সরলপত্র বলে। আম পাতার ফলকটি অখণ্ডিত। এ পাতার মধ্যশিরাকে প্রধান শিরা বলে যা থেকে শিরা, উপশিরাগুলো বের হয়ে আসে। আমপাতার কিনারা অখন্ডিত বা অসম্পূর্ণভাবে খন্ডিত থাকে।
প্রাপ্তি ও প্রমির পর্যবেক্ষণকৃত উদ্ভিদ কান্ডের কোনোটির শাখা-প্রশাখার বিন্যাস মঠ আকৃতির, আবার কোনটি গম্বুজ আকৃতির। নিচে পর্যবেক্ষণকৃত উদ্ভিদ কান্ডের কাজ বর্ণনা করা হলো-
১. কাণ্ড পাতা, ফুল ও ফল এবং শাখা-প্রশাখার ভার বহন করে।
২. কান্ড শাখা-প্রশাখা ও পাতাকে আলোর দিকে তুলে ধরে যাতে সূর্যের আলো যথাযথভাবে পায়।.
৩. কাণ্ড শোষিত পানি ও খনিজ লবণ তার শাখা-প্রশাখা, পাতা, ফুলে এবং ফলে পরিবহন করে।
৪. পাতায় প্রস্তুত খাদ্য কান্ডের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।
৫. কচি অবস্থায় সবুজ কাণ্ড সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে কিছু পরিমাণ খাদ্য প্রস্তুত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!