বুদ্ধত্ব লাভের পর বুদ্ধ বোধিবৃক্ষের পাশে সাতটি স্থানে ঊনপঞ্চাশ .. দিন অবস্থান করেন। সে সময় কখনো তিনি ধ্যানমগ্ন, কখনো পদচারণ করেছেন। কখনো তাঁর উদ্ভাবিত নবধর্ম সম্পর্কে চিন্তা করেছেন। বোধিবৃক্ষের চারপাশে এই যে সাতটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, সেই সাতটি স্থানকে সপ্ত মহাস্থান বলা হয়।
'বন্দনা' বৌদ্ধদের নিত্য পালনীয় একটি কর্ম। বন্দনা হলো গুণরাশি স্মরণ ও অনুকরণ করার প্রক্রিয়াবিশেষ। ধার্মিক, জ্ঞানী এবং গুণী ব্যক্তি বন্দনার যোগ্য। মানবচিত্ত সব সময় লোভ-দ্বেষ-মোহাদি পাপে লিপ্ত থাকে। বন্দনা মানুষের মনের কালিমা বিদূরিত করে এবং ত্রিরত্নের প্রতি শ্রদ্ধা জাগ্রত করে। বুদ্ধ বলেছেন, শ্রদ্ধার দ্বারা মহাপ্লাবন অতিক্রম করা যায়। মানবশিশুর বৃদ্ধির জন্য মাতৃদুগ্ধ যেমন খুবই দরকার, তেমনি চিত্তের বিকাশ লাভ করার জন্য প্রতিদিন বন্দনা করা আবশ্যক। এ অধ্যায়ে বন্দনার সুফল, নিয়মাবলি, দন্তধাতু, সপ্ত মহাস্থান এবং মাতৃ-পিতৃ বন্দনা সম্পর্কে পড়ব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- বন্দনা সম্পর্কে বলতে পারব;
- বন্দনা করার নিয়মাবলি বর্ণনা করতে পারব;
- বন্দনার সুফল ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allজ্ঞানীগুণী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা, সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাদের গুণরাশির স্তুতি করাই হচ্ছে বন্দনা।
বুদ্ধের দন্তধাতুর বন্দনাটির বাংলা অনুবাদ নিচে দেওয়া হলো-
বুদ্ধের একটি দন্ত ত্রিদশালয়ে, একটি নাগলোকে, একটি গান্ধার রাজ্যে, একটি সিংহল দ্বীপে রয়েছে। নির্বাণ রস প্রদানকারী এ চারটি মহাদন্ত নর ও দেবগণের দ্বারা পূজিত। আমিও সেই চার দন্তধাতুকে ভক্তিসহকারে বন্দনা করছি।
পিতামাতা, ভাইবোন এবং আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে বন্দনা করাকে সমবেত বন্দনা বলে।
বন্দনা শব্দের বিভিন্ন 'রকম অর্থ রয়েছে। যেমন- প্রণাম, নমস্কার, অভিবাদন, শ্রদ্ধা, ভক্তি, সম্মান প্রভৃতি। মূলত গুণী ও জ্ঞানী ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা, সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাঁদের গুণরাশি স্মরণ ও অনুকরণ করে স্তুতি করাই হচ্ছে বন্দনা। বন্দনা বৌধধর্মে নিত্যপালনীয় কর্ম।
বুদ্ধ শব্দের অর্থ মহাজ্ঞানী। তিনি ছিলেন মানব-পুত্র। তাঁকে মহামানব বলা হয়। তাছাড়া তিনি অসীম গুণরাশির অধিকারী ছিলেন। ভাই তাঁর অসীম গুণের স্তুতি বা প্রশংসা করে, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে সুন্দর জীবন গঠনের জন্য আমরা বুদ্ধদেবকে বন্দনা করে থাকি।
মানবজীবনে বন্দনার প্রভাব অপরিসীম। বন্দনার মাধ্যমে মন পবিত্র হয়। পুণ্য লাভ হয়। চিত্ত শুদ্ধ হয়। অশান্ত মন শান্ত ও সংযত হয়। লোড, দ্বেষ এবং মোহ দূরীভূত হয়। সৎচিন্তা আসে ও ধৈর্যশক্তি বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, ইহলোকে ও পরলোকে সুখ লাভ হয়। তাই আমরা নিয়মিত বন্দনা করি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!