সফটওয়ার কাকে বলে? কত প্রকার ও কী কী?

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

সফটওয়্যার হলো একগুচ্ছ প্রোগ্রাম, প্রক্রিয়া এবং রুটিনের সমষ্টি যা একটি কম্পিউটার সিস্টেমকে নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে নির্দেশ দেয়। এটি প্রধানত দুই প্রকার: সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার।


কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি জগতে সফটওয়্যার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে কার্যকর করে তোলে এবং ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন কাজ সম্পাদনে সহায়তা করে।

সফটওয়্যার (Software) কাকে বলে?
সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারকে পরিচালনা করতে এবং নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে ব্যবহৃত নির্দেশাবলী, ডেটা বা প্রোগ্রামের সমষ্টি। এটি একটি অস্পর্শনীয় বা ভার্চুয়াল উপাদান যা হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে কাজ করে। সফটওয়্যারের অনুপস্থিতিতে কম্পিউটার একটি জড় যন্ত্র মাত্র, যা কোনো কাজ করতে পারে না। সহজ কথায়, সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের 'মস্তিষ্ক' যা হার্ডওয়্যারকে 'শরীর' হিসেবে ব্যবহার করে।

সফটওয়্যারের প্রকারভেদ:
সফটওয়্যারকে মূলত দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়:

        
  • ১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software):
            এগুলো এমন সফটওয়্যার যা কম্পিউটার হার্ডওয়্যারকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালানোর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে। সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারের মৌলিক কাজ যেমন - বুট করা, ফাইল ব্যবস্থাপনা, মেমরি ব্যবস্থাপনা, প্রসেস নিয়ন্ত্রণ এবং ইনপুট/আউটপুট ডিভাইস পরিচালনা করে।

            
                  
    • অপারেটিং সিস্টেম (Operating System - OS): এটি কম্পিউটারের প্রধান সিস্টেম সফটওয়্যার। যেমন - Windows, Linux, macOS, Android, iOS।
    •             
    • ডিভাইস ড্রাইভার (Device Drivers): যা হার্ডওয়্যার ডিভাইস (যেমন - প্রিন্টার, মাউস, কীবোর্ড) এবং অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে।
    •             
    • ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software): কম্পিউটার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নত কার্যকারিতার জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন - অ্যান্টিভাইরাস (Antivirus), ডিস্ক ক্লিনার (Disk Cleaner), ফাইল কম্প্রেসার (File Compressor), ডেটা ব্যাকআপ টুল (Data Backup Tool)।
    •         
        
  •     
  • ২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software):
            এগুলো ব্যবহারকারীর নির্দিষ্ট কাজ বা চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি করা হয়। অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলো সিস্টেম সফটওয়্যারের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং ব্যবহারকারীকে বিভিন্ন প্রোডাক্টিভিটি বা বিনোদনমূলক কাজ সম্পাদনে সহায়তা করে।

            
                  
    • ওয়ার্ড প্রসেসর (Word Processor): নথি তৈরি ও সম্পাদনার জন্য। যেমন - Microsoft Word, Google Docs।
    •             
    • স্প্রেডশীট প্রোগ্রাম (Spreadsheet Program): ডেটা বিশ্লেষণ ও গাণিতিক হিসাবের জন্য। যেমন - Microsoft Excel, Google Sheets।
    •             
    • ওয়েব ব্রাউজার (Web Browser): ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্য। যেমন - Google Chrome, Mozilla Firefox, Microsoft Edge।
    •             
    • গ্রাফিক্স সফটওয়্যার (Graphics Software): ছবি তৈরি ও সম্পাদনার জন্য। যেমন - Adobe Photoshop, GIMP।
    •             
    • মিডিয়া প্লেয়ার (Media Player): অডিও ও ভিডিও ফাইল চালানোর জন্য। যেমন - VLC Media Player, Windows Media Player।
    •             
    • ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (Database Management System - DBMS): ডেটা সংরক্ষন ও ব্যবস্থাপনার জন্য। যেমন - MySQL, Microsoft Access।
    •         
        
Satt AI
Satt AI
1 week ago
2.5k

সফটওয়্যারকে প্রধানত এর কার্যকারিতা এবং ব্যবহার অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। কম্পিউটারের কাজ এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে সফটওয়্যারকে মূলত তিনটি প্রধান প্রকারে ভাগ করা হয়: সিস্টেম সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার, এবং প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার। এছাড়াও কিছু বিশেষায়িত সফটওয়্যারও আছে যা নির্দিষ্ট কাজ বা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয়।

১. সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software):

সিস্টেম সফটওয়্যার হলো এমন ধরনের সফটওয়্যার যা কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারগুলির মধ্যে একটি মধ্যস্থতা হিসেবে কাজ করে। এটি কম্পিউটারের বেসিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং হার্ডওয়্যারকে কার্যকর করে তোলে।

উদাহরণ:

  • অপারেটিং সিস্টেম (OS): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম সফটওয়্যার যা কম্পিউটারের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। উদাহরণ: Windows, macOS, Linux, Android।
  • ড্রাইভার সফটওয়্যার: এটি নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যার ডিভাইসের (যেমন প্রিন্টার, গ্রাফিক্স কার্ড) সঙ্গে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের সংযোগ স্থাপন করে।
  • ইউটিলিটি সফটওয়্যার: এটি সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক। উদাহরণ: অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার, ডিস্ক ক্লিনার, ব্যাকআপ সফটওয়্যার।

২. অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software):

অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীদের নির্দিষ্ট কাজ বা কার্যক্রম সম্পাদন করতে সহায়ক প্রোগ্রাম। এটি ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী তৈরি হয় এবং সাধারণত কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল।

উদাহরণ:

  • অফিস সফটওয়্যার: ডকুমেন্ট, স্প্রেডশিট, এবং প্রেজেন্টেশন তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Microsoft Office Suite (Word, Excel, PowerPoint)।
  • মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার: ছবি, ভিডিও, এবং অডিও সম্পাদনা বা প্লেব্যাকের জন্য ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Adobe Photoshop, VLC Media Player।
  • ইন্টারনেট ব্রাউজার: ইন্টারনেট ব্রাউজ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Google Chrome, Mozilla Firefox, Microsoft Edge।
  • বিনোদন এবং গেমিং সফটওয়্যার: ভিডিও গেম এবং বিনোদনমূলক সফটওয়্যার, যেমন Call of Duty, FIFA, এবং Candy Crush।
  • ইমেইল সফটওয়্যার: ইমেইল পাঠানোর এবং গ্রহণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Microsoft Outlook, Gmail, Thunderbird।

৩. প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার (Programming Software):

প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার হলো ডেভেলপারদের জন্য তৈরি করা প্রোগ্রাম, যা নতুন সফটওয়্যার বা অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রোগ্রামিং ভাষা, কোড এডিটর, এবং ডিবাগিং টুলস অন্তর্ভুক্ত করে।

উদাহরণ:

  • আইডিই (Integrated Development Environment): এটি প্রোগ্রামিং ভাষা এবং টুলস সমর্থন করে। উদাহরণ: Visual Studio, Eclipse, PyCharm।
  • কোড এডিটর: কোড লেখার জন্য একটি সহজ ইন্টারফেস প্রদান করে। উদাহরণ: Notepad++, Sublime Text, Atom।
  • কম্পাইলার এবং ইন্টারপ্রেটার: সোর্স কোডকে মেশিন কোডে রূপান্তর করতে সহায়ক সফটওয়্যার। উদাহরণ: GCC (GNU Compiler Collection), Python Interpreter।

৪. ইউটিলিটি সফটওয়্যার (Utility Software):

ইউটিলিটি সফটওয়্যার হলো সিস্টেম সফটওয়্যারের একটি অংশ, যা কম্পিউটার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পারফরম্যান্স বৃদ্ধি করতে সহায়ক। এটি সিস্টেমের নির্ভুলতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।

উদাহরণ:

  • অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার: কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, এবং অন্যান্য সাইবার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। উদাহরণ: Avast, Norton, McAfee।
  • ডিস্ক ক্লিনার: অপ্রয়োজনীয় ফাইল এবং ডেটা মুছে ফেলে সিস্টেমের পারফরম্যান্স উন্নত করে। উদাহরণ: CCleaner।
  • ব্যাকআপ সফটওয়্যার: গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এবং ডেটা ব্যাকআপ নিতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ: Acronis True Image।

৫. ওপেন সোর্স সফটওয়্যার (Open Source Software):

ওপেন সোর্স সফটওয়্যার হলো এমন ধরনের সফটওয়্যার যা ফ্রি এবং এর সোর্স কোড ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। ব্যবহারকারীরা এই সফটওয়্যার কাস্টমাইজ, উন্নয়ন, এবং শেয়ার করতে পারে।

উদাহরণ:

  • লিনাক্স (Linux): একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম।
  • GIMP: একটি ফ্রি এবং ওপেন সোর্স ইমেজ এডিটিং সফটওয়্যার।
  • LibreOffice: একটি ওপেন সোর্স অফিস সফটওয়্যার।

৬. মালওয়্যার (Malware):

মালওয়্যার হলো একটি ক্ষতিকর সফটওয়্যার যা কম্পিউটার এবং ব্যবহারকারীর তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এটি ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া সিস্টেমে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর কাজ সম্পাদন করে।

উদাহরণ:

  • ভাইরাস: কম্পিউটারের ফাইল এবং প্রোগ্রামে সংক্রমিত হয় এবং সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করে।
  • ট্রোজান হর্স: ব্যবহারকারীর অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করে এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষতিকর কাজ সম্পাদন করে।
  • স্পাইওয়্যার: ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি করতে ব্যবহৃত হয়।

৭. এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার (Enterprise Software):

এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার হলো বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থার জন্য তৈরি করা সফটওয়্যার, যা তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা এবং সমন্বয় করতে সহায়ক।

উদাহরণ:

  • ERP (Enterprise Resource Planning) সফটওয়্যার: যা ব্যবসায়িক রিসোর্স, ইনভেন্টরি, মানবসম্পদ এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করে।
  • CRM (Customer Relationship Management) সফটওয়্যার: যা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্পর্ক পরিচালনা করে। উদাহরণ: Salesforce।
  • সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার: যা সরবরাহ চেইন এবং উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে।

সারসংক্ষেপ:

সফটওয়্যারকে কার্যকারিতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকারে ভাগ করা যায়। প্রতিটি প্রকার সফটওয়্যার নির্দিষ্ট কাজ এবং কার্যক্রম সম্পাদন করতে সহায়ক, এবং এটি কম্পিউটার সিস্টেম এবং ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Related Question

View All
উত্তরঃ

 version:   হলো Software release life cycle এর প্রথম ধাপ যেখান থেকে Software টেস্টিং শুরু করা হয়। এই ধাপে ডেভলপাররা Software টি White box টেস্টিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে। এই কাজটি করার জন্য সাধারণত আলাদা একটি টেস্টিং দল থাকে। 

β - version : β হলো Software ডেভলপমেন্টের এমন এক ধাপ যা  এর পরে সম্পন্ন করতে হয়। কোন Software এর বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হওয়ার পর এই ধাপটি শুরু হয়। β - version এর মূল লক্ষ্য হল Software এর এমন কিছু পরিবর্তন করা যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সুবিধা হয়, বেস্ট সংস্করণগুলো ব্যবহারকারীদের নিকট পৌঁছে দেয়ার পদ্ধতি বেটা রিলিজ নামে পরিচিত। এই সময়েই সর্বপ্রথম ডেভলপমেন্ট চলছে এমন কোন Software নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে সাধারণের মাঝে উন্মুক্ত করা হয়।

PRONAY TIRKI
PRONAY TIRKI
2 years ago
254
উত্তরঃ

সফটওয়্যার হলো কোন নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য একগুচ্ছ প্রোগ্রামের সমষ্টি। যেমন: বিজয়, মাইক্রোসফট অফিস, গুগল ক্রোম ইত্যাদি। সফটওয়্যার ২ প্রকার।

283
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews