কোনো প্রচলিত ব্যবস্থার আকস্মিক, আমূল ও দ্রুত পরিবর্তন সাধিত হওয়াই বিপ্লব।
নগরায়ণ বলতে এমন একটি প্রক্রিয়াকে বোঝায় যেখানে মানুষ কৃষিভিত্তিক পেশা বা জীবন পদ্ধতি থেকে অকৃষি বা শিল্পভিত্তিক জীবন পদ্ধতিতে স্থানান্তরিত হয়।
প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী নগরায়ণ হলো বসবাসের জন্য গ্রামীণ মানুষের ক্রমান্বয়ে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা বা কোনো গ্রামীণ সমাজে শহর জীবনের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হওয়া। অর্থাৎ নগরায়ণ হলো এমন একটি জীবনধারা যেখানে মানুষের পেশা, জীবনধারণ পদ্ধতি, চিন্তাচেতনা সবকিছুতে শহরকেন্দ্রিক প্রবণতা দেখা যায়
উদ্দীপকের ব্যক্তিদের কার্যক্রমে সমাজকর্মের কর্মহীন দরিদ্র, অসহায় ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্দেশ্যটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সমাজকর্ম সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো সমাজের দরিদ্র, দুস্থ, অসহায় ও সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তোলা। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা কর্মহীন দরিদ্রদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলে। উদ্দীপকের ব্যক্তিদের কার্যক্রমে সমাজকর্মের এই উদ্দেশ্যটি ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সবুজবাগ থানার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকার দুস্থ মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এতে এলাকার দুস্থ, অসহায় মানুষগুলো স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। তাদের কর্মকাণ্ড সমাজকর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য সমাজের অসহায় দরিদ্রদের স্বাবলম্বী করে তোলার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ব্যক্তিদের কার্যক্রমে সমাজকর্মের দরিদ্র, অসহায় মানুষদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সবুজবাগ ত্রাণ বিতরণ সংঘ'-এর মতো সংগঠন অর্থাৎ দান সংগঠন সমিতিই সমাজকর্ম পেশার বিকাশে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে।
সমাজকর্ম পেশার বিকাশে যেসব সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সেগুলোর মধ্যে দান সংগঠন সমিতি অন্যতম। শিল্প বিপ্লবের আগে সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিতভাবে পরিচালিত হতো। এসব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সর্বপ্রথম ১৮৬৯ সালে ইংল্যান্ডে দান সংগঠন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইংল্যান্ডে এ সমিতি দরিদ্রদের সহায়তা প্রদানে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করে। এর ফলে সমাজকল্যাণমূলক কাজগুলো সুসংগঠিতভাবে হয়। সরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সাহায্যের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে দরিদ্রদের ত্রাণ ও বেসরকারি দানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়। এরপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও দান সংগঠন সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়, যা সমাজকর্ম পেশার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ সমিতি দরিদ্রদের সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের সমস্যা সমাধানে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় দান সংগঠন সমিতি 'সমাজসেবা শিক্ষা কোর্স' চালু করে যা সমাজকর্ম পেশার বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরবর্তীতে এনাএল ডায়েস, ম্যারি-রিচমন্ড এবং 'The Survey' পত্রিকা সমাজকর্ম পেশার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় সবুজবাগ এলাকায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে ত্রাণ, সামগ্রী আসে। এসব ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সমন্বয় করার জন্য 'সবুজবাগ ত্রাণ বিতরণ সংঘ' প্রতিষ্ঠা করা হয় যা উপরে বর্ণিত দান সংগঠন সমিতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এ সংগঠনটিই সমাজকর্ম পেশার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, 'সবুজবাগ ত্রাণ বিতরণ সংঘ' এর মতো সংগঠন সমাজকর্ম পেশার বিকাশে বিশেষ অবদান রেখেছে।
Related Question
View Allহেনরীয় দরিদ্র আইন প্রণয়ন করেন ইংল্যান্ডের রাজা অষ্টম হেনরি।
আত্মনির্ভরশীলতা বলতে যেকোনো বিষয়ে ব্যক্তির আত্মনিয়ন্ত্রণকে বোঝায়।
সমাজকর্মে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সাহায্যার্থীকে এমনভাবে সাহায্য করা হয় যেন সে নিজেই নিজেকে সাহায্য করতে পারে। সক্ষমতা অর্জন করতে পারাই আত্মনির্ভরশীলতা। এ গুণ অর্জনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করতে পারেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস তাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলে।
উদ্দীপকের রফিক সমাজকর্ম পেশার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সমাজকর্ম হলো একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। এ পেশায় নিয়োজিত সমাজকর্মীরা সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে সমাজে বসবাসকারী ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সহায়তা করেন। এক্ষেত্রে তারা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেন। উদ্দীপকের রফিকও তাই করেছেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কারখানায় কাজ করার সময় আতিক সাহেবের হাত কেটে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা খরচ হয় যা তার পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় তার সমস্যা সমাধানে রফিক এগিয়ে আসেন। তিনি নিজের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে আতিক সাহেবকে সাহায্য করেন। তিনি আইনের সহায়তায় কারখানা থেকে তাকে ক্ষতিপূরণও পাইয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ রফিক সমাজকর্মীর মতো সমাজকর্মের জ্ঞান ও দক্ষতা প্রয়োগ করে আতিক সাহেবের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহায়তা করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রফিক সমাজকর্ম পেশার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
আতিকের সহায়তায় ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া হয়েছে যা পরবর্তী সময়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ইংল্যান্ডে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ সমস্যা মোকাবিলার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার স্যার উইলিয়াম বিভারিজকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করে। সার্বিক বিশ্লেষণে- এ কমিটি ১৯৪২ সালে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করে যা বিভারিজ রিপোর্ট নামে পরিচিত। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ১৯৪২ সালে ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তায় সামাজিক বিমা, পারিবারিক ভাতা, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বা শিল্প দুর্ঘটনা বিমা, সরকারি সাহায্য, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি প্রভৃতি প্রণয়ন করা হয়। এসব কর্মসূচির আওতায় স্বাস্থ্য, বার্ধক্য ও পড়া বিমা; শিশু জন্ম-মৃত্যুর জন্য বিশেষ ভাতা, পরিবারে দুইয়ের অধিক ১৮ বছরের কমবয়সী সন্তানের জন্য ভাতা, শিল্প দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ক্ষতিপূরণ, দরিদ্রদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কাজের ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
ইংল্যান্ডে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রণয়নের ফলে সমাজের দুস্থ, অসহায় ও দরিদ্ররা সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা পেতে থাকে। অনেকের কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসে সরকারিভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় জনগণের চিকিৎসার চাহিদাও পূরণ হয় যা জনসাধারণের সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এভাবে বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এর ফলে বিশ্বে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ধারণা সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আতিক সাহেব কারখানায় কাজ করতে গিয়ে আহত হন। তিনি চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে রফিক তাকে সহযোগিতা করেন। এ সময় রফিক ১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রণীত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কারখানা থেকে' আতিক সাহেবকে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেন। আর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো জনগণের কল্যাণ সাধনে ভূমিকা রেখেছিল যা দেখে বিশ্বের অন্য দেশগুলো অনুপ্রাণিত হয়। এর ফলে বিশ্বে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি রচিত হয়। তাই বলা যায়, আতিকের সহায়তায় যে কর্মসূচির সাহায্য নেওয়া হয়েছে সেটি পরবর্তী সময়ে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে
১৮-২৯ সালে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন পাস হয়।
সামাজিক নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ সাধন।
যেকোনো সমাজেই দারিদ্রদ্র্য বিমোচন, নারীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি লক্ষ্য পূরণের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। এক্ষেত্রে সামাজিক নীতি প্রণয়নের উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য এবং মানসিক অসুস্থতার মতো সামাজিক সমস্যাসমূহ দূর করা। তাই বলা যায়, সামাজিক নীতির মূল উদ্দেশ্য হলো সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!