নিজস্ব সংস্কৃতির বিকৃত রূপ হলো অপসংস্কৃতি।
তারুণ্যের বয়সসীমা হলো ১৩-১৮ বছর। তারুণ্য জীবন বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় শিশু দৈহিক পরিবর্তন হয় ও যৌন পরিপক্বতা অর্জন করে। দৈহিক পরিবর্তনের সাথে সঙ্গতি রেখেই মনোভাব ও আচরণের পরিবর্তন হতে থাকে। এ সময় শিশুর আবেগীয় পরিবর্তন, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন, মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটে। এ সময়ে ছেলেমেয়েদের মধ্যে অসঙ্গত আচরণ, খামখেয়ালিপনা, অতিরিক্ত কৌতূহল ও ছেলেমানুষী আবেগ লক্ষ করা যায়। এগুলো স্থায়ী প্রকৃতির নয়। তারুণ্যে এসব পরিবর্তন খুব স্বাভাবিক।
সবুজকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা সবুজকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে তার পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সবুজকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে তার পরিবারের করণীয় হলো- সুষ্ঠু পারিবারিক পরিবেশ দিতে বাবা-মাকে সবুজের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। পিতামাতাকে সবুজের সামনে অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে থাকতে হবে। তাদের আদর্শ যেন অনুকরণযোগ্য হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। সবুজকে খেলাধুলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। যেকোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানে যেন যে অংশগ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। মাদকদ্রব্য বা যেকোনো নেশার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তাকে বোঝাতে হবে। ধর্মের প্রতি অনুপ্রেরণা বৃদ্ধি করতে হবে। তার জন্য চিত্তবিনোদনের সুযোগ করে দিতে হবে। তাকে বিভিন্ন সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজে জড়িত করতে হবে। অপসংস্কৃতির দিকে যেন সে আকৃষ্ট না হয় তাই বাবা-মাকে সতর্ক থাকতে হবে।
সর্বোপরি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেই সবুজের পরিবার তাকে বিপর্যয় হতে রক্ষা করতে পারবে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সবুজের বাবার উক্তিটি হচ্ছে- 'তোমার বিবেককে জাগ্রত করো তাহলে ন্যায়-অন্যায় বুঝতে পারবে।' তার উক্তিটির সাথে আমি একমত।
নৈতিকতার চালিকাশক্তি হচ্ছে বিবেক। এই বিবেক মানুষের ভেতর থেকে জাগ্রত হয়। যেমন- অন্যকে সাহায্য করা, অন্যের সুবিধা- অসুবিধা লক্ষ করা, সহানুভূতি, সহমর্মিতা, স্নেহ-ভালোবাসা ইত্যাদি। উদ্দীপকে ১৭ বছরের তরুণ সবুজ পরিবারের সবার সাথে খাপ খাওয়াতে পারছে না। কারো কাথাই সে শোনে না। পড়াশোনায় মনোযোগ নেই। বাবা-মাকে এড়িয়ে চলে। বেশিরভাগ সময়ই বাইরে কাটায়। তার এ অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তার বাবা তাকে বিবেককে জাগ্রত করতে বলেন। এই বিবেকই তাকে ন্যায়-অন্যায় বুঝতে সাহায্য করবে। কারণ নৈতিকতার বিকাশ সম্পর্কে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেকোনো বয়সের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিবেকের উন্মেষ আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। বিবেক হচ্ছে এমন একটি মানসিক ক্ষমতা যা বাইরের নিয়ন্ত্রণমুক্ত। সবুজ যদি তার ভেতরের বিবেককে জাগ্রত করতে পারে তাহলে সেই তার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। সে যে স্বাভাবিক আচরণ করছে তা সে বুঝতে পারবে। সবুজ যদি তার অন্যায় কাজের জন্য অনুশোচনা করতে শেখে তাহলে সে আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। বিবেকবোধ তাকে নৈতিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তুলবে। এর ফলে সে আদর্শ ও সুন্দর জীবন গড়ে তুলতে পারবে। কোনো প্রকার অন্যায় কাজ করবে না।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বিবেক বোধই মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে দূরে রেখে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।
Related Question
View Allবয়োবৃদ্ধির মাধ্যমে পরিপক্বতা অর্জন হচ্ছে তারুণ্য।
সামাজিক অভিযোজন বলতে বোঝায় সামাজিক আচরণ করার জন্য নতুন ধরনের সংগতিবিধান।
সামাজিক অভিযোজন একটি বিকাশমূলক কাজ। সামাজিক অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো- সমবয়সী দলের প্রভাব, সামাজিক আচরণের পরিবর্তন, বন্ধু নির্বাচনের জন্য নতুন মূল্যবোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি।
তিতলী যে সময়টি পার করছে সেটি হলো তারুণ্য।
তারুণ্য জীবন বিকাশের একটি স্তর। এই স্তরের বয়সসীমা হচ্ছে ১৩ থেকে ১৮ বছর। তিতলী ১৮ বছরের তরুণী। ইদানিং তার মাঝে শিশুসুলভ বৈশিষ্ট্যের বিলুপ্তি ঘটে নতুন বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেগুলো হলো-
তিতলী দৈহিক পরিবর্তন ও যৌন পরিপক্বতা অর্জন করেছে। এই পরিপক্বতা অর্জনের বৈশিষ্ট্যস্বরূপ তার ডিম্বকোষ, জরায়ু, স্তন এবং উচ্চতা ও ওজনের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটেছে। শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে সে শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা অর্জন করে। অত্যধিক আবেগ প্রবণতা তরুণদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। তারা নিজেদের সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে থাকে। দেহের পরিবর্তন, মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য তরুণরা নতুন নতুন সমস্যার সম্মুখীন হয়। সমস্যাগুলোর সমাধান করতে না পারলে তারা নিজেদের মধ্যেই মগ্ন থাকে। তরুণরা 'স্বাধীনভাবে চলতে চায়, কিন্তু দায়িত্ব নিলে নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তরুণরা বাবা-মার কাছ থেকে কোনো সমস্যার সমাধান নিতে চায় না। এরা পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির মর্যাদা অর্জন করার জন্য পূর্ণবয়স্কদের বিভিন্ন অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
তিতলীর মাঝে নতুন আচরণগত বৈশিষ্ট্য ও মনোভাব লক্ষ করা যায়। তরুণ বয়সেই মানুষের ব্যক্তিত্বের বীজ রোপিত হয়। এসময় শিশু কালীন মনমানসিকতার পরিবর্তন হয় এবং ব্যক্তিত্বের পরিস্ফুটন ঘটে।
তিতলীর আবেগীয় পরিবর্তন ঘটেছে। এ বয়সে সে নিজ সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পোষণ করে, আত্মপরিচিতি অর্জন করে। তার মূল্যবোধেও পরিবর্তন আসে। এছাড়াও তার এ বয়সে অনেক সময়ই বড়দের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। তিতলী নিজ লিঙ্গভুক্ত অথবা বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীদের কাছে কোন কোন গুণ প্রশংসিত হবে তা বুঝতে পেরে নিজেকে সংস্কার করার চেষ্টা করে। আদর্শ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিতলী দলীয় আচরণের মানকে গ্রহণ করবে এবং সে মানদন্ডের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ব্যক্তিত্ব মূল্যায়ন করবে। দলের স্বীকৃতি অর্জণ ব্যর্থ হলে সে হীনম্নন্যতায় ভুগবে। ফলে ব্যক্তিত্বের সুষ্ঠু বিকাশ ঘটবে না। আদর্শ হিসেবে পরিবারের বা পরিবারের বাইরে একজন ব্যক্তিকে অনুসরণ করে এবং তার মতো হতে চাইবে। সৃজনশীলতার প্রকাশ তাকে বিশেষ ব্যক্তিত্বের অধিকারী করে। তার আত্মধারণার ওপর অনুকূল প্রভাব ফেলবে। নিজেকে অধিক যোগ্য হিসেবে প্রকাশ করতে পারলে তিতলীর আত্মসন্তুষ্টি ও আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হবে এবং জীবনে প্রতিষ্ঠা পাবে।
পরিশেষে বলা যায়, তিতলীর উল্লিখিত পরিবর্তন বয়সের কারণেই ঘটেছে।
যেসব দ্রব্য সেবনে মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং দৈহিক কর্মকাণ্ডের ওপর দীর্ঘস্থায়ী, প্রকট' ও বিরূপ প্রভাব পড়ে সেই দ্রব্যগুলোকে মাদকদ্রব্য বলা হয়।
অর্থনৈতিক কারণে তারুণ্যের বিপর্যয় ঘটতে পারে। দারিদ্রকে তরুণদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। অসচ্ছলতার দরুন বাবা-মা সন্তানদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়। ফলে তারা সমবয়সী অন্যান্য ছেলেমেয়েদের সাথে সমতা রক্ষা করতে পারে না। তাদের মধ্যে নৈরাজ্যের সঞ্চার হয়, তারা বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং নানা রকম অপরাধে লিপ্ত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!