ট্রাইকোডার্মা হলো মাটিতে মুক্তভাবে বসবাসকারী উপকারী ছত্রাক যা মাটিবাহিত রোগ দমন (জৈব বালাইনাশক হিসেবে) এবং মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি (অণুজীব সার হিসেবে) করে।
লিগিউম বা শিমজাতীয় ফসলের শিকড়ে রাইজোবিয়াম নামক ব্যাকটেরিয়া গুটি তৈরি করে তাতে বায়ুমণ্ডল হতে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
পরবর্তীতে এসব গুটি পচে গিয়ে সঞ্চিত নাইট্রোজেন ফসলের কাজে লাগে। ফলে ফসলের ক্ষেতে রাসায়নিক ইউরিয়া সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এছাড়া মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ হয়ে মাটির গঠন ও গুণাগুণ উন্নত হয়। এতে মাটির উর্বরতা, উৎপাদন ক্ষমতা ও পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাই লিগিউম জাতীয় ফসল চাষ করা হয়।
উদ্দীপকের সবুজের জমির মাটি পরীক্ষা করে দেখা যায় অম্লমান ৭.৫ যা দ্বারা মাটি ক্ষারীয় প্রকৃতির বোঝা যায়। ক্ষারীয় মাটির বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
i. ক্ষারীয় মাটির অম্লমান বা pH ৭.০ এর বেশি থাকে।
ii. এ মাটিতে তামা, বোরন ও দস্তার অভাব দেখা দিতে পারে।
iii. সোডিয়ামের প্রাচুর্যে মাটিতে বিষাক্ততা দেখা যায়।
iv. এ মাটিতে লোহা ও ম্যাঙ্গানিজের দ্রবণীয়তা কমে।
V. মাটিস্থ অণুজীবদের কার্যাবলি ব্যাহত হয় এবং জৈব পদার্থের বিগলন কমে যায়।
vi. এই মৃত্তিকায় SAR (Sodium Absorption Ratio) ১৩% এর বেশি হয়।
vii. মাটিতে বিনিময়ক্ষম সোডিয়ামের পরিমাণ ১৫% এর বেশি থাকে।
viii. ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে।
ix. বিদ্যুৎ পরিবাহিতার মাত্রা ৪ মিলিমিটারের কম।
উল্লিখিত আলোচনার মাধ্যমে সবুজের জমির ক্ষারীয় মাটির বৈশিষ্ট্যাবলী জানা যায়।
উদ্দীপকে সবুজের কৃষিবিদ বন্ধু ফিরোজ তাকে উৎপাদিত টমেটো প্রক্রিয়াজাত করে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দিল।
খাদ্য পচে যাওয়া থেকে রক্ষার উপায় হলো খাদ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা। আমাদের দেশে কৃষিজ পণ্য সংরক্ষণের জন্য ভালো ব্যবস্থা নেই। যেমন- কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা, পরিবহনে ফ্রিজিং এর ব্যবস্থা ইত্যাদি। এগুলো না থাকায় কৃষিজ পণ্য কাটার পর বিক্রির আগ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই কৃষিজ পণ্য প্রক্রিয়াজাত করে যেমন- টমেটো কেচাপ তৈরি করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বহুদিন রাখা যায়। আবার এসব পণ্য বিক্রি করে বেশি মূল্যও পাওয়া যায়।
কেচাপ তৈরিতে প্রথমে মধ্যম পাকা ও ত্রুটিমুক্ত টমেটো পানি দিয়ে ধুয়ে কেটে নিতে হয়। টুকরাগুলো একটি সসপেনে নিয়ে কাঠের হাতা দিয়ে পিষে পালপ বের করতে হয়। টমেটো পালপ ও অন্যান্য উপকরণগুলো মেপে নিতে হয়। এতে পেঁয়াজ ও রসুন কুঁচি এবং মরিচ, জিরা, গোল মরিচ, দারুচিনি ইত্যাদির গুঁড়া নিতে হয়। টমেটো পালপ ও এক-তৃতীয়াংশ চিনি একটি কড়াইয়ে নিয়ে জ্বাল দিতে হয়। কাপড়ের থলিতে আদা-রসুনসহ অন্যান্য মশলা পুটলি বেঁধে পালপের মধ্যে দিতে হয়। জ্বাল দেওয়া টমেটো এক- তৃতীয়াংশ হলে মশলার থলেটি চেপে রস বের করে সরিয়ে ফেলতে হয়। ২৪০ ব্রিক্স পর্যন্ত রান্না করার পর অ্যাসিটিক অ্যাসিড দিতে হয়। চুলা হতে নামিয়ে তৈরিকৃত কেচাপ জীবাণুমুক্ত বোতলে ছিপি এঁটে সংরক্ষণ করা যায়।
এভাবে ফিরোজ সবুজকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ফসল চাষে সফলতা পেতে যথার্থ পরামর্শ দিল।
Related Question
View Allকারখানার কাঁচামাল যোগান দেওয়ার জন্য যে সকল ফসল উৎপাদন করা হয় তাদেরকে শিল্প ফসল বলে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিস প্রায় প্রতি মাসে অথবা প্রয়োজন অনুসারে মাঝে মাঝে কৃষকদের নিয়ে যে সভা বা বৈঠক করে তাকে উঠোন বৈঠক বলে।
উঠোন বৈঠক আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণ তথা কৃষি তথ্য সরবরাহ ও কৃষি সেবার একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল। এই কৌশলের একটি প্রধান সুবিধা হলো যে এতে সকল ধরনের নারী-পুরুষ কৃষক স্থানীয়ভাবে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তারা সেখানে • নিঃসংকোচে তথ্য বিনিময় করতে পারে।
ফাহাদ বিভিন্ন কৃষি তথ্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হতে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষি বিষয়ক নানান তথ্য ও সেবা দিয়ে কৃষকদের সাহায্য করে থাকে। ফাহাদ তার বাগানের ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য কৃষি তথ্য সার্ভিসের সাথে যোগাযোগ করে প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য নেয়। এই ফল ও সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য বিভিন্ন ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় ও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, ভোকেশনাল কৃষি ফার্ম, পলিটেকনিক ও কৃষি ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট ও কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও সরবরাহ করা হয়। এ সকল প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি 'এ টু আই' প্রকল্প, কৃষি তথ্য সংস্থা, কৃষি তথ্য সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের সেন্টারসমূহ হতেও সে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়াও সে কৃষিতথ্য সংগ্রহের সবচেয়ে সহজ মাধ্যম ইন্টারনেটের থেকেও এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে উল্লিখিত উৎসগুলো ছাড়াও ফাহাদ অভিজ্ঞ কৃষক, উঠোন বৈঠক বা কৃষক সভা থেকেও ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
ফাহাদ তাই এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
ফাহাদকে তথ্য সার্ভিস সংস্থা প্রক্রিয়াজাত করে ফল ও শাকসবজি সংরক্ষণ করতে পরামর্শ দেয়।
বিভিন্ন উপায়ে ফল ও শাকসবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ করা যায়। যেমন- চিনি ও অ্যাসিড সংযোজন করে জ্যাম, জেলি, মোরব্বা ও ক্যান্ডি তৈরি করে বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি সংরক্ষণ করা। প্রক্রিয়াজাতকৃত এইসব খাদ্যকে বেশ সুগন্ধযুক্ত ও দর্শনীয় করার জন্য অনেক রকম খাদ্য রং ও এসেন্স মিশ্রিত করা হয়।
জেলি তৈরির সময় ফলের রস ব্যবহার করা হয়। মিহি চালনী বা কাপড়ের সাহায্যে ফলের শাঁসকে ছেঁকে নেওয়া হয় বলে ফলের আঁশ বাদ পড়ে যায়। জ্যাম তৈরির সময় ফলের পাল্প ব্যবহার করা হয়। যে সকল ফল বা সবজিতে পেকটিন কম সে ক্ষেত্রে পালপের সাথে পেকটিন যোগ করে নেওয়া হয়। এছাড়া জ্যাম ও জেলির সাথে সাইট্রিক অ্যাসিডও মিশিয়ে নেওয়া হয়। ফল বা সবজির বড় টুকরা চিনির সিরায় ডুবিয়ে সিরা নিংড়িয়ে মোরব্বা তৈরি করা হয়। রকমারি মশলা মেশানো ফল বা সবজিকে খাওয়ার তেল বা ভিনেগারে ডুবিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে আচার তৈরি করা হয়। মশলা হিসেবে আদা, রসুন, হলুদ, মরিচ, মেথি, কালজিরা ব্যবহার করা হয়। লবণ ও চিনি মিশিয়ে চাটনি তৈরি করা যায়। বিভিন্ন মশলা মিশিয়ে চাটনির স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানো হয়।
উল্লিখিত যেকোনো পদ্ধতি প্রয়োগ করেই ফাহাদ তার ফল ও শাকসবজিগুলো প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারবে।
যে সকল ফসল উদ্যানে বেড়াযুক্ত অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে উদ্যান ফসল বলে।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠে তাকে সামাজিক বন বলে। সামাজিক বনে বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ লাগানো হয়। সামাজিক বন মানুষের ফলের চাহিদা পূরণ, ভূমিক্ষয় রোধ হয়, কুটির শিল্প তৈরির কাঁচামাল, ঘরবাড়ি তৈরির কাঠ ও জ্বালানি কাঠ পায়। এছাড়াও সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। অতএব বলা যায়, সামাজিক বন জনগণের উপকার করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!