সমস্যা সমাধানের জন্য সরাসরি বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগকৃত পদ্ধতিসমূহ হলো মৌলিক পদ্ধতি।
ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের স্বীকৃত পদ্ধতি হলো ব্যক্তি সমাজকর্ম।
ব্যক্তি সমাজকর্ম হলো একটি বিজ্ঞানসম্মত কৌশল বা পদ্ধতি যার মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে এমনভাবে সহায়তা করা হয় যাতে ব্যক্তি তার সুপ্ত ক্ষমতার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের সমস্যা মোকাবিলা করে সুষ্ঠু সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়ে ওঠে। ব্যক্তি সমাজকর্ম ব্যক্তিকে তার সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব উন্নয়নে সহায়তা করে।
উদ্দীপকের সজল একজন সমাজকর্মী হিসেবে সমাজকর্মের গোপনীয়তার নীতি ভঙ্গ করেছে।।
পেশাগত সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর সাহায্যার্থী সমস্যা ও নিজের সম্পর্কে যেসব গোপন তথ্য প্রদান করে তা গোপন রাখা একান্ত প্রয়োজন। এ নিয়মকে গোপনীয়তার নীতি বলে। সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে গোপন তথ্য প্রকাশিত হবে না এমন প্রতিশ্রুতি পেলে সে অকপটে তার সমস্যা সম্পর্কে বলতে পারে। এর ফলে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া সহজ, সঠিক ও দ্রুততর হয়।সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি যদি তার গোপন কথা সমাজকর্মীর নিকট খোলাখুলিভাবে না বলে তবে সমাজকর্মীর পক্ষে সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হবে না। সেই সাথে সমাজকর্মীর পেশাগত দায়িত্ব হলো' সাহায্যার্থীর গোপন বা অপ্রকাশিত তথ্য গোপন রাখা। উদ্দীপকের সুজন হতাশার কারণে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। তবে সে যে সমস্যাগ্রস্ত তা নিজেই অনুধাবন করতে পেরেছে। তাই সে তার এ সমস্যার কথা তার সমাজকর্মী বন্ধু সজলের কাছে ব্যাখা করে। কিন্তু সজল একজন সমাজকর্মী হিসেবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং সুজনের পরিবারের কাছে ব্যাপারটি জানিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে সে একজন সমাজকর্মী হিসেবে ব্যক্তি সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত গোপনীয়তার নীতি ভঙ্গ করেছে।
উদ্দীপকের সজল সমাজকর্মের নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণের মাধ্যমে সুজনের সমস্যার সমাধান করতে পারত।
ব্যক্তি সমাজকর্ম হলো এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত। ব্যক্তির সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ সাধন করে তাকে এমনভাবে সহায়তা করা হয় যাতে সে অন্তর্নিহিত গুণাবলির উত্তম সামঞ্জস্যের মাধ্যমে সৃষ্ট। ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়। আর ব্যক্তি সমাজকর্মে সমস্যা সমাধানে কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়। এগুলো হলো- গ্রহণ নীতি, যোগাযোগ নীতি, অংশগ্রহণ নীতি, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রীকরণ নীতি, গোপনীয়তা নীতি এবং আত্মসচেতনতার নীতি। ব্যক্তি সমাজকর্ম প্রক্রিয়ার সার্বিক সাফল্য এসব নীতিমালার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। উদ্দীপকের সুজন ও সজল পরস্পর বন্ধু বলে গ্রহণ নীতি নিয়ে কোনো সমস্যাই ছিল না। কারণ গ্রহণ নীতির মূলকথা হচ্ছে সাহায্যার্থী সমাজকর্মীকে কতটুকু আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করে। যেহেতু সুজন নিজ থেকেই সজলের নিকট সকল গোপন কথা ব্যক্ত করেছে সেহেতু ব্যক্তি সমাজকর্মের গ্রহণ নীতি দু'জনের মাঝেই উপস্থিত ছিল। আর যেহেতু দুজনের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল সেহেতু ব্যক্তি সমাজকর্মের আরও নীতি যেমন- যোগাযোগ নীতি, অংশগ্রহণ নীতি ব্যক্তিস্বাতন্ত্রীকরণ নীতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ নীতিসমূহ একজন আদর্শ সমাজকর্মীর ন্যায় অনুসরণ করতে পারত। কিন্তু সজল ব্যক্তি সমাজকর্মের নীতিমালার অন্যতম নীতি গোপনীয়তার নীতির সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারেনি।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনায় যে নীতিসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো অনুসরণের মাধ্যমে সজল খুব সহজে ও দ্রুততার সাথে সুজনের উন্নতি ঘটাতে পারতো।
Related Question
View Allআইন পেশার মাধ্যমে সমাজের মানুষের আইনগত অধিকার ও সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
চিকিৎসা পেশা একটি মানবতাবাদী সেবা ও পেশা হিসেকে বিবেচিত।
সুদূর প্রাচীনকাল থেকে মানবসেবার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো মানুষকে সকল প্রকার অসুস্থতা থেকে মুক্ত রাখা, যার প্রেক্ষিতে চিকিৎসা পেশার উদ্ভব। মানুষের দৈহিক কাঠামো এবং দেহের জৈবিক প্রক্রিয়া কর্মক্ষম ও সচল রাখার জন্য যেসব চাহিদা ও প্রয়োজন পূরণের দরকার সেসব পূরণ করতে সাহায্য করে চিকিৎসা ও নার্সিং পেশা।
উদ্দীপকে বর্ণিত দীপ্তি সমাজকর্ম বিষয়টি অধ্যয়ন করছে। সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর একটি সাহায্যকারী পেশা।
এর লক্ষ্য হলো সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন। এ লক্ষ্য অর্জনে এটি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির হারানো ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করে তাদেরকে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। এক্ষেত্রে এই সেবা, সম্পদ ও সুযোগের সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ সমাজকর্ম সামাজিক বিপর্যয় রোধ করে একটি সুষ্ঠু সমাজ গঠনে কাজ করে। দীপ্তির অধ্যয়নরত বিষয়টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্পদ, সেবা ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো এবং সামাজিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা যা সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ। সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে ১৯৮১ সালে NASW কর্তৃক প্রকাশিত কতগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচনা করা হয়। এগুলো হলো-
১. জনগণের সমস্যার সমাধান, উপযোজন এবং উন্নয়ন ক্ষমতার উন্নয়ন,
২. সম্পদ, সেবা ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো;
৩. কার্যকরী ও মানবীয় সেবা ব্যবস্থা ত্বরান্বিত করা; ও
৪. সামাজিক নীতির বিকাশ ও উন্নয়ন। আবার ওয়ার্নার ডব্লিউ বোহেম সমাজকর্মের তিনটি মৌলিক লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো-
১. মানুষের হৃতক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা;
২. কার্যকর সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পদের সমাবেশ করা; এবং
৩. সামাজিক বিপর্যয় প্রতিরোধ করা। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দীপ্তি সমাজকর্ম বিষয়টি অধ্যয়ন করছে।
দীপন ও সমাজকর্মীর সম্পর্ককে র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক , যা সমাজকর্মের সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দীপন প্যাথিড্রিনে আসক্ত। সে তার বোনের বান্ধবী দ্বীপ্তির পরামর্শে একজন সমাজকর্মীর নিকট যায়। সমাজকর্মী তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং দীপন উক্ত সমাজকর্মীর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়। দীপন ও সমাজকর্মীর মধ্যকার এ সম্পর্কই হলো 'র্যাপো'। ব্যক্তির সমস্যার সমাধানকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি সমাজকর্ম পদ্ধতি পরিচালিত হয়। এ সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হলো র্যাপো বা পেশাগত সম্পর্ক। সাধারণত সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়ায় সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর মধ্যে যে পেশাগত সম্পর্ক স্থাপন করা হয় তাকে র্যাপো বলা হয়। এখানে সমাজকর্মী একজন পেশাদার ব্যক্তি হিসেবে তার আচরণের মাধ্যমে সাহয্যার্থীর আস্থাভাজন হন। ফলে সমাজকর্মী ও সাহায্যার্থীর সম্পর্কের মধ্যকার দূরত্ব দূর হয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে বন্ধুসুলভ আচরণের ক্ষেত্র তৈরি হয়, যা সাহায্যার্থী সম্পর্কিত তথ্যানুসন্ধানে সমাজকর্মীকে বিশেষভাবে সহায়তা করে। ফলে সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া অধিক উপযোগী ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ সম্পর্ক সম্পূর্ণ অস্থায়ী এবং অন্যান্য সম্পর্কের মতো আত্মনির্ভর হবে না। অনেক সময় এ সম্পর্ককে 'Professional Relationship' বা 'Casework Relationship' নামেও, অভিহিত করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, দীপন এবং সমাজকর্মীর মধ্যকার সম্পর্কই ব্যক্তি সমাজকর্মের মূল বিষয়। সাহায্যার্থী ও সমাজকর্মীর মধ্যে এ সম্পর্ক গড়ে না উঠলে অনেক সময় সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া ব্যর্থ হয়ে যায়
সমষ্টি সংগঠন হলো সামাজিক উন্নতি ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য পরিচালিত জনসমষ্টিকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল সেবাকর্ম প্রক্রিয়া।
যেসব মৌলিক নিয়ম-কানুন ব্যক্তি সমাজকর্মীর কার্যাবলি নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে, সেগুলোকেই ব্যক্তি সমাজকর্মের অনুশীলন নীতি বলা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্ম সমস্যা সমাধানের সুশৃঙ্খল এবং সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া। সুশৃঙ্খল এবং সুপরিকল্পিত উপায়ে সমস্যা সমাধানে সাহায্য করার জন্যে ব্যক্তি সমাজকর্মীদের কতগুলো মৌলিক নীতি অনুসরণ করতে হয়। এসব নীতি সমাজকর্মীর কাজের নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে। এগুলোকেই ব্যক্তি সমাজকর্মের অনুশীলন নীতি বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!