সমাজকর্মী নাবিলা পরিচালিত একটি গবেষণা রিপোর্টে দেখা যায় তার এলাকার অধিকাংশ শিশুই কম উচ্চতা ও কম ওজন নিয়ে জন্মায়। শিশুদের এ অবস্থার জন্য তাদের মায়েরা দায়ী। মায়েদের গর্ভকালীন অসতর্কতার কারণে কম ওজনের শিশু জন্ম নিচ্ছে। তাছাড়া অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের বেশিরভাগ রক্তস্বল্পতায় ভুগছে। এ সমস্যা সমাধানে নাবিলা তার এলাকার নারীদের সংগঠিত করে খাদ্যের গুণাগুণ এবং পুষ্টিমান সংক্রান্ত একটি সেমিনারের আয়োজন করে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

রাতকানা রোগের প্রধান কারণ হলো পুষ্টিহীনতা।

উত্তরঃ

মূল্যবোধগত দ্বন্দ্ব পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।

প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ও পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কুসংস্কারের কারণে পল্লি এলাকার গর্ভবতী মায়েরা তা গ্রহণ করতে পারেন না। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে এ কুসংস্কার প্রচলিত আছে যে, অতিরিক্ত খাবার গ্রহণে গর্ভস্থ সন্তান বড় হবে এবং প্রসবকালীন জটিলতা বাড়বে। এ ভুল ধারণা থেকে গর্ভবর্তী মাকে কম খেতে দেওয়া হয়। ফলে গর্ভবতী মা এবং শিশু উভয়ই অপুষ্টির শিকার হয়।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সার্বিক অবস্থা বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা পুষ্টিহীনতার প্রতিনিধিত্ব করছে।

উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মী নাবিলা তার গবেষণাকালে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেখতে পেয়েছে তার এলাকার অধিকাংশ শিশু কম উচ্চতা ও কম ওজন সম্পন্ন। এটি বাংলাদেশের অপুষ্টিজনিত কারণে সৃষ্টি হওয়া একটি সাধারণ দৃশ্য। নাবিলা এ অবস্থার জন্য গর্ভবতী মায়েদের অসতর্কতাকেই দায়ী করেছে। এটি বাংলাদেশে পুষ্টিহীনতার পেছনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কারণ।
আমাদের দেশের মায়েরা অজ্ঞতা, কুসংস্কার প্রভৃতি কারণে খাদ্যের পুষ্টিমান এবং গুরুত্ব সম্পর্কে জানেন না। ফলে তারা নিজেদের পুষ্টি সম্পর্কে যেমন উদাসীন তেমনি সন্তানের ক্ষেত্রেও। ফলে নারী ও শিশু অপুষ্টি বাড়ছে। ২০০১-০৩ সালের জাতীয় রক্তস্বল্পতা জরিপে দেখা যায়, শতকরা ৫ বছরের কমবয়সী ৪৮%, বয়ঃসন্ধিকালের ছেলে-মেয়েদের শতকরা ৩০% এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ৪৬% রক্তস্বল্পতায় ভোগে। উদ্দীপকেও বেশিরভাগ অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের রক্তস্বল্পতায় ভোগার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের সার্বিক অবস্থা বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতা পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত পরিস্থিতি উন্নয়নে সমাজকর্মী নাবিলার উদ্যোগটি প্রশংসনীয় হলেও আমি মনে করি তা যথেষ্ট নয়।

বাংলাদেশে অপুষ্টি একটি মারাত্মক সমস্যা। খাদ্য গুণ সম্পর্কে অজ্ঞতা, স্বাস্থ্য ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পর্কে অসচেতনতার জন্য এ সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একজন সমাজকর্মী এক্ষেত্রে সমাজের সচেতন মহল, সরকারি, বেসরকারি প্রচেষ্টাকে সমন্বিত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন। উদ্দীপকের সমাজকর্মী নাবিলা এরকম সচেতনতা সৃষ্টিকারী একটি সেমিনারের আয়োজন করেছে। তবে এক্ষেত্রে শুধু নারীদের নয়, সমাজের সবশ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। কারণ নারী সচেতন হলেও বাংলাদেশের সমাজ কাঠামো তার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সমাজকর্মী হিসেবে নাবিলা উপরিউক্ত কাজটি ছাড়াও সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমষ্টিভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে, যা খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। এছাড়া সমাজ থেকে দারিদ্র্য, বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে জনগণের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই নারী পুরুষ সবাইকে সচেতন করার পাশাপাশি আয়বর্ধনমূলক কাজে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া অপুষ্টির কুফল, অপুষ্টি সম্পর্কিত কুসংস্কার দূরীকরণেও সমাজকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারে।

উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, সমাজকর্মী নাবিলা অপুষ্টি দূরীকরণে যে পদক্ষেপটি নিয়েছে তা এক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও সামগ্রিকভাবে অপুষ্টি দূরীকরণে আরও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

118
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

সামাজিক সমস্যা সমাজের অধিকাংশ জনগোষ্ঠীর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বিধায় একে সর্বজনীনভাবে ক্ষতিকর বিবেচনা করা হয়।
বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত কোনো সমস্যাকে সামাজিক সমস্যা বলা যায় না। যখন কোনো বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত সমস্যা সমাজের অধিকাংশ মানুষের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে তখন বা সামাজিক সমস্যারূপে গণ্য হয়। এটি সমাজের সামগ্রিক মঙ্গলের পরিপন্থী। এছাড়া সামাজিক সমস্যা সব দেশের সব সময়ের সমাজের মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। কোনো সমাজের মানুষই সামাজিক সমস্যার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। তাই সামাজিক সমস্যাকে সর্বজনীন ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

252
উত্তরঃ

আনিসা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

যে খাদ্যে খাবারের ছয়টি গুণ, যেমন- আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন বিদ্যমান সেই খাবার হলো পুষ্টিসম্মত খাবার। এ ধরনের খাবারের অভাবে শরীরে যে অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই হলো অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা। আনিসার ক্ষেত্রে এ অস্বাভাবিক অবস্থাই দৃষ্টিগোচর হয়।
বস্তিবাসী আনিসা চোখে সমস্যা, মুখে ঘা, ঠোঁট ফাঁটা সমস্যাগুলোতে ভুগছে। এছাড়া রক্তস্বল্পতার জন্য তার মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।
এসব সমস্যার কারণে সে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা মূলত অপুষ্টির কারণেই হয়। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনে একজন মানুষের সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ও গুণগত খাবার। এ ধরনের খাবারের ঘাটতিই অপুষ্টির সৃষ্টি করে। এ অবস্থা শরীরে নানা ধরনের রোগের জন্ম দেয়, স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত করে, কর্মশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে। এছাড়া পুষ্টিহীনতার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। যার ফলে স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হয়। উদ্দীপকের আনিসার ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটার কারণে বলা যায়, সে পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

205
উত্তরঃ

উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পুষ্টিহীনতা সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদার অপূরণকে দায়ী করা যায়।

মানুষের বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদাগুলো পূরণ করা অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশে দারিদ্র্য, অধিক জনসংখ্যা প্রভৃতি কারণে অনেকেই মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। ফলে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন ধরনের আর্থ-সামাজিক সমস্যা। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে পুষ্টিহীনতা অন্যতম। আমাদের দেশের অনেক মানুষ ঠিকমতো খাবার পায় না। আর পুষ্টিকর খাবারের সংস্থান দরিদ্র লোকের জন্য প্রায় অসম্ভব। এছাড়া খাদ্যের গুণাগুণ সম্পর্কেও এদেশের বেশিরভাগ মানুষ অজ্ঞ। ফলে পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবারের অভাবে তারা স্বাস্থ্যহীনতায় বা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এ কারণে এদেশের মানুষ রক্তশূন্যতা, চক্ষুরোগ, রাতকানা, রিকেটসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

আবার সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু খাবারই পর্যাপ্ত নয়, ভালো আবাসন, পোশাক এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন। কিন্তু এদেশের মানুষ পর্যাপ্ত বাসস্থান, পোশাক এবং চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। শহর এলাকায় বস্তি সমস্যা, গ্রাম এলাকায় চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে অনেকেই অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় দিন পার করছে। এসব কারণে পুষ্টিহীনতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ আলোচনা থেকে তাই বলা যায় অপুষ্টি নামক সমস্যাটি সৃষ্টি হওয়ার জন্য মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণ না হওয়াই বেশি দায়ী।

238
উত্তরঃ

জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রধান কর্মকর্তা শহর সমাজসেবা কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করেন।

186
উত্তরঃ

সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালন বিবাহের অন্যতম কাজ। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠিত হয়। আর পরিবার সন্তান উৎপাদন ও লালন-পালনের সর্বোৎকৃষ্ট প্রতিষ্ঠান। মানব শিশুর লালন-পালনের দায়িত্ব বাবা-মার ওপরই বর্তায়। বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠন করায় শিশুর রক্ষণাবেক্ষণ ও লালন-পালনে কোনো সমস্যা হয় না।

208
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews