সমাজকর্ম পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।
উদ্দীপকে যাকাত নামক ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ফুটে উঠেছে।
ইসলাম ধর্মের মূল পাঁচটি স্তম্ভের একটি হচ্ছে যাকাত। যেসব সনাতন সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান সুদূর অতীতকাল থেকে আজও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে যাকাত তার অন্যতম। ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও আধুনিক সমাজকল্যাণে এর অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
যাকাত ব্যবস্থার ফলে ধনীদের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র ও নিঃস্বদের মাঝে বণ্টন করা হয়। ফলে একদিকে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয় অন্যদিকে দুস্থ ও অসহায়দের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, সমাজকর্মের শিক্ষক নোমান হোসেন বলেন, ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে একটি স্তম্ভআজও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও আধুনিক সমাজকল্যাণে উক্ত স্তম্ভের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে যে ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ফুটে উঠেছে তা হলো যাকাত
উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মের শিক্ষক নোমান হোসেনের শেষোক্ত বক্তব্যের সাথে আমি একমত।
১৬০১ সালে এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন দরিদ্র জনগণের অর্থনৈতিক ও বাসস্থানজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। এ আইনের অধীনে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসনে বিভিন্ন কর্মসূচি সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
সাহায্য স্থানীয় পর্যায়ে অসহায় করা ভরপুরে বাজিদের সামনে ব্যবস্থা এবং দরিদ্র কর আরোপের মাধ্যমে এ আইনে দরিদ্রদের সুন্দর জীবনযাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে বেকার, শিশু ও অক্ষম দরিদ্রদের জীবিকা লাভের ব্যবস্থা করা হয়। অন্যদিকে এ আইনে দরিদ্রদের সাহায্য ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ফসল হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত সমাজকর্মের শিক্ষক নোমান হোসেন বলেন, প্রাকশিল্প যুগে ইংল্যান্ডের আর্থ-সামাজিক ও দারিদ্র্য সমস্যার মোকাবিলার জন্য প্রণীত আইনগুলোর মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য আইন ১৬০১ সালে প্রণীত হয়। আধুনিক সমাজকর্ম পেশা এ আইনের কাছে বিশেষভাবে ঋণী।
সার্বিক বিশ্লেষণে বলা যায় যে, ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনকে বর্তমান বিশ্বের আধুনিক ও পেশাদার সমাজকর্মের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি আধুনিক সমাজকর্মের পেশাগত মান অর্জনে এ দরিদ্র আইনের জ্ঞান বিশেষভাবে সহায়তা করে। দরিদ্রদের জন্য গৃহীত কর্মসূচিগুলো পরবর্তীতে আমেরিকায় ব্যাপকভাবে অনুশীলন হয় এবং এই সেবা পেশাগত আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে, যা বিশ্বজুড়ে বঞ্চিত ও দরিদ্র শ্রেণির কল্যাণে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়। তাই বলা যায়, আধুনিক সমাজকর্ম পেশা মূলত ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের কাছে বিশেষভাবে ঋণী।
Related Question
View Allসমাজকর্মের বিকাশের ধারা দুই ভাগে বিভক্ত।
আপদকালীন সময়ে আর্তদের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করার ব্যবস্থার নাম লঙ্গরখানা।
লজ্জার শব্দটি ফার্সি শব্দ। এর অর্থ সমাজের দুস্থ ও নিঃস্বদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমাজের যেকোনো শ্রেণির মানুষের জন্যই লঙ্গরখানার খাবারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত থাকে।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার কথা বলা হয়েছে।
সমাজকর্মের পরিধিভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নারীদের উন্নয়ন সাধন, সমাজে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করা। এ লক্ষ্যে সমাজকর্ম কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। পাশাপাশি মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়। সমাজে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণেও সমাজকর্ম বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম বিভিন্ন সামাজিক আইনের প্রয়োগ করে। আবার, সমাজে উদ্ভূত বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন- জনসংখ্যা সমস্যা, বেকারত্ব, কিশোর অপরাধ, নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, যৌতুকপ্রথা, মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতি সমস্যা সমাধানেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সদস্যরা কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্য অধিকার ও সেবা সহজলভ্য করা, দক্ষতা বৃদ্ধি, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথার অবসান প্রভৃতিনিয়ে কাজ করে। আর এ কার্যক্রম সমাজকর্মের পরিধিভুত্ব নারীকল্যাণ সাধন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সমস্যা দূরীকরণের অন্তর্ভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিস্ট।
সমাজের বিভিন্ন প্রথা, প্রতিষ্ঠান, রীতিনীতি, আইন, সামাজিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যেগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো দূর করার জন্য জনগণের সুসংগঠিত ও সমন্বিত প্রচেষ্টাকে সামাজিক আন্দোলন বলা হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে নারীর ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণের সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ যৌতুক প্রভৃতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা হলো সামাজিক আন্দোলন। উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ডেও তাই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক কিশোরীদের বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও তাদের জীবনমানের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন, বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, যৌন নিপীড়ন ও যৌতুক প্রথা প্রভৃতি সমস্যা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ থেকে এগুলো দূর করতে ভূমিকা পালন করছে। কারণ এই সমস্যাগুলো সমাজের জন্য ক্ষতিকর আর এগুলো দূর করার জন্য জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। আর সমাজের জন্য ক্ষতিকর রীতিনীতি দূর করতে জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হলো সামাজিক আন্দোলন। স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে সুসংগঠিত করে এসব সমস্যা দূর করতে কাজ করছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের কর্মকাণ্ড সামাজিক আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট।
সমাজকর্ম পেশাগত সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।
সমাজকর্মের পরিধি বলতে মূলত এর ব্যবহারিক দিকের প্রয়োগক্ষেত্র বা প্রয়োগ উপযোগিতাকে বোঝানো হয়।
সমাজকলা পূর্ববজেতাদের অশ্রণির জনগণের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলাপূর্বক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্ভাব্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে প্রচেষ্টা চালায়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে গোটা সমাজই সমাজকর্মের পরিধি বা ক্ষেত্রের আওতাভুক্ত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!