'Criminal Behaviour Systems A Typology' গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন ক্লিনার্ড ও কুইনি।
সুষ্ঠু শিক্ষার মাধ্যমে শিশু বিভিন্ন সামাজিক গুণাবলি বা বৈশিষ্ট্যাবলি অর্জন করে। আবার শিক্ষাব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ হলে এটির মাধ্যমেই শিশুরা সমাজবিরোধী হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পরিবেশ থেকে আসার ফলে তাদের বিভিন্ন ধরনের নীতি- নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থাকতে পারে। ফলে নীতি-নৈতিকতা ও মূল্যবোধের সংঘাত হতে পারে। ফলে শিশুদের মধ্যে মানসিকভাবে কোনো শিশু ক্লিষ্ট হয়ে অপরাধী হয়ে উঠতে পারে।
উদ্দীপকে অপরাধের কারণ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। অপরাধের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রবস্তা হলেন কার্ল মার্কস। মার্কসীয় বিশ্লেষণ অনুযায়ী পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতি হচ্ছে অপরাধ। ডাচ মার্কসবাদী বোঙ্গার বলেন, পুঁজিবাদ এমন এক ধরনের ব্যক্তিত্বের জন্ম দেয় যা তাকে নিজ স্বার্থ অন্বেষণ এবং চরিতার্থে সর্বদা মদদ জোগায়। অপরাধ কেবল শোষিত দরিদ্র শ্রেণির অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়াই নয়, বরং অপরাধ হচ্ছে পুঁজিবাদী সমাজের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাহীনতার ফলশ্রুতি। অনুরূপভাবে উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক নাসিমা হক আইন অমান্য করার কারণ হিসেবে পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথাও বলেছেন যা অপরাধের কারণ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে অপরাধের কারণ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে।
আইন ভঙ্গ করা অপরাধকে নির্দেশ করে আর সামাজিক রীতিনীতি অমান্য করা বিচ্যুতিমূলক আচরণকে নির্দেশ করে। কোনো দেশের প্রচলিত আইন ভঙ্গ করা হলো অপরাধ। আর সমাজে বিদ্যমান আচার-আচরণ, রীতিনীতি, আদর্শ ও মূল্যবোধ পরিস্থিতি কাজ হলো বিচ্যুতিমূলক আচরণ। তাই বলা যায়, অপরাধ ও বিচ্যুতিমূলক আচরণ একই অর্থ বহন করে না। যেমনটা উদ্দীপকে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক নাসিমা হকের আলোচনায় ফুটে উঠেছে।
বিচ্যুতিমূলক আচরণ ও অপরাধ পরস্পর ঘনিষ্ঠ হলেও এগুলোর মধ্যে কতকগুলো পার্থক্য রয়েছে। নিচে তা উল্লেখ করা হলো-
বিচ্যুতি হলো সামাজিক আদর্শের বা লোকাচারের বিরুদ্ধাচারণ। অপরাধ হলো সুস্পষ্টভাবে আইনের লঙ্ঘন। বিচ্যুতির জন্যে আইনগত শাস্তি থাকে না। অপরাধের জন্যে রাষ্ট্রীয় আইনে শাস্তি নির্ধারিত হয়। সকল বিচ্যুতিই অপরাধ নয়। সকল অপরাধই বিচ্যুতিমূলক আচরণ। বিচ্যুতি হলো সমাজ বা গোষ্ঠীর মূল্যবোধের পরিপন্থি আচরণ। অপরাধ হচ্ছে আইনের পরিপন্থি আচরণ। বিচ্যুত আচরণের শাস্তি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নয়। অপরাধের শাস্তি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। বিচ্যুতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ। অপরাধ আইনবিরোধী আচরণ। বিচ্যুত আচরণ নিয়ন্ত্রণ অনেকখানি সহজ। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বেশ কঠিন।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে একথা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আইন ভঙ্গ করা আর সামাজিক রীতিনীতি অমান্য করা একই অর্থ বহন করে না।
Related Question
View Allধর্মের উৎপত্তি সংক্রান্ত একটি মতবাদ হলো সর্বপ্রাণবাদ।
ধর্ম হলো পবিত্র বস্তু সম্পর্কিত কতগুলো বিশ্বাস ও প্রথার সমষ্টি ।
মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই অতিমাত্রায় কোনো শক্তির উপর ভর বা বিশ্বাস করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। ধর্ম জ্ঞান অপেক্ষা বিশ্বাস দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত। বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির আশায় মানুষ প্রার্থনা করে। ধর্ম যেহেতু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় দ্বারা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত সেহেতু এটি মানসিক শান্তি প্রদান করে।
উদ্দীপকে সংঘটিত অপরাধের জন্য অর্থনৈতিক কারণ দায়ী।
অপরাধের একটি অন্যতম কারণ হলো অর্থনীতি। যেমনটি মার্কস বলেছেন পুঁজিবাদী অর্থনীতির শোষণের ফলশ্রুতিই অপরাধ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সমাজে আর্থিক অনটন দেখা গেলে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। গরিব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অপরাধী বেশি দেখা যায়। কারণ ধন-সম্পদের অধিকারীরাই আইন প্রণয়ন করে এবং অপরাধীদের বিচার তাদের এখতিয়ারে। তাই তারা অপরাধ করেও শাস্তি ভোগ থেকে রেহাই পেতে পারে। আর গরিবরা অনেক সময় আর্থিক কারণে অপরাধ করে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেমন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে তেমনি অত্যধিক ধন লাভের আকাঙ্ক্ষা থেকেও অপরাধ সংঘটিত হতে পারে আর্থ- সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত মানুষের একটি অংশ তাদের পেশাগত কাজের মাধ্যমে অপরাধ করে থাকে যাকে ভদ্রবেশী অপরাধ বলে। যেমন- ঘুষ, দুর্নীতি ইত্যাদি।
উদ্দীপকের রহমত তার স্বল্প উপার্জনে পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে সক্ষম হলেও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা খরচ চালাতে ব্যর্থ হয়। বাবার চিকিৎসার অর্থ যোগানের জন্যই সে টাকা চুরি করে। অতএব এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, রহমতের অপরাধ সংগঠনের পিছনে অর্থনৈতিক কারণটিই দায়ী।
উদ্দীপকে রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
সমাজজীবনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জানো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মাঝে শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। তাই প্রতিটি সমাজে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা প্রচলিত থাকে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণ মূলত দুটি মাধ্যমে তথা আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে হতে পারে। এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা, ধর্ম, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, আইন, প্রথা প্রভৃতি মাধ্যম ভূমিকা রাখে। সমাজের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবারের আদর্শ, মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, জীবনযাপন পদ্ধতি ব্যক্তির জীবনে স্থায়ী ছাপ ফেলে যা সামাজিক জীবনকেও প্রভাবিত করে। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের আরেকট গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো শিক্ষা। শিক্ষা মানুষকে ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দের ভেদাভেদ শেখায় এবং তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক আদর্শ-মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ফলশ্রুতিতে মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ, রীতি-নীতি সমাজ কাঙ্ক্ষিত পন্থায় গড়ে ওঠে। এছাড়া সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ যোগায়। সুষ্ঠু সমাজজীবনের স্বার্থে একটি সমাজে আইন ব্যবস্থা প্রচলিত হয়। আইন প্রণয়নের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীর শাস্তির বিধান করা হয়, যা সামাজিক নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়। এছাড়া এসকল বিষয় ছাড়াও ব্যক্তির নিজস্ব মূল্যবোধ, আদর্শ, রীতি-নীতির পাশাপাশি সমাজের আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, লোকাচার ও লোকরীতি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন প্রকৃতি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
উদ্দীপকে রহমত টাকা চুরি করার পর পত্রিকায় একজন রিকশাচালকের সততার সংবাদ পড়ে অনুপ্রাণিত হয়। যার ফলে সে সিদ্ধান্ত নেয় চুরি করা টাকা পুনরায় নির্দিষ্ট স্থানে রেখে দিবে। রহমতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে তার নিজস্ব মূল্যবোধ, রীতি-নীতি, আদর্শ স্থানীয় ব্যক্তিত্ব, প্রচার মাধ্যম ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ব্যক্তিকে সমাজ স্বীকৃত রীতিনীতির মাধ্যমে সমাজে বসবাসের উপযুক্ত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমগুলোর উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিদ্যমান।
"সমাজবিজ্ঞান একমাত্র বিজ্ঞান যা সমাজ এবং সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে অধ্যয়ন করে।"- সংজ্ঞাটি সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজের।
সমাজবিজ্ঞানে গোটা সমাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা থাকে বলে সমাজবিজ্ঞানকে বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান কেবল সমাজের প্রপঞ্জ বা ঘটনাবলির আলোচনাই করে না, বরং ঐ প্রপঞ্চ বা ঘটনাসমূহের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়ের প্রচেষ্টাও চালায়। এক্ষেত্রে যুক্তিবাদী বিচার- বিশ্লেষণের সহায়তা নেয়া হয়। তাই সমাজবিজ্ঞানকে একটি বিশ্লেষণধর্মী বিজ্ঞান বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!