গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল দাসদের উৎপাদনের জীবন্ত বা মানবরূপী হাতিয়ার হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
স্তরবিন্যাস মূলত সামাজিক কারণ। সমাজের সদস্যরাই স্তরবিন্যাসে বিশ্বাসী অথবা তাদের মনোভাব, মতামত বা মূল্যায়নই স্তরবিন্যাসের ভিত্তি।
স্তরবিন্যাসের জৈবিক উপাদান যথা-বয়স, লিঙ্গ, উচ্চতা, শক্তি, নরবংশ ইত্যাদি সামাজিক মর্যাদার অবস্থান নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এগুলো এ কারণেই গুরুত্বপূর্ণ যে সমাজের সদস্যবৃন্দের বিচারে তা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত। কেননা, সমাজ এগুলোর প্রভাব ও গুরুত্ব স্বীকার করে। অনেক সমাজে বেটের চেয়ে লম্বা, অতিশয় মোটার চেয়ে হাল্কা পাতলা গড়নের মানুষকে বেশি মর্যাদা দেয়।
বোর্ডে উল্লিখিত দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বটি মার্কসের দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বকে নির্দেশ করছে এবং এক সময় এই দুই শ্রেণির মধ্যকার দ্বন্দ্বে সামাজিক পরিবর্তন সাধিত হবে। সুতরাং তত্ত্বটি মার্কসের।
দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্ব সমাজের স্তরবিন্যাস বিশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। এ তত্ত্ব প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সমাজের অর্থনৈতিক সম্পর্কের সাথে যুক্ত। সামাজিক স্তরবিন্যাসের মার্কসীয় তত্ত্বে উৎপাদন যন্ত্রের মালিকানা ও অমালিকানার ভিত্তিতে সামাজিক শ্রেণিসমূহকে সংজ্ঞায়িত করা হয় এবং এভাবে ইতিহাসের প্রত্যেক শ্রেণিসমাজে পরস্পরবিরোধী দুটো প্রধান শ্রেণির অস্তিত্ব থাকে। একটি শ্রেণি গঠিত হয় তাদের দ্বারা যারা উৎপাদনের সাথে জড়িত নয় অর্থাৎ শোষক শ্রেণি আবার অপরটি হলো উৎপাদন সম্পর্কের সাথে যারা জড়িত অর্থাৎ শোষিত শ্রেণি।
সুতরাং বলা যায় যে, দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বের মাধ্যমে সমাজের স্তরবিণ্যাস বিশ্লেষণে দ্বান্দ্বিক মতবাদীদের মধ্যে কার্ল মার্কসের নাম অন্যতম।
উদ্দীপকে কার্ল মার্কসের দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্ব আলোচিত হয়েছে।
ডরেনডর্ফের দ্বন্দ্বমূলক তত্ত্বের মূল ভিত্তি হলো তিনি মার্কসের তত্ত্বকে খণ্ডন ও গ্রহণ করতে চেয়েছেন। ডরেন ডর্ফ দ্বান্দ্বিক তত্ত্বে দলীয় স্বার্থের কথা বলেন। মার্কসও দলীয় স্বার্থের কথা বলেন। তবে মার্কস যে শ্রেণি দ্বন্দ্বের কথা বলেন, ডরেনডর্ফ তা স্বীকার করেন। মার্কস বলেন, শ্রেণি সংগ্রাম একটি পর্যায়ে এসে থাকবে না। এক্ষেত্রে ডরেনডর্ফ বলেন, যেখানে সমাজ থাকবে সেখানেই দ্বন্দ্ব থাকবে। মার্কস বলেন, শ্রেণিদ্বন্দ্ব হবে অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু ডরেনডর্ফ বলেন, কেবল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে স্বল্প থাকে না। কারণ শিল্প সমাজের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় উচ্চ শ্রেণির লোকেরা বেশি দিন উৎপাদন সম্পর্ক ধরে রাখতে পারে না। শ্রেণিদ্বন্দ্বের কথা বলতে গিয়ে ডরেনডর্ফ বলেন, দ্বন্দ্ব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে থাকবে। মার্কস কেবল শিল্প প্রতিষ্ঠানের কথা এবং সমাজে স্বন্দ্বের কথা বলেছেন। কিন্তু ডরেনডর্ফ তার তত্ত্বে সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কথা বলেছেন।
সুতরাং বলা যায় যে, ডরেনডর্ফের তত্ত্বে মার্কসের প্রভাব থাকলেও, মার্কস ও ডরেনডর্ফের তত্ত্বের মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান।
Related Question
View AllCaste শব্দের অর্থ বংশ বা বংশগত গুণাবলি। এর দ্বারা জাতিবর্ণ প্রথাকে বোঝায়।
সামাজিক পরিবর্তনে 'তথ্য প্রযুক্তির' গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব অপরিসীম। তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম উপাদান হিসেবে ভূমিকা রেখে চলছে। এর উন্নতি ও প্রসার সামাজিক মনোভাব, প্রথা বা প্রতিষ্ঠানকে ধারাবাহিকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি আবিষ্কার, কেবল প্রযুক্তি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, অপটিক্যাল ফাইবার, ইন্টারনেট প্রভৃতি আবিষ্কার বিশ্বব্যাপী তথ্য যোগাযোগের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছে। তাই বলা যায় যে, তথ্য প্রযুক্তি সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাউদ্দীপকে ছকের'?' চিহ্নিত স্থানে অন্যতম সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় সামাজিক স্তরবিন্যাস নির্দেশিত হয়েছে।
সামাজিক স্তরবিন্যাস হচ্ছে এমন এক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সমাজের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে অন্যান্য আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়। এককথায় সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠী বা শ্রেণির উঁচু-নীচু অবস্থান বা বিন্যাস ব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার এবং পেজ বলেন, 'সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে মর্যাদা অনুযায়ী স্তরবিভাগকে বোঝায়। দার্শনিক কার্ল মার্কস-এর মতানুসারে অর্থনীতির মানদণ্ডে সমাজের মানুষের যে ভেদাভেদ সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। অথবা উৎপাদনের উপকরণের মালিকানার ভিত্তিতে মানুষ যে ভেদাভেদ সেটাই সেটাই সামাজিক স্তরবিন্যাস। সামাজিক স্তরবিন্যাস সমাজ বা কালভেদে আলাদা হতে পারে। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরণগুলোকে পর্যালোচনা করে সমাজবিজ্ঞানীরা চারটি ধরনের কথা বলেছেন যথা: ১. দাসপ্রথা, ২. এস্টেট প্রথা, ৩. জাতিবর্ণ, ৪. সামাজিক শ্রেণি ও মর্যাদা গোষ্ঠী।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের এ চারটি প্রকারভেদই বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের "?" স্থানে সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রত্যয়টিই নির্দেশিত হয়েছে।
"উক্ত সমাজতাত্ত্বিক প্রত্যয় তথা সামাজিক স্তরবিন্যাস ছাড়া পৃথিবীর কোনো সমাজকে কল্পনা করা যায় না'- আমি এ বক্তেব্যের সাথে একমত।
সামাজিক স্তরবিন্যাস হলো চিরন্তন ও সর্বজনীন। সমাজজীবনের সূচনা থেকেই সামাজিক স্তরবিন্যাসের উদ্ভব ঘটেছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এমন কোনো সমাজব্যবস্থার পরিচয় পাওয়া যায় না যা পরিপূর্ণভাবে সাম্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আদিম অধিবাসীদের জীবনেও দলপতির প্রভাব প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত ছিল। এসব প্রভাব প্রতিপত্তিকে কেন্দ্র করে কিছুসংখ্যক ব্যক্তি অধিকতর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতো। এজন্য স্তরবিন্যাসমুক্ত সমাজ কল্পনাতীত। কালের বিবর্তনের ধারায় সামাজিক স্তরবিন্যাসের আকৃতি প্রকৃতিতে পরিবর্তন ঘটছে। যুগে যুগে স্তরবিন্যাসের রূপরেখা পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু স্তরবিন্যাস কথনো বিলুপ্ত হয়নি। বাস্তবে বৈষম্যহীন বা শ্রেণিহীন সমাজব্যবস্থা কল্পনা করা যায় না। সব সমাজেই কম-বেশি স্তরবিন্যাস লক্ষ করা যায়। প্রাচীন তথা আদিমযুগের যূথবদ্ধ সমাজ থেকে বর্তমানের আধুনিক শিল্পসমাজ সর্বত্র সামাজিক স্তরবিন্যাস প্রক্রিয়াটি বিদ্যমান ছিল এবং আছে। স্তরবিহীন কোনো সমাজ নেই। অর্থ-সম্পদ, মেধা, বংশ, পেশা, বয়স, লিঙ্গ, ক্ষমতা, শিক্ষা এর কোনো না কোনো একটির ভিত্তিতে সমাজকে স্তরায়িত করা যায়। এ সম্পর্কে জন মিলার বলেন- শ্রেণি, পদমর্যাদা, সামাজিক উঁচুনিচু ভেদাভেদ সর্বজনীন। ক্রমান্বয়ে সামাজিক আবর্তন-বিবর্তন ও পরিবর্তনের ফলে তা সম্পত্তির মালিকানা ও পদমর্যাদার ওপর নির্ভর করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সামাজিক স্তরবিন্যাস। চিরন্তন ও সর্বজনীন। আর এটি সব সমাজেই বিদ্যমান। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া হলো উন্নয়ন।
বংশমর্যাদা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকার সন্তান সন্ততি যদি পিতার কাছ থেকে পায়, সেক্ষেত্রে এ ধরনের পরিবারকে পিতৃসূত্রীয় পরিবার বলে।
পিতৃসূত্রীয় পরিবারের নেতৃত্ব, সম্পত্তি, বংশমর্যাদা ইত্যাদি উত্তরাধিকারসূত্রে পিতা থেকে পুত্রের কাছে আসে। এখানে দাদা, বাবা, পুত্র ও নাতিকে নানা, মাতা, মেয়ে ও নাতনির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের প্রচলিত সমাজ ও চাকমা সমাজে এ ধরনের পরিবার প্রচলিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!