উক্তিটি সমাজবিজ্ঞানের জনক ফরাসি দার্শনিক অগাস্ট কোঁত (Auguste Comte)-এর। তিনিই সর্বপ্রথম 'Sociology' শব্দটি ব্যবহার করেন এবং সমাজবিজ্ঞানকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
অগাস্ট কোঁত বিশ্বাস করতেন যে, সমাজবিজ্ঞান মূলত সমাজের দুটি প্রধান দিক নিয়ে কাজ করে: সামাজিক স্থিতিশীলতা (Social Statics) এবং সামাজিক গতিশীলতা (Social Dynamics)।
- সামাজিক স্থিতিশীলতা (Social Statics): এটি সমাজের গঠন, তার বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক এবং সামাজিক শৃঙ্খলার অধ্যয়ন। কোঁত এটিকে জীববিজ্ঞানের অ্যানাটমি বা শরীরসংস্থান বিদ্যার সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন পরিবার, ধর্ম, সরকার কীভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে সমাজের ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখে, তা বিশ্লেষণ করা হয়।
- সামাজিক গতিশীলতা (Social Dynamics): এটি সমাজের পরিবর্তন, বিকাশ এবং অগ্রগতির অধ্যয়ন। কোঁত এটিকে জীববিজ্ঞানের ফিজিওলজি বা শরীরতত্ত্ব বিদ্যার সাথে তুলনা করেছেন, যেখানে সমাজের বিবর্তনশীল প্রক্রিয়া এবং পরিবর্তনের নিয়মাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি তাঁর বিখ্যাত 'ত্রি-স্তরীয় সূত্র' (Law of Three Stages)-এর মাধ্যমে মানব সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামাজিক গতিশীলতাকে ব্যাখ্যা করেছেন।
এই দুটি ধারণার মাধ্যমে কোঁত সমাজবিজ্ঞানকে এমন একটি বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন যা সমাজের গঠন ও তার বিবর্তন উভয়কেই বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম।
Related Question
View Allপরিবার: পরিবার হলো সমাজের ক্ষুদ্রতম ও আদিমতম সামাজিক সংগঠন। সাধারণত, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি নিয়ে গঠিত একটি গোষ্ঠী, যেখানে সদস্যরা রক্ত, বিবাহ বা পোষ্যসূত্রে আবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে বসবাস করে এবং পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য পালন করে। এটি সামাজিক রীতিনীতি দ্বারা স্বীকৃত এবং এর একটি নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তিও থাকে।
সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান: 'সর্বজনীন' বলতে বোঝায় যা সব জায়গায়, সব সমাজে এবং সব যুগে বিদ্যমান। পরিবারকে সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান বলার অর্থ হলো, পৃথিবীর প্রতিটি মানব সমাজে, সংস্কৃতি বা ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে, এর অস্তিত্ব অনস্বীকার্য। সভ্যতার প্রাচীনতম কাল থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত এবং বিশ্বের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পরিবারের কোনো না কোনো রূপ বিদ্যমান রয়েছে।
পরিবারকে একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করার মূল কারণগুলো নিম্নরূপ:
- যৌন চাহিদা পূরণ ও বংশবৃদ্ধি: পরিবার মানবজাতির জৈবিক যৌন চাহিদা পূরণের একটি বৈধ ও সামাজিকীকৃত মাধ্যম। এর মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটে এবং মানবপ্রজাতির অস্তিত্ব বজায় থাকে।
- সন্তান প্রতিপালন ও সামাজিকীকরণ: পরিবারই নবজাতকের আশ্রয়স্থল। জন্মলগ্ন থেকে একটি শিশুর শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও সামাজিক বিকাশে পরিবার প্রধান ভূমিকা পালন করে। শিশুরা পরিবারের মাধ্যমেই সমাজের রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।
- অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: পরিবার তার সদস্যদের খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়সহ মৌলিক অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। এটি সদস্যদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন এবং উৎপাদন ও ভোগ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে।
- মানসিক ও আবেগিক নিরাপত্তা: পরিবার সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, স্নেহ, সহানুভূতি ও নির্ভরশীলতার সম্পর্ক তৈরি করে। এটি মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং আবেগিক সমর্থন প্রদান করে, যা মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য।
- সামাজিক কাঠামো গঠন: পরিবার সমাজের ক্ষুদ্রতম একক হলেও এটি বৃহত্তর সামাজিক কাঠামো ও সংগঠনের ভিত্তি। বিভিন্ন পরিবারের সমন্বয়েই সমাজ গঠিত হয় এবং প্রতিটি পরিবার সমাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে।
যদিও পরিবার কাঠামোগতভাবে (যেমন: একক পরিবার, যৌথ পরিবার) বা কার্যগতভাবে বিভিন্ন সমাজে ভিন্নতা প্রদর্শন করতে পারে, কিন্তু এর মৌলিক উপস্থিতি এবং মানবজাতির অপরিহার্য প্রয়োজনগুলো পূরণের সক্ষমতা এটিকে একটি সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে।
উদ্দীপকের তানিয়ার পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান।
উদ্ভব: অষ্টাদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে সমাজজীবনে যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে, তার প্রেক্ষাপটেই সমাজবিজ্ঞানের উদ্ভব হয়।
আলোচনা: এই বিষয়টি সমাজের সামগ্রিক দিক নিয়ে আলোচনা করে, যা সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক কাঠামো, সামাজিক সম্পর্ক এবং সমাজের বাস্তবতাকে বুঝতে সাহায্য করে।
সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান সমাজজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপরিহার্য কারণ:
সামাজিক সমস্যার সমাধান: এটি বেকারত্ব, দারিদ্র্য, অপরাধপ্রবণতা, এবং বৈষম্যের মতো সামাজিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে এবং সমাধানের উপায় খুঁজতে সাহায্য করে।
সামাজিক পরিবর্তন বোঝা: সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান সমাজের পরিবর্তন ও উন্নয়নের প্রক্রিয়া বুঝতে এবং এর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করে।
সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়ন: এটি বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠী, সম্প্রদায়, এবং সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা করে।
নীতি নির্ধারণে সহায়তা: সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা সামাজিক নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান ব্যবহার করে, যা সমাজের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ব্যক্তিগত জীবন: এটি ব্যক্তিকে তার পারিপার্শ্বিক সমাজ এবং সেখানে নিজের ভূমিকা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!