মানবকৌতূহল যৌক্তিকভাবে নিবৃত করার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাধারণভাবে বলতে গেলে বিজ্ঞান হচ্ছে 'কোন বিষয় সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান।' অর্থাৎ পরীক্ষা, প্রমাণ, যুক্তি ইত্যাদি দ্বারা নির্ণীত সুশৃঙ্খল জ্ঞানই হচ্ছে বিজ্ঞান। আবার এমনও বলা হয়ে থাকে যে, সুসংবদ্ধ জ্ঞানই বিজ্ঞান। এছাড়া পর্যবেক্ষণ এবং তথ্য যাচাইয়ের ভিত্তিতে অর্জিত জ্ঞানকেও বিজ্ঞান বলে অভিহিত করা যায়। অর্থাৎ পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত যে বিশেষ জ্ঞান মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে তাই বিজ্ঞান।
হাসান সাহেব তার এলাকার অপরাধপ্রবণতা বিষয়ক সমস্যায় সমাজবিজ্ঞানের যে গবেষণা পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন তা হলো দার্শনিক পদ্ধতি। কেননা হাসান সাহেবের ব্যবহৃত পদ্ধতিটি সর্বাধিক প্রাচীন যা দার্শনিক পদ্ধতিকে নির্দেশ করে।
সামাজিক বিজ্ঞানের আলোচনা ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি সর্বাধিক প্রাচীন। দার্শনিক পদ্ধতিতে একজন সমাজ গবেষক দার্শনিকের মতোই কাজ করে থাকেন। কোনো বস্তু, বিষয়, সমাজ বা ব্যক্তিকে তিনি বিশেষভাবে অনুধাবন করার চেষ্টা করেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি একদিকে যেমন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ের ওপর নিবন্ধ থাকে, অন্যদিকে গবেষণাধীন বিষয়ের ব্যাপকতা এবং সর্বজনীনতার প্রতিও তাকে সতর্ক থাকতে হয়। সেই সাথে তিনি তার দর্শনে খামখেয়ালিপনার স্থান না দিয়ে বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেবেন। সমাজবিজ্ঞানীরা নিজস্ব বিচার বুদ্ধি দিয়ে সমস্যার বিচার-বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করে জীবন্ত ও অর্থবহ করে তুলবেন এবং সেক্ষেত্রে প্রয়োজন দার্শনিক পদ্ধতির।
অতএব আমরা বলতে পারি যে, অপরাধপ্রবণতার সমস্যায় গবেষক দার্শনিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দার্শনিক এবং প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও পর্যবেক্ষণ | পদ্ধতিসমূহ ছাড়াও সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত পদ্ধতিসমূহের একটি তালিকা নিম্নে প্রস্তুত করা হলো:
ঐতিহাসিক পদ্ধতি: অতীত ঘটনার বস্তুনির্ভর, অনুসন্ধানমূলক, বিস্তৃত এবং পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত লিখিত বিবরণই ইতিহাস। আর ঐতিহাসিক ঘটনা বর্ণনার ভিত্তিতে অতীত ঘটনা সম্পর্কে যুক্তিনির্ভর গবেষণা প্রচেষ্টাকে ঐতিহাসিক পদ্ধতি বলা হয়।
ঘটনা অনুধ্যান বা অধ্যয়ন পদ্ধতি: সমাজ গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো ঘটনা অধ্যয়ন। সাধারণত একাধিক প্রজ্ঞা বা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে একটি সাধারণ সূত্রে উপনীত হওয়ার প্রচেষ্টাকে বলা হয় ঘটনা অধ্যয়ন পদ্ধতি।
সামাজিক জরিপ পদ্ধতি: কোনো সমাজের অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন কৌশলে তথ্যাবলি সংগ্রহ, তথ্যাবলির ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া হচ্ছে সামাজিক জরিপ পদ্ধতি।
পরীক্ষণ পদ্ধতি: একটি সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাধীনে দুই বা ততোধিক ঘটনার মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নিয়ে কাজ করার পদ্ধতিকে পরীক্ষণ পদ্ধতি বলা হয়।
পরিসংখ্যান পদ্ধতি: এ পদ্ধতির দ্বারা বিভিন্ন সামাজিক ঘটনাবলির মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য গাণিতিক পরিমাপ করা হয়। উন্নয়নশীল সমাজ অধ্যয়নের জন্য এ পদ্ধতির গুরুত্ব অপরিসীম।
Related Question
View Allহার্বাট স্পেন্সার তার The Principles of Sociology' গ্রন্থে চার ধরনের সমাজের কথা উল্লেখ করেছেন।
গণমাধ্যম আধুনিককালে ব্যক্তির সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন নিয়ন্ত্রণের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
গণমাধ্যম বলতে বোঝানো হয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইত্যাদিকে। এসব মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ, বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান শিশুদেরকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে। এর ফলে শিশু-কিশোররা নিজেদেরকে সমাজ-সংস্কৃতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে শেখে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকশিত হয়।
উদ্দীপকের আশুর পঠিত বিষয়ের সাথে অর্থাৎ- সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে।
আমরা জানি, সমাজবিজ্ঞান ঠিক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মতো নয়, তবে এটি গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও কলাকৌশল প্রয়োগ করে। বিজ্ঞানের উদ্দেশ্য প্রজ্ঞা, ধীশক্তি, নির্দেশনা বা ধারণার জন্ম দেওয়া নয়, বরং জ্ঞানের উদ্ভাবন। সেদিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করে। এক্ষেত্রে প্রথমে গবেষণার বিষয় নির্ধারণ করা হয়। তারপর নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, সংগৃহীত তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, অনুসিদ্ধান্ত প্রণয়ন এবং তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয় এবং এর ভিত্তিতে একটি সাধারণ সূত্রে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নেওয়া হয়। অর্থাৎ সমাজবিজ্ঞান বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণলব্ধ তথ্যসমূহের বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক জ্ঞান অন্বেষণের প্রচেষ্টা চালায়। এদিক থেকে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞান গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের আশু বলে, সমাজের গতি-প্রকৃতি জানতে হলে একটি বিষয় অধ্যয়ন করতে হয় এবং এ বিষয়টি পদ্ধতিগত দিক থেকে বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়েছে। আশুর এ বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞানের প্রকৃতি ফুটে উঠেছে। আর সমাজবিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক মিল বা সাদৃশ্য যা উপরের আলোচনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, আশুর পঠিত বিষয় সমাজবিজ্ঞানের সাথে বিজ্ঞানের মিল বা সম্পর্ক রয়েছে।
উদ্দীপকের আশুর বক্তব্যে সমাজবিজ্ঞান পাঠের প্রয়োজনীয়তা ফুটে উঠেছে।
সমাজবিজ্ঞান বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান দান করে। সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের সমাজ সম্পর্কে ধারণা লাভ করা প্রয়োজন। আর সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা যায়। সমাজের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার কারা কতটা এবং কীভাবে ভোগ করছে, আর কারাইবা সমাজের সম্পদ ও সুযোগ- সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে জানা যায়।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল ও কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের কৃষির বৈশিষ্ট্য, সম্পর্ক, কাঠামো ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নের সমস্যা দূরীকরণে সমাজবিজ্ঞান পথ নির্দেশ করে। বাংলাদেশে দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জন অসন্তোষ, সম্পদহীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য সমাধান সূত্র নির্ণয়ে সমাজবিজ্ঞান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। সমাজ যেহেতু প্রধানত স্তৱায়িত, তাই সমাজ উন্নয়নে কোন শ্রেণির বা অর্থনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর কী ভূমিকা থাকে তা নিয়ে সমাজবিজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে আলোচনা করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকে জানতে ও বুঝতে হলে সমাজবিজ্ঞান পাঠের বিকল্প নেই। কারণ একমাত্র সমাজবিজ্ঞানই সমাজকে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করে।
বিজ্ঞান শব্দের আভিধানিক অর্থ বিশেষ জ্ঞান।
যুক্তি বিকাশের ধারাবাহিকতায় মানুষের অগ্রসর চিন্তার ফসল হচ্ছে একেশ্বরবাদ।
যুক্তির ধারাবাহিকতায় বহু ঈশ্বরের ক্ষমতা একজন ঈশ্বরের ওপর আরোপ করা হয়। এখানে মনে করা হয়, সকল প্রাকৃতিক ও সামাজিক ঘটনার সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ পরিণতি হচ্ছে সর্বশক্তিমান একক সত্তা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!