চারটি রেখাংশ দ্বারা আবদ্ধ চিত্র একটি চতুর্ভুজ। চিত্র দ্বারা আবদ্ধ ক্ষেত্রটি একটি চতুর্ভুজক্ষেত্র।
চতুর্ভুজের চারটি বাহু আছে। যে চারটি রেখাংশ দ্বারা ক্ষেত্রটি আবদ্ধ হয়, এ চারটি রেখাংশই চতুর্ভুজের বাহু।
A, B, C ও D বিন্দু চারটির যেকোনো তিনটি সমরেখ নয়। AB, BC, CD ও DA রেখাংশ চারটি সংযোগে ABCD চতুর্ভুজ গঠিত হয়েছে। AB, BC, CD ও DA চতুর্ভুজটির চারটি বাহু। A, B, C ও D চারটি কৌণিক বিন্দু বা শীর্ষবিন্দু ∠ABC, ∠BCD, ∠CDA ও ∠DAB চতুর্ভুজের চারটি কোণ। A ও B শীর্ষবিন্দু যথাক্রমে C ও D শীর্ষের বিপরীত শীর্ষবিন্দু। AB ও CD পরস্পর বিপরীত বাহু এবং AD ও BC পরস্পর বিপরীত বাহু। এক শীর্ষবিন্দুতে যে দুইটি বাহু মিলিত হয়, এরা সন্নিহিত বাহু। যেমন, AB ও BC বাহু দুইটি সন্নিহিত বাহু। AC ও BD রেখাংশদ্বয় ABCD চতুর্ভুজের দুইটি কর্ণ। চতুর্ভুজের বাহুগুলোর দৈর্ঘ্যের সমষ্টিকে এর পরিসীমা বলে। ABCD চতুর্ভুজের পরিসীমা (AB + BC + CD + DA) এর দৈর্ঘ্যের সমান। চতুর্ভুজকে অনেক সময় ‘☐’ প্রতীক দ্বারা নির্দেশ করা হয়।
চতুর্ভুজের প্রকারভেদ (Types of Quadrilaterals)
চারটি বাহু ও চারটি কোণ দ্বারা গঠিত বন্ধ জ্যামিতিক আকৃতিকে চতুর্ভুজ (Quadrilateral) বলে। একটি চতুর্ভুজের অভ্যন্তরীণ কোণসমূহের সমষ্টি সর্বদা ৩৬০°।
চতুর্ভুজের সাধারণ বৈশিষ্ট্য
চারটি বাহু থাকে
চারটি কোণ থাকে
দুটি কর্ণ থাকে
অভ্যন্তরীণ কোণসমূহের সমষ্টি = ৩৬০°
১. সামান্তরিক (Parallelogram)
যে চতুর্ভুজের বিপরীত বাহুগুলো সমান্তরাল ও সমান, তাকে সামান্তরিক বলে।
বৈশিষ্ট্য
বিপরীত বাহু সমান ও সমান্তরাল
বিপরীত কোণ সমান
কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমদ্বিখণ্ডিত করে
উদাহরণ: আয়তক্ষেত্র, বর্গক্ষেত্র, রম্বস
২. আয়তক্ষেত্র (Rectangle)
যে সামান্তরিকের চারটি কোণই সমকোণ (৯০°), তাকে আয়তক্ষেত্র বলে।
বৈশিষ্ট্য
সব কোণ ৯০°
বিপরীত বাহু সমান
কর্ণদ্বয় সমান
কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমদ্বিখণ্ডিত করে
উদাহরণ: বইয়ের পৃষ্ঠা, দরজার আকৃতি
৩. বর্গক্ষেত্র (Square)
যে আয়তক্ষেত্রের চারটি বাহুই সমান, তাকে বর্গক্ষেত্র বলে।
বৈশিষ্ট্য
চারটি বাহু সমান
চারটি কোণই ৯০°
কর্ণদ্বয় সমান
কর্ণদ্বয় পরস্পরকে সমদ্বিখণ্ডিত করে এবং লম্বভাবে ছেদ করে
উদাহরণ: দাবার ঘর, টাইলস
৪. রম্বস (Rhombus)
যে সামান্তরিকের চারটি বাহুই সমান কিন্তু কোণগুলো সমকোণ নাও হতে পারে, তাকে রম্বস বলে।
বৈশিষ্ট্য
চারটি বাহু সমান
বিপরীত কোণ সমান
কর্ণদ্বয় লম্বভাবে পরস্পরকে সমদ্বিখণ্ডিত করে
উদাহরণ: ঘুড়ির বিশেষ আকৃতি
৫. ট্রাপিজিয়াম (Trapezium)
যে চতুর্ভুজের কেবল একজোড়া বিপরীত বাহু সমান্তরাল, তাকে ট্রাপিজিয়াম বলে।
বৈশিষ্ট্য
একজোড়া বিপরীত বাহু সমান্তরাল
অন্য দুই বাহু অসমান্তরাল
উদাহরণ: সেতুর পার্শ্ব নকশা
৬. সমদ্বিবাহু ট্রাপিজিয়াম (Isosceles Trapezium)
যে ট্রাপিজিয়ামের অসমান্তরাল বাহুদ্বয় সমান, তাকে সমদ্বিবাহু ট্রাপিজিয়াম বলে।
বৈশিষ্ট্য
অসমান্তরাল বাহুদ্বয় সমান
ভিত্তিকোণসমূহ সমান
কর্ণদ্বয় সমান
৭. ঘুড়ি (Kite)
যে চতুর্ভুজের দুই জোড়া সন্নিহিত বাহু সমান, তাকে ঘুড়ি বলে।
বৈশিষ্ট্য
দুই জোড়া সন্নিহিত বাহু সমান
একজোড়া বিপরীত কোণ সমান
একটি কর্ণ অপর কর্ণকে সমদ্বিখণ্ডিত করে
উদাহরণ: খেলনার ঘুড়ি
চতুর্ভুজের কোণসমষ্টি
উদাহরণ
একটি চতুর্ভুজের তিনটি কোণ যথাক্রমে ৮০°, ৯০° ও ১০০° হলে চতুর্থ কোণ নির্ণয় করি।
মনে রাখার উপায়
সব বর্গক্ষেত্র আয়তক্ষেত্র এবং রম্বস
সব আয়তক্ষেত্র সামান্তরিক
সব রম্বস সামান্তরিক
সব সামান্তরিক চতুর্ভুজ, কিন্তু সব চতুর্ভুজ সামান্তরিক নয়
এটি একটি দ্বিঘাত সমমাত্রিক রাশি (homogeneous quadratic expression)। এই ধরনের রাশিকে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করার জন্য মধ্যপদকে (middle term) এমন দুটি পদে বিভক্ত করতে হয় যাদের গুণফল প্রথম ও শেষ পদের সহগের গুণফলের সমান এবং যোগফল মধ্যপদের সহগের সমান।
১. এখানে,
প্রথম পদের সহগ (coefficient) হলো \((a-1)\)।
শেষ পদের সহগ হলো \((a+1)\)।
মধ্যপদের সহগ হলো \(a^2\)।
২. প্রথম ও শেষ পদের সহগের গুণফল নির্ণয় করি:
\[ (a-1)(a+1) = a^2 - 1 \]
৩. এখন, আমাদের এমন দুটি সংখ্যা খুঁজে বের করতে হবে যাদের গুণফল \((a^2 - 1)\) এবং যোগফল \(a^2\)।