তিনদিকে স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং একদিকে জল, তাকে উপসাগর বলে। যেমন- বঙ্গোপসাগর।
সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ কর চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে। সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির কারণগুলো হলোঃ নিয়ত বায়ুপ্রবাহু, পৃথিবীর আহ্নিক গতি, সমুদ্র জলের তাপমাত্রায় পার্থক্য, মেরু অঞ্চলের সমুদ্রের বরফ গলন, সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য, সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য এবং ভূখন্ডের অবস্থান।
a ভূমিরূপটি হলো মহীসোপান এবং 'চ' ভূমিরূপটি হলো মহীঢাল।
স্থলভাগের মতো সমুদ্র তলদেশেও রয়েছে বৈচিত্র্যপূর্ণ বহু উঁচু নিচু ভূভাগ। সমুদ্র তলদেশের এসব বৈচিত্র্যপূর্ণ উঁচু নিচু ভূভাগের মধ্যে মহীসোপান ও মহীঢাল অন্যতম দুটি ভূমিরূপ। মহীসোপান ও মহীঢালের
মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:
i. মহাদেশের বাইরের দিকের নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান বলে। অন্যদিকে মহীসোপানের শেষ প্রান্ত হতে ভূভাগ হঠাৎ খাড়াভাবে নেমে গেছে। এ ঢালু অংশকে মহীঢাল বলে।
ii. মহীসোপানের বৈশিষ্ট্য পার্শ্ববর্তী স্থলভাগের ভূপ্রকৃতির ও গঠনের ওপর নির্ভর করে। পক্ষান্তরে মহীঢালের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে অসংখ্য আন্তঃসাগরীয় গিরিখাতের অবস্থান।
iii. মহীসোপান সমুদ্রের দিকে ক্রমশ ঢালু হওয়ায় বেশ প্রশস্ত। অপরদিকে মহীঢাল অধিক খাড়া হওয়ার জন্য খুব প্রশস্ত নয়।
iv. মহীসোপানে অবক্ষেপণ জমা হয়ে কালক্রমে পাললিক শিলার সৃষ্টি হয়। অপরদিকে মহীঢালে জলজ প্রকৃতির উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ সঞ্চিত হয়ে থাকে।
v. মহীসোপানের উপরিভাগ সমান। কিন্তু মহীঢালের উপরিভাগ সমান নয়।
a, b, c ভূমিরূপ তিনটি যথাক্রমে মহীসোপান, মহীঢাল এবং গভীর সমুদ্রখাত। এ তিনটি ভূমিরূপের মধ্যে মহীসোপান একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মহাদেশসমূহের চারদিকে সমুদ্রের উপকূল রেখা থেকে তলদেশের দিকে ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশই মহীসোপান। মহীসোপান অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি। মৎস্য খাদ্যের প্রাচুর্যহেতু মহীসোপান অঞ্চলেই মৎস্যের ব্যাপক সমাবেশ ঘটে এবং সেখানে মৎস্য শিকার ও মৎস্য ব্যবসার উন্নতি হয়েছে। এছাড়া এ অঞ্চল খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার হিসেবে গুরুত্ব বহন করে। মহীসোপান অঞ্চলকে সমুদ্রতট বা সৈকত বলে। মানুষ আনন্দ ভ্রমণের জন্য সৈকতে যায় ফলে পর্যটন শিল্পের বিকাশ হয়। সমুদ্রের এ অংশে বহু নুড়ি পাথর রয়েছে। এতে ম্যাঙ্গানিজ, লোহা, সীসা, তামা, নিকেল, দস্তা ইত্যাদি বহু মূল্যবান ধাতু পাওয়া যায়।
মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পদ সরবরাহের জন্য সমুদ্র তলদেশ বিপুল সম্ভাবনাময়। শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহে, খাদ্যের যোগান, খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার হিসেবে মহীসোপান গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যে, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান ইত্যাদিতে মহীসোপান ও এর উপরস্থিত সমুদ্র নানাভাবে সহায়তা করে থাকে।
উপরিউক্ত আলোচনায় দেখা যায়, মহীসোপান মানবজীবনে প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করে এবং এর প্রভাবও বিস্তৃত। তাই মানবজীবনে সমুদ্রখাতের চেয়ে মহীসোপানের অর্থনৈতিক গুরুত্ব বেশি।
Related Question
View Allপৃথিবীর গভীরতম (১০,৮৭০ মিটার) খাতের নাম ম্যারিয়ানা খাত (Mariana trench) যা প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
সমুদ্রের উপকূলরেখা থেকে তলদেশ পর্যন্ত ক্রমনিম্ন নিমজ্জিত অংশকে মহীসোপান (Continental shelf) বলে।
পৃথিবীর নদীবন্দরগুলোর অধিকাংশই মহীসোপান অঞ্চলে গড়ে ওঠেছে। ফলে এসব অঞ্চলে নৌচলাচল ও ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। মহীসোপানের তলদেশে খনিজ সম্পদের ভান্ডার থাকায় এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
চিত্রের 'A' চিহ্নিত স্থানের পানির প্রবাহ বা স্রোতটি হলো ল্যাব্রাডর স্রোত। এটি একটি শীতল স্রোত।
উত্তর মহাসাগর হতে আগত দুইটি সুমেরু শীতল স্রোত গ্রীনল্যান্ডের পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্ব দিয়ে দক্ষিণ দিকে' প্রবাহিত হয়ে ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের নিকট মিলিত হয়। এই মিলিত স্রোত শীতল ল্যাব্রাডর স্রোত নামে পরিচিত। এই স্রোতটি উত্তর আমেরিকার স্থলভাগের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এই স্রোতের জন্য উত্তর আমেরিকার ল্যাব্রাডর উপদ্বীপের বন্দরগুলো বছরের প্রায় নয় মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকে। এর উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু শুষ্ক ও শীতল হওয়ায় নিকটবর্তী স্থলভাগে বৃষ্টিপাত না হয়ে ব্যাপক তুষারপাত ঘটে। ফলে এ অঞ্চলে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার না হওয়ায় মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!