যেসব অবকাঠামো একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে তাকে অর্থনৈতিক অবকাঠামো বলে; যেমন- রাস্তাঘাট, সেতু, স্কুল-কলেজ ইত্যাদি।
মুসলিম যুগে বাংলা শিল্প ও বাণিজ্যে বেশ সমৃদ্ধ ছিল। এ যুগে বাংলা নৌশিল্পে যথেষ্ট উন্নত ছিল। কারণ এ সময় রণতরী, পালতোলা যাত্রীবাহী নৌকা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত বিভিন্ন জাহাজ তৈরি হতো। এছাড়া কুটির শিল্প, বস্ত্র, চিনি, লৌহ, বারুদ, কামান, বরফ, লবণ, কাগজ, অলঙ্কার ইত্যাদি শিল্পে বাংলা বিখ্যাত ছিল।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিধারা পরিবর্তন উদ্দীপকের আলোকে নিচে বর্ণনা করা হলো-
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৩-৪ বছর ধরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬% এর উপরে অবস্থান করছে। এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন খাতের ক্রমোন্নতি উল্লেখ করার মতো। যেমন: কৃষিখাতে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে যেখানে উৎপাদন হয়েছিল ২৬৪.৮৯ লাখ মেট্রিক টন, সেখানে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উৎপাদন দাঁড়ায় ৩৮৪.১৯ লাখ মেট্রিক টনে। আবার শিল্পোন্নয়নে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রণয়নের মাধ্যমে শিল্পখাতকে উন্নত করা হচ্ছে, যার ফলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জিডিপিতে এ খাতের অবদান ৩১.৫৪% হয়েছে। দেশে উন্নতমানের চিকিৎসা, অধিক জনসচেতনতা, শিক্ষার হার বৃদ্ধি ইত্যাদির কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হয়েছে ১.৩৭%। এ দেশের জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, কারিগরি জ্ঞানের প্রসার ইত্যাদি কারণে মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭অনুযায়ী এদেশে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ১৬০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অতএব বলা যায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তনের ধারা গতিশীল রয়েছে।
২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হবে। নিচে উক্ত পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো-
যেকোনো দেশের উন্নয়নে মানবসম্পদের উন্নয়ন অতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি দেশে যদি উন্নত মানবসম্পদ না থাকে তবে সে দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তাই এ মানবসম্পদের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে। আবার দেশের বিভিন্ন খাত যেমন- কৃষি, শিল্প ও সেবাখাতের উন্নয়নের মাধ্যমে সার্বিক GDP প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি, বায়োটেকনোলজি ও আইসিটি'র ব্যবহার এবং উফশী বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্পে নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং শিল্পনীতির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্পকে সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। সেবাখাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার প্রয়াশ চালাতে হবে।
এদেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বর্তমানে শক্তিশালী করার প্রয়াশ চালাতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ইত্যাদির মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
উদ্দীপকের বক্তাদের ধারণা অনুযায়ী উল্লিখিত পদক্ষেপসমূহ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বলে আমার বিশ্বাস।
Related Question
View Allবাংলাদেশে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন দেশ হলো বাংলাদেশ। ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বাংলাদেশের। অবস্থান বিস্তৃত। এ দেশের মধ্যভাগ দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। সাগরের অবস্থান বাংলাদেশের দক্ষিণে হওয়ার কারণে এ দেশের অবস্থান প্রান্তীয়। বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম, পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ।
উদ্দীপকে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। নিচে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের প্রকৃতি তুলে ধরা হলো-
দারিদ্র্য যেকোনো দেশের জন্যই অভিশাপ। সাধারণত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে। সেই দেশগুলোর জনগণের আয় অনেক কম থাকার কারণে সেসব দেশে সঞ্চয়ের পরিমাণও কম হয়। একটি দেশে যখন সঞ্চয়ের পরিমাণ কম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই দেশে বিনিয়োগ কম হবে। বিনিয়োগ যখন কম হয়, তখন সেই দেশের জনগণ বেকার থাকে। তাদের কর্মসংস্থানের অভাব দেখা দেয়, ফলে নিয়োগ কম হয়। একটি দেশে নিয়োগ, কর্মসংস্থান কম থাকার অর্থ সে দেশের উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো অচল থাকে অথবা উৎপাদন প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধও থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন কম হয়। একটি দেশের উৎপাদন কম হলে আয় কম হবে, এটাই স্বাভাবিক। এভাবেই একটি দেশ দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে আবদ্ধ থাকে।
অতএব বলা যায়, একটি দেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। অধিক জনসংখ্যা এ দেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য। অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ২৩.৫ ভাগ লোক বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে।
এ দেশেও তাই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিদ্যমান রয়েছে। এ দেশে অধিক জনসংখ্যার কারণে শ্রম সস্তা। এই সস্তা শ্রমের কারণে জনগণের আয় কম। আয় কম হওয়ার কারণে সঞ্চয় কম। ফলে বিনিয়োগ কম। তবে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যার ফলে দেশের অধিক জনসংখ্যার কিছু অংশের কর্মসংস্থান রয়েছে। তার পরও প্রায় ৩ কোটির উপরে বেকার জনগোষ্ঠী এ দেশে রয়েছে। ফলে এই নিয়োগ কম হওয়ায় আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না। আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার কারণে জনগণের আয়ও কম হচ্ছে। এভাবেই দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র যত দিন বাংলাদেশ থেকে দূর না হবে, তত দিন বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কৃষি। এদেশের মোট শ্রম শক্তির ৪৫.১% কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং প্রায় ৭৫% মানুষ কৃষির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ২০১৬-১৭অর্থবছরে দেশের জিডিপির ১৪.৭৯% আসে কৃষি থেকে। বাংলাদেশের শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগই আসে কৃষি থেকে। তাই বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!