হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শাসনকর্তা।
অষ্টম শতাব্দীর প্রথম দিকে কনৌজ ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। এ সময় যশোবর্মণ এ রাজ্যের রাজা ছিলেন। তাঁর সময় কনৌজ রাজনৈতিক প্রতিপত্তি ও সামরিক মর্যাদায় উত্তর ভারতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। যশোবর্মণের শাসনামলে তার সাম্রাজ্য হিমালয় হতে নর্দমা পর্যন্ত এবং বজাদেশ হতে থানেশ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ১০১৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান মাহমুদ কনৌজে অভিযান চালান।
উদ্দীপকের ঘটনা মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের কথা মনে করিয়ে দেয়।
দুবার অভিযান পরিচালনা করে ব্যর্থ হওয়া এবং সেই ব্যর্থতার গ্লানি দূর করতে পুনর্বার অভিযান পরিচালনা করাই উদ্দীপকে বর্ণিত চীনাদের অভিযান এবং মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের মধ্যে সাদৃশ্য স্থাপন করেছে। এক্ষেত্রে উভয় অভিযানের প্রকৃতি একই ধরনের।
উদ্দীপকের বর্ণিত চীনারা পূর্বে দুইবার চেষ্টা করেও জাপানের টোকিও নিয়ন্ত্রিত 'সেনকাকু দ্বীপ' দখল করতে পারেনি। এ প্রেক্ষিতে তারা আবার দ্বীপটি দখলের জন্য অভিযান পরিচালনা করেছে। এ ধরনের ঘটনা মুসলমানদের সিন্দু (বর্তমান পাকিস্তানের একটি প্রদেশ) অভিযানের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭১০ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে প্রথমে সেনাপতি ওবায়েদুল্লাহ এবং পরে বুদাইলের নেতৃত্বে সিন্ধুরাজ দাহিরের বিরুদ্ধে পরপর ২টি অভিযান প্রেরণ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অভিযান দুটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। দুবার পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে স্বীয় ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে সিন্ধুতে তৃতীয় অভিযান প্রেরণ করেন। মুহাম্মদ বিন কাসিম ৬০০০ বাছাই করা সৈন্য নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধুতে নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, অভিযানের প্রকৃতিগত দিক এবং ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় উদ্দীপকটি মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের সাথেই তুলনীয়।
উত্ত অভিযান অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের ফলে ব্রাহ্মণ্যবাদ, আলোর ও মুলতানের পতন ঘটেছিল।
আরবদের সিন্ধু বিজয় ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের উৎসাহ ও প্রেরণায় মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে আরবরা সিম্পুতে অভিযান প্রেরণ করেন, যা উদ্দীপকের চীন অভিযানেও লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে দিয়ায়ুস দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য চীন দুর্বার অভিযান প্রেরণ করে। দু'বার ব্যর্থ হবার পর ৩য় অভিযানে তারা সফলকাম হয়। অনুরূপভাবে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে অভিযানে আরবরা সিন্ধু ও মুলতানসহ বেশকিছু অঞ্চল অধিকার করতে সক্ষম হয়। সিন্ধু রাজ্যের রাজধানী ছিল আলোর। রাজ্যটি ব্রাহ্মণ্যবাদ, সিস্তান, ইস্কান্দো ও মুলতান চারটি প্রদেশে বিভক্ত ছিল। খলিফা ওয়ালিদের নির্দেশে প্রেরিত অভিযানে আরবরা দু'বার ব্যর্থ হয়। অবশেষে ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে অভিযানে সিন্ধুর দেবল বন্দর আক্রমণের মধ্যদিয়ে সিন্ধুতে কাসিমের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হয়। রাজা দাহিরের পরাজয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদ ও সিন্দুর রাজধানী আলোর আরবদের করতলগত হয়। অবশেষে মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু শক্তির শেষ উৎস মূলতান নগরী অবরোধ করেন। তীব্র প্রতিরোধ মোকাবিলা করে ৭১৩
খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বাহিনী মুলতান জয় করে। পরিশেষে বলা যায় যে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের ফলে ব্রাহ্মণ্যবাদ, আলোর ও মুলতানের পতন ঘটেছিল।
Related Question
View Allতরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১১৯২ সালে সংঘটিত হয়।
প্রাচীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত স্বামীর শবদেহের সাথে জীবিত বিধবা স্ত্রীকে একই চিতায় দাহ করার রীতিই সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত।
মৃত স্বামীর প্রতি বিধবা স্ত্রীর চূড়ান্ত আনুগত্য প্রদর্শনের একটি আচার হিসেবে প্রাচীন সমাজে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সতীদাহ প্রথা মেনে চলত। তখন স্বামীর মৃত্যু হলে বিধবা স্ত্রী স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিত। কিন্তু কালক্রমে এটি হিন্দু সমাজে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতায় রূপ নেয়। এক সময় ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজপতিরা বিধবাদের মৃত স্বামীর সাথে সহমরণ বরণ করে নিতে বাধ্য করে। তারা জোর করে অনেক বিধবাদের মৃত স্বামীর সাথে পুড়িয়ে মারতে শুরু করে। হিন্দু সমাজের এ জঘন্য ও নিষ্ঠুর রীতিই সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত শাসক সুলতান মাহমুদের মিল রয়েছে।
যেকোনো দেশ, রাজ্য বা অঞ্চলকে সমৃদ্ধিশালী ও সুসজ্জিত করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- এই অর্থের প্রয়োজনে অনেক শাসক বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়েছেন। উদ্দীপকের সুলতান সুলেমান এবং ইতিহাসখ্যাত সুলতান মাহমুদ উভয়ের মধ্যেই এ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান সুলেমান নিজ রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করার জন্য বিভিন্ন দেশে অভিযান প্রেরণ করেন। সেসব অভিযান থেকে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ কাজে লাগিয়ে তিনি তার শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন। তাছাড়া শিক্ষা বিস্তার ও দেশের উন্নয়নে তিনি ধন-সম্পদ ব্যয় করেন। বিখ্যাত সমরনেতা সুলতান মাহমুদও ধন-ঐশ্বর্যে ভরপুর ভারতবর্ষে বারবার আক্রমণ করে সুলতান সুলেমানের মতোই প্রচুর ধন-সম্পদ আহরণ করেছিলেন। তার উদ্দেশ্যও ছিল নিজের রাজ্যের উন্নয়ন ঘটানো। তাই তিনি ভারতবর্ষকে তার প্রয়োজনীয় অর্থভাণ্ডার মনে করে সেখানে ১৭ বার (১০০০ থেকে ১০২৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) অভিযান প্রেরণ করেন এবং প্রতিবারই জয়লাভ করে প্রচুর সম্পদ হস্তগত করেন। তিনি আহরিত অর্থ-সম্পদ কাজে লাগিয়ে গজনি রাজ্যকে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলেছিলেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। শিল্প ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি সুলতান সুলেমানের মতোই উদার ও আন্তরিক ছিলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের সুলতান সুলেমান ও গজনির শাসক সুলতান মাহমুদের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উত্ত শাসক তথ্য সুলতান মাহমুদ শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের একজন প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।
বিখ্যাত সমরনেতা সুলতান মাহমুদ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। শত্রুপক্ষের অধীন সকল রাজ্য জয় করে তাদের ক্ষমতার চূড়ান্ত বিলোপ সাধনই ছিল সুলতান মাহমুদের লক্ষ্য এবং তিনি তা অর্জনে সক্ষম হন। পাঞ্জাবে তার শাসন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষুদ্র গজনি রাজ্যকে তিনি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
ভারতীয় ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, "সুলতান মাহমুদ ছিলেন বড় মাপের নৃপতি।" একটি পার্বত্য ক্ষুদ্র রাজ্যতে শুধু বাহুবলে বিশাল ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যে পরিণত করা অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচায়ক। তার পূর্বে এশিয়ার অন্য কোনো আরব বা তুর্কি শাসক হিরাত, কাবুল ও গজনির বাইরে অগ্রসর হতে পারেননি। তিনি যে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তা বাগদাদের সমসাময়িক আব্বাসীয় খলিফার সাম্রাজ্য অপেক্ষা বিশাল ছিল বলে মনে করা হয়। মুসলিম শাসকদের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত পথে তিনিই প্রথম ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মুসলিম রাজবংশ প্রতিষ্ঠায় কৃতিত্বের অধিকারী না হলেও তারই দেখানো পথে মুহাম্মদ ঘুরী এদেশে এসে মুসলিম শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু কৃতী সেনানায়ক নয়, সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও সুলতান মাহমুদ খ্যাতি অর্জন করেন। অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা বলেই তিনি ক্ষুদ্র গজনিকে বিশাল সাম্রাজ্যে রূপায়িত করেছিলেন।
আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রাক্কালে সিন্ধু ও মুলতানের রাজা ছিলেন দাহির।
আরবদের সিন্ধু অভিযানের পূর্বে ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থা শোচনীয় ছিল।
প্রাক-মুসলিম ভারতীয় সমাজে সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল। তাছাড়া বিধবা বিবাহ প্রথার বিলোপ ঘটেছিল। তাই নারীরা সমাজে অবহেলিত হয়ে পড়েছিল। তারা সব ধরনের অধিকার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে এ চিত্র নিম্ন শ্রেণির নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যেত। অভিজাত পরিবারের নারীরা শিক্ষাগ্রহণ ছাড়াও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!