যে কোনো দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে বলে সমাজকর্মকে বিজ্ঞানসম্মত উপায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সমাজকর্ম মূলত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর একটি সাহায্যকারী প্রক্রিয়া। যে কোনো সমস্যার কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সমাধানের লক্ষ্যে এটি কাজ করে। এক্ষেত্রে মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার বাস্তবসম্মত তথা বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধান দেওয়া হয়। এ জন্যই সমাজকর্মকে বিজ্ঞানসম্মত উপায় বলা হয়।
সমাজকর্ম উদ্দীপকে বর্ণিত এলাকার জনগণকে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে শেখাবে। সেইসাথে স্বনির্ভরতা অর্জনের উপায় সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের মনোভাব পরিবর্তনে সহায়তা করতে পারে।
সমস্যাগ্রস্ত মানুষের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান ও আর্থ-সামাজিক উন্নতির জন্য স্বনির্ভরতা অর্জন জরুরি। আর এ জন্য নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করা আবশ্যক। কেননা, মানুষের চাহিদা অসীম হলেও সম্পদ সীমিত। আর এই সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া হিসেবে সমাজকর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকের ঘটনার ক্ষেত্রে সমাজকর্ম নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে উক্ত এলাকার মানুষকে স্বনির্ভর হতে সহায়তা করতে পারে। এতে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন হবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহের নদীবিধৌত এলাকার বালুতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আহরণযোগ্য ইউরেনিয়ামের সন্ধান পেয়েছে। এ সম্পদ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র শিল্প ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য অপরিহার্য উপাদান। তবে সম্পদটির যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা না থাকায় ঐ এলাকার মানুষ এ বিষয়ে তেমন উৎসাহী নয়। তারা মনে করে এটি পুরোপুরি
সরকারের দায়িত্বভুক্ত বিষয়। কিন্তু এক্ষেত্রে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে। স্বনির্ভরতা অর্জন করার সুযোগ আছে। মূল্যবান এ জাতীয় সম্পদ আহরণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। সমাজকর্মের পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহার করে স্থানীয় মানুষকে স্বনির্ভরতা অর্জনের ব্যাপারে ধারণা দিলে তাদের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন হবে। তখন তারা বিষয়টি পুরোপুরি সরকারের দায়িত্বভুক্ত মনে না করে নিজেদেরকে এর সাথে সংশ্লিষ্ট করবে। তাই বলা যায়, সমাজকর্ম কোনো বিশেষ এলাকার মানুষকে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারের উপযোগিতা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে পারে। এর মাধ্যমে স্বনির্ভরতা অর্জনের ব্যাপারে তাদের মনোভাবেরও পরিবর্তন হবে।
উদ্দীপকের অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম শুধুমাত্র সরকারের একক প্রচেষ্টায় সফল হবে না। এক্ষেত্রে এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
যে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রমের সফলতা সংশ্লিষ্ট এলাকার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। নিরক্ষরতা, অজ্ঞতা, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতা বা অন্য কোনো কারণে এলাকার মানুষ এ ব্যাপারে আগ্রহী না হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ধীরগতি হয়ে পড়ে। তাই জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে সরকার যদি কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে তা সফল হয় না। এক্ষেত্রে সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে সাধারণ মানুষকে নিজস্ব সম্পদের যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করা যায়। এর ফলে তারা সচেতন হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে নিজেদের অংশগ্রহণ বাড়াবে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট ও ময়মনসিংহের নদীবিধৌত এলাকার বালুতে ইউরেনিয়াম পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ সালাদে পারমাণবিক গবেষণা, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সামরিক শিল্পে ব্যবহারযোগ্য অপরিহার্য ও অতি মূল্যবান বিরল উপাদান। কিন্তু এলাকার মানুষ এ বিষয়ে উৎসাহী নয়। তারা - সম্পদটির ব্যবহার সম্পর্কে জানে না বলে নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও অসচেতন। এক্ষেত্রে তাদের স্বনির্ভর করে তুলতে সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। 'সমাজকর্মের কৌশল ও পদ্ধতি প্রয়োগ করে তাদের সচেতন করে তুলতে হবে। তা সম্ভব হলে উন্নয়ন কার্যক্রমে ঐ স্থানীয় মানুষদের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং কার্যক্রমটি সফল হবে বলে আশা করা যায়।
সামগ্রিক আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত এলাকার সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কার্যক্রম সফল হবে না। আর এটি নিশ্চিত করতে সমাজকর্মের ভূমিকা খুব কার্যকর হতে পারে।
Related Question
View Allসমাজ হলো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের এক জটিল রূপ, যেখানে মানুষ পরস্পর সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করার সুযোগ লাভকরে।
সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা দেয়।
সমাজে বসবাসকারী সদস্যদের মধ্যে সর্বদা সামাজিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সমাজ পরিবর্তনশীল হওয়ায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ওপর এর প্রভাব পড়ে। গতিশীল সমাজের সাথে সাথে সামাজিক সম্পর্কও দ্রুত পরিবর্তিত হয়। যার সাথে মানুষ সামঞ্জস্য বিধানে ব্যর্থ হয়।
উদ্দীপকের বর্ণনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।
সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা এবং অনুকূল সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। উদ্দীপকে বর্ণিত গবেষণাকর্মীদের কাজে এ উদ্দেশ্যের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের ভোলা জেলার ঢালচর অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে একদল সমাজকর্মী কাজ করছে। তারা ঐ অঞ্চলের মানুষকে নিজস্ব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সক্ষম করে তোলে। তাদের এ কাজে সমাজকর্মের চারটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। এগুলো হলো- জনগণের সমস্যা সমাধানে উপযোজন ক্ষমতার উন্নয়ন; সম্পদ, সেবা, ও সুযোগের সাথে মানুষের সংযোগ ঘটানো; মানুষের হৃতক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও কার্যকর ভূমিকা পালনে তাদেরকে সক্ষম করে তোলা এবং ব্যক্তিগতও সামাজিক সম্পদের সর্বোচ্চ সমাবেশ ঘটানো। উদ্দীপকের গবেষণাকর্মীদের কাজে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলোই খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মাত্র চারটি প্রতিফলিত হওয়ায় বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনায় সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।
সমাজকর্ম একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সাহায্যকারী পেশা। সমাজ থেকে যেকোনো ধরনের অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি দূরীকরণে এটি পরিকল্পিত উপায়ে প্রচেষ্টা চালায় এবং গঠনমূলক পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। সমাজের সার্বিক কল্যাণ সাধনের এ বৃহত্তর কাজটি করতে সমাজকর্ম সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন উপাদানের সহায়তা নেয়। উদ্দীপকে সমাজকর্মের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনের কিছু উপায়ের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
সমাজ পরিবর্তনশীল। আর এ পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সাথে খাপ খাওয়াতে মানুষের প্রচেষ্টা সর্বাগ্রে থাকে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাও নেহায়েত কম নয়। সমাজকর্ম অনেক সময় উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং সামাজিক নীতির বিকাশ সাধনের প্রচেষ্টা চালায়। ব্যক্তি, দল বা সমষ্টিকে স্বাবলম্বী করে তুলতে সমাজকর্ম তাদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ তথা সচেতনতা সৃষ্টি করে। এই সচেতনতাবোধই তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে কার্যকর মানবীয় সেবা ত্বরান্বিত করতে সমাজকর্ম নেতৃত্ব সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে সামাজিক কাজে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। সেই সাথে মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রচেষ্টা গ্রহণ করে। দেশের প্রচলিত সমাজসেবামূলক কার্যক্রমগুলোর উন্নয়ন, সামাজিক কার্যক্রম জোরদার করা, সামাজিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য। মানুষের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব থেকে মুক্তি দেওয়াও সমাজকর্মের লক্ষ্য।
উদ্দীপকে সমাজকর্মের উল্লিখিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। তাই বলা যায় উদ্দীপকটি সমাজকর্মের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের সামগ্রিক রূপ নয়।
IFSW-এর পূর্ণরূপ- International Federation of Social Workers.
শিল্পবিপ্লব পরবর্তী আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যে সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
সামাজিক পরিবর্তনের ফলে সমাজে বসবাসরত মানুষের সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা দেয়। স্বাভাবিকভাবেই, সামাজিক সম্পর্কের এ গতিশীল পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে মানুষ ব্যর্থ হয়। ফলে সমাজে সৃষ্টি হয় নানা ধরনের অসংগতি ও সমস্যা। এসব অসংগতি দূরীকরণ এবং পরিবর্তনশীল পরিবেশের সাথে মানুষকে সামঞ্জস্য বিধানে সক্ষম করে তোলার জন্যই সমাজকর্মের উদ্ভব হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!