সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠালে অধিকাংশ শ্রমিক অত্যাচারিত হয়ে দেশে ফিরে আসে। এ বিষয়ে টেলিভিশন টকশোতে তিনজন আলোচক অংশ নিয়ে প্রথম আলোচক বলল, সৌদি জনগণ এসব নারীদের দাসী হিসেবে ব্যবহার করেছে। এটি শরিয়তসম্মত। কেননা আলি (রা) দাসী ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধতা দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় আলোচক এর সাথে দ্বিমত পোষণ করেন। অনুষ্ঠানের তৃতীয় আলোচক বলেন, সমস্যা অন্য ক্ষেত্রে, সরকার যদি সব নাগরিকের কাছ থেকে যেকোনো মূল্যে জাকাত আদায় করত। তাহলে দেশেই এসব নাগরিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেত।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

আল্লাহ ও রাসুল (স) এর নির্দেশিত পথে গবেষণার মাধ্যমে ইজমাভিত্তিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা হলেন মুজতাহিদ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

রুখসাত দ্বারা ঐচ্ছিক জ্ঞান অর্জিত হয়, যা সত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটাতে পারে। এ কারণে ইমাম শাফেয়ি (র) একে গ্রহণ করেননি।

রুখসাত হলো কোনো বিষয়ে কথায় ও কাজে মুজতাহিদদের একটি অংশ একমত হলেও অপর অংশের নির্লিপ্ত থাকা। ইমাম শাফেয়ি (র) মনে করেন এ ধরনের মৌনতা অবলম্বন কখনো কখনো ভয়ের কারণে হয়ে থাকে। এতে সত্য বিচ্যুত হতে পারে। এজন্য ইমাম শাফেয়ি (র) রুখসাতকে অগ্রহণযোগ্য বলেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

তৃতীয় আলোচক যেকোনো মূল্যে জাকাত আদায়ের জন্য যে মত প্রকাশ করেছেন তা ইসলামি শরিয়ত অনুসারে বৈধ। রাসুল (স)-এর ইন্তেকালের পর জাকাত প্রদানে অস্বীকার ও অনীহা ব্যাপক আকার ধারণ করে। হযরত আবু বকর (রা)-এর সময়ে সাহাবিরা এ বিষয়ে জিহাদ ঘোষণারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ সিদ্ধান্তটি ছিল ইজমাভিত্তিক, উদ্দীপকের তৃতীয় আলোচকের কথায় উক্ত বিষয়টিরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তৃতীয় আলোচক সমাজের একটি বৃহৎ সমস্যা নিয়ে কথা বলছিলেন। জাকাতভিত্তিক সমাজ গড়ে তুললে সে সমস্যাটি সমাধান সম্ভব। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই তিনি জাকাত আদায়ের প্রতি জোর দিয়েছেন।

ইজমা অনুসারে তার বক্তব্যটি যথার্থ। আবার ইজমা কুরআন ও হাদিস অনুসারে বৈধ। কোনো মুসলমান কুরআন, হাদিস অনুসরণ করলে ইজমাভিত্তিক সিদ্ধান্তও তাকে মানতে হবে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে তৃতীয় আলোচকের মন্তব্য সঠিক। ইজমাভিত্তিক কোনো বিষয়ে পূর্বে দৃঢ়তার সাথে সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সে বিষয়ে পুনরায় ইজমা করার প্রয়োজন নেই। মুমিন বা মুসলমানদের জন্য সে বিষয়ে আমল করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। এজন্য উল্লিখিত আলোচক অবস্থাদৃষ্টে আবু বকর (রা) এর সময় গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চেয়েছেন। সুতরাং তৃতীয় আলোচকের মন্তব্যটি শরিয়ত অনুসারে বৈধ ও যথার্থ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

কুরআন ও হাদিসের আলোকে শরিয়তের হুকুমে পরিবর্তন হতে পারে, যা না মানলে মানুষ গুনাহগার হবে- এই দৃষ্টিতে প্রথম আলোচকের ব্যাখ্যা ভুল বলে প্রতীয়মান হয়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে দাস-দাসী ক্রয়-বিক্রয়ের প্রথা ছিল। ইসলামের আবির্ভাবের পরে এ প্রথা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো মাজহাব অনুসারী মনে করেন হযরত আলি (রা) দাসী ক্রয়-বিক্রয়কে বৈধ বলেছেন। পরবর্তীতে মুজতাহিদগণ এ বিষয়ে কুরআন ও হাদিসের আলোকে গবেষণা করে দাস-দাসী ক্রয়- বিক্রয়কে অবৈধ হিসেবে মত দিয়েছেন। উদ্দীপকে প্রথম আলোচক এ বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।

প্রথম আলোচক দাস-দাসী ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত যে তথ্যটি তুলে ধরেছেন তা বর্তমান সময়ে গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা সময়ের প্রেক্ষাপটে ইজমাভিত্তিক সিদ্ধান্ত অনুসারে শরিয়তের হুকুমে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান সময়ে দাসী ক্রয় করলে ইজমা তথা কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনাই অমান্য করা হবে। ইজমা বিষয়ে সমকালীন মুজতাহিদগণও সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। কিন্তু উদ্দীপকে প্রথম আলোচককে মুজতাহিদ বলা যায় না। কারণ তিনি পূর্বে মীমাংসিত একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যে বিষয়ে ইজমা প্রদান বৈধ নয়। তিনি একটি ভুল এবং অন্যায় কাজকে বৈধতা দিয়েছেন। এতে কুরআন, হাদিস ও ইজমা সম্পর্কে তার অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। এতে সমাজের মানুষ বিভ্রান্ত হবে। অথচ ইজমার উদ্দেশ্য হলো সমাজ, রাষ্ট্র থেকে বিভ্রান্তি দূর করা।

ওপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, শরিয়তের সঠিক ব্যাখ্যা না জেনে উদ্দীপকের প্রথম আলোচক ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা সঠিক নয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
204

Related Question

View All
উত্তরঃ

 'নিফাক' অর্থ- কপটতা, ভণ্ডামি ইত্যাদি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
332
উত্তরঃ

'হুরুফে মুকাত্তায়াত' বলতে কুরআনে সংযোজিত বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহকে বোঝায়। কুরআন মাজিদের মোট ২৯টি সুরার শুরুতে হুরুফে মুকাত্তায়াত রয়েছে। প্রত্যেক গ্রন্থেই কিছু গোপন বিষয় থাকে, আর আল- কুরআনের গোপন বিষয় হলো হরফে মুকাত্তায়াত। তাফসিরকারগণের মতে যেসব বর্ণের প্রকৃত অর্থ ও যথার্থ মর্ম আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবহিত নয় তাকেই 'হুরুফে মুকাত্তায়াত' বলে। যেমন- এর অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ অবগত নয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
3.8k
উত্তরঃ

মিথ্যাচার করা মুনাফিকের স্বভাব। মুনাফিক বলতে তাদেরকে বোঝায়, যারা মৌখিকভাবে ইমানের ঘোষণা দেয়, নামাজ, রোজাও পালন করে, কিন্তু অন্তরে কুফরি পোষণ করে। এদের মুখের ভাষা এক রকম কিন্তু অন্তর অন্যরকম। উদ্দীপকের দৃশ্যপট-১ এ দেখা যায় রাইয়্যান এ স্বভাবের অধিকারী।

উদ্দীপকের রাইয়্যান মিথ্যাচারের মাধ্যমে মুনাফিকি করে। সুরা আল বাকারায় দ্বিতীয় রুকুতে আল্লাহ তায়ালা মুনাফিকদের করুণ পরিণতির কথা তুলে ধরেছেন। মুনাফিকরা ইমান আনার কথা বলে আল্লাহ ও মুমিনদের ঠকাতে চায়। কিন্তু তাদের এ কাজের কারণে নিজেরাই ঠকে। তাদের এরূপ কাজের কারণে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রকৃতপক্ষেই মুনাফিকদের অন্তরে থাকে নিফাক, কুফর, শিরকের ব্যাধি। তাদের এসব স্বভাবের কারণে পাপপ্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমত থেকে বঞ্চিত হয়। তারা পৃথিবীতে অসম্মান ও অবিশ্বাসের পাত্রে পরিণত হয়। তাছাড়া পরকালীন জীবনেও তাদের কল্পনাতীত শাস্তি পেতে হবে। হাদিসেও নবি (স) মুনাফিকদের শাস্তির কথা বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া মুনাফিকদের তিনটি গুণের মধ্যে মিথ্যাচার একটি। মিথ্যাচারকে মহানবি (স) সব পাপের মূল হিসেবে অবহিত করেছেন।

ওপরের আলোচনার আলোকে বলতে পারি, রাইয়্যান মিথ্যাচার করার মাধ্যমে মুনাফিকির স্বভাব পোষণ করছে। যার জন্য পরকালে তাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
291
উত্তরঃ

উম্মাহর ঐকমত্যের জন্য বর্তমানে ইজমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। ইজমা হচ্ছে সমকালীন বিজ্ঞ আলেমদের কোনো বিষয়ের ওপর ঐকমত্য। ধর্মীয় বা পার্থিব যেকোনো বিষয়ের বিধান উদ্ভাবন, প্রবর্তন বা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেকোনো যুগের মুসলিম মুজতাহিদ আলেমদের ঐকমত্যের মাধ্যমেই ইজমা হয়ে থাকে।

উদ্দীপকের দৃশ্যপট-২ এ রফিক ইসলামিক স্টাডিজ নিয়ে অধ্যয়ন করার কারণে ইজমার ব্যাপারে জানতে পারে। সে মুসলিম উম্মাহর ঐকমত্যের জন্য উদগ্রীব। বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন বৈপরীত্য মাসয়ালার সুন্দর সমাধানে ইজমার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। ইসলামি আইনের উৎসসমূহের মধ্যে কুরআন ও হাদিসের পরেই এর অবস্থান হওয়াতে এর দ্বারা শরিয়তের বিভিন্ন মাসয়ালা প্রণয়নে এর প্রয়োজন পড়ে। কুরআন ও হাদিসে যে পরিমাণ সমস্যার সমাধান পেশ করা হয়েছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অনেকগুণ বেশি বিষয়ে কোনো সমাধান দেওয়া হয়নি। এক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান প্রবর্তন করতে ইজমার বিকল্প নেই। নবোদ্ভাবিত সব সমস্যার সমাধানে ইজমা অনিবার্য। তাছাড়া মহানবি (স) বলেছেন- 'আমার উম্মত বিভ্রান্তির ওপর এক হবে না।' রাসুল (স) এর এ বাণীর মধ্যেই ইজমার গুরুত্ব বিদ্যমান। কেননা রাসুল (স) নিজেই ইজমার প্রতি ইঙ্গিত করে আলেমদের ঐকমত্যে পৌঁছানোর উপদেশ দিয়েছেন।

ওপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে পারি, বর্তমান বিশ্বে নতুন নতুন যেসব ধর্মীয় বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে তা ইজমার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
491
উত্তরঃ

 রুখসাত অর্থ অবকাশ, ঐচ্ছিক বা হালকা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
590
উত্তরঃ

 যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই ইজমা করতে পারবে। ইজমা সম্পাদনে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের 'আহলুল ইজমা' বলা হয়। রাসুল (স)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবিরা ছিলেন ইজমার আহল। কেননা রাসুলের পর তারাই ছিলেন ইসলামি শরিয়ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ, রাসুল (স)-এর পছন্দনীয় এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। সাহাবিদের যুগের পরে অভিজ্ঞ আলিমগণ ইজমা প্রদান করতে পারবেন। এভাবে শরিয়ত সম্পর্কে অভিজ্ঞ এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য মানুষ, যারা ইজমা প্রদান করলে তা শরিয়তের বিধানে পরিণত হবে সে ধরনের ব্যক্তি বা মানুষদের আহলুল ইজমা বা ইজমার আহল বলা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
647
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews