এসডিজি এর বাংলারূপ হলো টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশের একটি চ্যালেঞ্জ হলো সম্পদ বৈষম্য।
আমাদের দেশে সম্পদ বৈষম্য ক্রমাগত বাড়ছে। সমাজে একশ্রেণির মানুষ ভূমি দখল, নদী দখল, বন দখল এমনকি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান কুক্ষিগত করে অপরিমিত সম্পদের মালিক হচ্ছে। এর ফলে ভারসাম্যহীন সমাজ গড়ে উঠছে যা টেকসই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে।
উদ্দীপকের শফিকুল আমিন তার বক্তব্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নে প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অংশীদারিত্ব। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সমাজের সর্বস্তরের অংশগ্রহণ ও মিলিত প্রচেষ্টায় এ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত তৎপরতাকে সুসমন্বিত করতে হবে। এভাবে সরকারি-বেসরকারি সংগঠন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন করা সম্ভব হবে। সকলের অংশীদারিত্ব ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' অর্জন সম্পর্কিত আলোচনা সভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে গবেষক শফিকুল আমিন এ লক্ষ্য অর্জনে একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। যা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন অসম্ভব। তার গুরুত্বারোপকৃত বিষয়টি টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে জনগণের অংশীদারিত্বকে নির্দেশ করছে। কেননা এসডিজি কর্মসূচিটি কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশ বা অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য গ্রহণ করা হয়নি। এটি বিশ্বের প্রায় সকল দেশের উন্নয়নের জন্য গৃহীত হয়েছে। তাই এ কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কারণ বিশাল এই কর্মসূচির সকল বিষয় একটি প্রতিষ্ঠান, দেশ বা সরকারের একার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই বলা যায়, গবেষক শফিকুল আমিন টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্বের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
শফিকুল আমিনের সর্বশেষ বক্তব্যটি হলো 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের মাধ্যমে আমরা বিশ্বে সুখী ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারব'- বক্তব্যটি যৌক্তিক।
টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের মাধ্যমে আমাদের দেশের দারিদ্র্যসীমা শূন্যের কাছাকাছি নিয়ে আসা যাবে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হবে। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূর হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। গ্রামে ও শহরে ভালোভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ তৈরি হবে। বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমন হবে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় নৈরাজ্য কমে আসবে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহ শক্তিশালী হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা হ্রাস পাবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে অংশীদারিত্ব বাড়ার ফলে আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা নিরসন সহজ হবে। সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবে। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার দ্বার উন্মোচিত হবে। যোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নতির ফলে বিশ্বে বাস করার সকল সুযোগ-সুবিধা আমাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। এভাবে আমরা সুখী ও সমৃদ্ধশালী হবো। উদ্দীপকের গবেষক শফিকুল আমিনের বক্তব্যেও এ বিষয়টিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জন সম্পর্কিত আলোচনাসভার প্রধান অতিথি শফিকুল আমিনও বলেছেন যে, এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে আমরা বিশ্বে সুখী ও সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারব।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, উদ্দীপকের গবেষক শফিকুল আমিনের সর্বশেষ বক্তব্যটি যৌক্তিক
Related Question
View Allজলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব দূর করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হলো জলবায়ু কার্যক্রম।
জলবায়ু কার্যক্রম হলো 'টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট' এর ১৩তম লক্ষ্যমাত্রা।
সবার অংশীদারিত্ব ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না বলে টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন।
অংশীদারিত্ব হলো কোনো উন্নয়ন কার্যক্রমে যার যা দায়িত্ব ও কর্তব্য তা পালন করা। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজের সর্বস্তরের অংশগ্রহণসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। কাউকে বাদ দিয়ে বা পিছিয়ে রেখে অন্যরা এগিয়ে গেলে সেই উন্নয়ন জাতীয় ও বৈশ্বিকভাবে টেকসই হবে না।
এজন্য টেকসই উন্নয়নে অংশীদারিত্ব প্রয়োজন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!