পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১৫৫৬ সালে সংঘটিত হয়।
বাবরনামা হলো তুর্কি ভাষায় রচিত মুঘল সম্রাট জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
তুযুক-ই-বাবরী বা বাবরনামা গ্রন্থটি ইতিহাস অধ্যয়নে একটি আকরগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। চমৎকার রচনাশৈলী, ভাষার মাধুর্য ও কারুকাজ, উন্নত বর্ণনা রীতি এবং তথ্যের নির্ভরযোগ্যতার জন্য এ গ্রন্থটি পাঠক সমাজের প্রশংসা লাভ করেছে। এ গ্রন্থে এশিয়া ও আফগানিস্তান বিশেষ করে সমকালীন ভারতের রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিচয় পাওয়া যায়। তাছাড়া এ গ্রন্থে বাবর তার ব্যক্তিজীবনের নানা দিক, যেমন: দোষ-গুণ, দূরদর্শিতা, সীমাবদ্ধতা, সুখ-দুঃখ এবং সাফল্য-ব্যর্থতার কথা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত সম্রাট 'ফ' এর সাথে মুঘল সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতির সামঞ্জস্য রয়েছে।
সম্রাট আকবর উপলব্ধি করেছিলেন যে, সাম্রাজ্যকে শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধিশালী করতে হলে ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী রাজপুত জাতিগোষ্ঠীর সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন অপরিহার্য। এ জন্য তিনি রাজপুত বংশের সাথে বৈবাহিক মিত্রতা স্থাপন করেন। এভাবে. তিনি রাজপুতদের বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতি লাভে সক্ষম হন। আবুল ফজলের 'আইন-ই-আকবরী' হতে পাওয়া যায় আকবর রাজপুতদের প্রশাসনিক ও সামরিক বিভাগের উচ্চপদগুলোতে নিযুক্ত করে তাদের সহানুভূতি ও সহযোগিতা লাভ করেন। অপরদিকে, বিজিত রাজ্যগুলোর শাসনভার রাজপুতদের হস্তে ছেড়ে দিয়ে তাদের সহযোগিতা লাভ করে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, সম্রাট 'ফ' একটি বিশেষ গোষ্ঠীর লোকদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন। তিনি নিজে এবং তার পুত্র এই গোষ্ঠীর কন্যাকে বিবাহ করেন। উক্ত গোষ্ঠীর লোকদের সামরিক ও বেসামরিক বিভাগে চাকরি দেন এবং তাদের কর ব্যবস্থার বিলোপ সাধন করেন। তাই বলা যায়, 'ফ' এর এই নীতির মধ্যে সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতিরই প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত বিশেষ গোষ্ঠীর অর্থাৎ সম্রাট আকবরের রাজপুতদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ও সদাচরণ তার রাজ্যে এক নব যুগের সূচনা করে- উক্তিটি যথার্থ।
রাজপুতদের প্রতি সম্রাটের বন্ধুত্বমূলক মনোভাব ও সদয় আচরণ ভারতে মুসলমান শাসনের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করে।
Muslim Rule in India গ্রন্থে ডি ডি মহাজন বলেন, Thus by a policy of conciliation, Akbar was able to win over the affection of the Rajput and thereby Solidify the foundation of Mughal Empire in the country, রাজ্যবিস্তার ও রাজ্যশাসনের ব্যাপারে এবং এ দেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সামরিক, অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে হিন্দু তথা রাজপুতরা যে অবদান রেখেছেন তা অনস্বীকার্য।
রাজপুতদের প্রতি আকবরের উদার আচরণের ফলে ভারতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমগ্র হিন্দুজাতি আকবরের শাসনকে বিদেশি শাসন বলে মনে করেননি। তাদের সাহায্যেই আকবর বিস্তীর্ণ মেবার অধিকার করতে সমর্থ হয়েছিলেন এবং রাজপুত সেনানিদের সাহায্যেই আকবরের বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপিত হয়েছিল। সম্রাট আকবর কখনই সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কিংবা ধর্মনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে রাজপুতনায় হস্তক্ষেপ করেননি। প্রকৃতপক্ষে সম্রাট আকবর সমস্ত রাজপুতদের নিজ রাজ্যের অংশীদার করে নেওয়ায় সমগ্র হিন্দু সম্প্রদায় মুঘল সাম্রাজ্যের অনুগত, হয়ে পড়েছিল। রাজপুত নীতিই আকবরকে মধ্য যুগের ভারতবর্ষের ইতিহাসে উদারতার এক মূর্ত বিগ্রহে পরিণত করেছে। এ নীতির সূত্র ধরেই তিনি মহান আখ্যায় বিভূষিত হয়েছেন।
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে একথা সুস্পষ্ট যে, সম্রাট আকবরের রাজপুত নীতির কারণে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় ও শতাধিক বছর স্থায়ী হয়েছিল।
Related Question
View Allহুমায়ুন অর্থ ভাগ্যবান।
'মোজা' শব্দ থেকে মোঙ্গল এবং মোঙ্গল থেকে মুঘল নামের উৎপত্তি ঘটেছে। তারা আদি বাসভূমি মঙ্গোলিয়া ছেড়ে মধ্য এশিয়ার পশ্চিম অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে মুঘল নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৫২৬ খ্রি. মুঘলরা ভারতের সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে ভারতবর্ষের শাসক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেন। মূলত এরপর থেকেই মুঘলরা একটি বৃহৎ জাতিগঠনে অবদান রাখতে শুরু করে।
উদ্দীপকের সাথে ভারতবর্ষের মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
১৪৯৪ খ্রিষ্টাব্দে পিতার আকস্মিক মৃত্যুর পর মাত্র ১১ বছর বয়সে বাবর ফারগানার সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসন লাভের পর পরই তার দুই পিতৃব্য ও আত্মীয়স্বজন এবং উজবেক নেতা সাইবানি খানের রিরোধিতার মুখে পড়েন। ১৪৯৭ খ্রিস্টাব্দে বাবর সমরখন্দ দখল করেন। কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পতিত হয়ে তিনি সমরখন্দ হারান। ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফারগানাও হস্তচ্যুত হয়। অর্থাৎ দাবার ছকের রাজার মতো বাবর স্থান থেকে স্থানান্তর ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। কিন্তু ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফারগানা পুনরুদ্ধার করেন।
১৫০২ খ্রিস্টাব্দে সমরখন্দ অধিকার করেন। পরবর্তীকালে ১৫০৩ খ্রিষ্টাব্দে আরচিয়ানের যুদ্ধে সাইবানি খানের কাছে পরাজিত হয়ে ফারগানা ও সমরখন্দ থেকে বিতাড়িত হন। এ সময় কাবুলের অভ্যন্তরীণ অরাজকতার সুযোগে ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে কাবুল অধিকার করে বাদশাহ উপাধি নিয়ে রাজত্ব করতে থাকেন। ১৫১১ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের শাহ ইসমাইল সাফাভীর সহযোগিতায় সমরখন্দ দখল করলেও ১৫১২ খ্রিস্টাব্দে তা আবারও হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কাবুলেই রাজত্ব করেন। কিন্তু অসাধারণ সাহসী বাবর এতেই সন্তুষ্ট থাকেননি। ১৫২৬ খ্রি. তিনি পানিপথের প্রথম যুদ্ধে সুলতান ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে দিল্লির সুলতানি সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপের ওপর মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ভাগ্য বিড়ম্বিত যুবুক ইরফান ও ভারতবর্ষে মুঘল শাসনের প্রতিষ্ঠাতা বাবরই অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে সম্রাট বাবরের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সম্রাট বাবর কেবল নির্ভীক সৈনিক, দক্ষ সেনাধ্যক্ষ, সুদক্ষ অস্ত্র পরিচালক, প্রশংসনীয় ঘোড়সওয়ারই ছিলেন না; বরং আলেকজান্ডারের মতো দেশ জয়ের নেশায় বিভোর থাকতেন। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ, খানুয়ার যুদ্ধ এবং গোগরার যুদ্ধে তার সাফল্য তাকে ভারতীয় সমর ইতিহাসে উচ্চাসনে- অধিষ্ঠিত করেছে। বাবর মাত্র ১১ বছর বয়স থেকে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হন। বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তিনি প্রথমে কাবুলে এবং পরে ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। শুধু প্রতিষ্ঠা করেই ক্ষান্ত হননি, তার ভিত্তি সুদৃঢ় করে একে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
বাবরের চার বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিগ্রহ কেটে যায়। এ অবস্থায় নবপ্রতিষ্ঠিত মুঘল সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় কোনো প্রকার পরিবর্তন ও সংস্কার সাধন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। তথাপি তিনি নিজেকে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা হ্রাস করেন। প্রাদেশিক শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রত্যেক প্রদেশে একজন ওয়ালি (প্রাদেশিক কর্মকর্তা), একজন দিওয়ান (রাজস্ব কর্মকর্তা), শিকদার (সামরিক কর্মকর্তা) এবং কোতওয়াল (নগরকর্তা) ছিল। তিনি প্রশাসনিক কাজে তুর্কি, আফগান ও হিন্দুদের সমান সুযোগ দিতেন। সমগ্র সাম্রাজ্যে ১৫ মাইল অন্তর তিনি ডাক চৌকির ব্যবস্থা করেন। প্রজারঞ্জক বাবর দিল্লি ও আগ্রায় ২০টি উদ্যান, বহু পাকা নর্দমা, সেতু, অট্টালিকা নির্মাণ করেন।
পরিশেষে বলতে পারি, সম্রাট বাবর শুধুমাত্র একজন বিজেতা হিসেবেই প্রশংসার দাবিদার নন, বরং একজন দক্ষ প্রশাসক হিসেবেও তিনি কৃতিত্বের দাবিদার। তাই সার্বিকভাবে বাবরের শাসনকাল কৃতিত্বপূর্ণ একথা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
দিল্লির সর্বশেষ সুলতানের নাম ফিরোজশাহ তুঘলক।
ফিরোজশাহ তুঘলক দিওয়ান-ই-বন্দেগান গঠন করেন কারণ, তিনি ছিলেন ক্রীতদাসদের প্রতি অনুরক্ত। তাই তিনি সিংহাসনে আরোহনের পর একটি বিরাট ক্রীতদাস বিভাগ গড়ে তোলেন। তার আমলে ক্রীতদাসের সংখ্যা ছিল ১,৮০,০০০, যার মধ্যে ৪০,০০০ ক্রীতদাস সুলতানের প্রাসাদে অবস্থান করত। সুলতান তাদের বিভিন্ন সেবা ও সুযোগ-সুবিধার জন্যই 'দিওয়ান-ই-বন্দেগান' গঠন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!