ভারতবর্ষের প্রাচীনতম জাতি হলো দ্রাবিড়।
প্রাচীনকালে 'ভরত' নামে একজন হিন্দু রাজা এদেশ শাসন করতেন। সম্ভবত তার নামানুসারে এদেশের নাম রাখা হয়েছে 'ভারতবর্ষ'। কারো মতে, গ্রিকরা এ দেশে আক্রমণ করতে এসে প্রথমত সিন্দু অঞ্চলের সাথে পরিচিত হয়। সিন্ধু নদের অববাহিকাকে তারা 'ইন্ডাস' নামে অভিহিত করে। ইংরেজগণ তাদের শাসনামলে সিন্ধুকে 'ইন্ডাস' বলত। পরবর্তীকালে এই 'ইন্ডাস' হতে সমগ্র উপমহাদেশ 'ইন্ডিয়া' নামে অভিষিত হয়।
অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলার দিক দিয়ে উদ্দীপকটি মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন শাসনামলে রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক অনৈক্য একটি পরিচিত দৃশ্যপট। এ কারণেই বিভিন্ন অঞ্চল অতীতে ছোট ছোট ভাগে ভাগ হয়েছে এবং বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হয়েছে। মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থা তার বাস্তব প্রমাণ। উদ্দীপকেও এরূপ একটি দৃশ্যপট অঙ্কিত হয়েছে। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সম্রাট মিজান-এর মৃত্যুর সাথে সাথে রাজ্যে চরম বিশৃঙ্খল সৃষ্টি হয়। পরবর্তী শাসকের নেতৃত্বে রাজ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি হলেও তার মৃত্যুর সাথে সাথে বিশাল রাজ্য ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ফলে এখানে কেন্দ্রীয় শাসন বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অবস্থার ক্ষেত্রেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। সম্রাট অশোক উত্তরে হিমালয় ও উত্তর-পশ্চিম হিন্দুকুশ পর্বতমালা হতে দক্ষিণে মহীশূর এবং পশ্চিমে পারস্যের সীমানা ও আরব সাগর হতে পূর্বে ব্রহ্মপুত্র পর্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পরেই (২৩২ খ্রিষ্টাব্দ) ভারতবর্ষে রাজনৈতিক অস্থিরতার সূচনা হয়। অতঃপর সপ্তম শতকের প্রথমভাগে উত্তর ভারতে সম্রাট হর্ষবর্ধন এবং দক্ষিণ ভারতে চালুক্য সম্রাট গুলকেশি মোটামুটিভাবে এদেশে রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টা চালান। তবে তাদের মৃত্যুর পর ভারতীয় ভূখণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ফলে পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো তাদের আক্রমণ করলে তা প্রতিহত করতে তারা ব্যর্থ হয়। সুতরাং বলা যায়, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলাই উদ্দীপকের দৃশ্যপটের সাথে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালের ভারতবর্ষের মিল রচনা করেছে।
উদ্দীপকটি মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থার সাথে আংশিক সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, সম্রাট মিজান-এর রেখে যাওয়া সাম্রাজ্যে ভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকেরা আক্রমণ করলে এদের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজশক্তি প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কিন্তু তৎকালীন ভারতবর্ষে কোনো কেন্দ্রীয় শক্তি ছিল না। ফলে মুসলিম আক্রমণকে প্রতিহত করতে তারা কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়।
খ্রিস্টপূর্ব ৩০৫ অব্দে আফগানিস্তান ভারতীয় সাম্রাজ্যভুক্ত হলেও অরাজকতার সুযোগ নিয়ে লানিয়া নামক এক ব্যক্তি সেখানকার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এছাড়াও গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের সাথে সাথে নেপাল স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ভাস্কর বর্মা আসামে স্বাধীনভাবে রাজ্য পরিচালনা শুরু করেন। আর যশোবর্মণ নামে এক স্বনামধন্য রাজা কনৌজে একটি স্বাধীন শাসনব্যবস্থা কায়েম করে। সিন্ধুতে শাশীর চাচ ও পরে তার পুত্র রাজা দাহির শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন। তাছাড়া মালব, দিল্লি, আজমির, বুন্দেলখণ্ড, গুজরাট, বাংলা ও বিহারে স্বাধীন শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। ফলে শতধাবিভক্ত ভারতীয় হিন্দু রাজ্যগুলো মুসলমানদের আক্রমণের বিরুদ্ধে একক কোনো শক্তি হিসেবে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিরোধের বিষয়টি মুসলমানদের ভারত আক্রমণকালে ভারতীয় রাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে, পরিদৃষ্ট হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allতরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ১১৯২ সালে সংঘটিত হয়।
প্রাচীন হিন্দু সমাজে প্রচলিত স্বামীর শবদেহের সাথে জীবিত বিধবা স্ত্রীকে একই চিতায় দাহ করার রীতিই সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত।
মৃত স্বামীর প্রতি বিধবা স্ত্রীর চূড়ান্ত আনুগত্য প্রদর্শনের একটি আচার হিসেবে প্রাচীন সমাজে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সতীদাহ প্রথা মেনে চলত। তখন স্বামীর মৃত্যু হলে বিধবা স্ত্রী স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়েই স্বামীর চিতায় আত্মাহুতি দিত। কিন্তু কালক্রমে এটি হিন্দু সমাজে ধর্মীয় বাধ্যবাধকতায় রূপ নেয়। এক সময় ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজপতিরা বিধবাদের মৃত স্বামীর সাথে সহমরণ বরণ করে নিতে বাধ্য করে। তারা জোর করে অনেক বিধবাদের মৃত স্বামীর সাথে পুড়িয়ে মারতে শুরু করে। হিন্দু সমাজের এ জঘন্য ও নিষ্ঠুর রীতিই সতীদাহ প্রথা নামে পরিচিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত শাসক সুলতান মাহমুদের মিল রয়েছে।
যেকোনো দেশ, রাজ্য বা অঞ্চলকে সমৃদ্ধিশালী ও সুসজ্জিত করতে হলে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়- এই অর্থের প্রয়োজনে অনেক শাসক বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়েছেন। উদ্দীপকের সুলতান সুলেমান এবং ইতিহাসখ্যাত সুলতান মাহমুদ উভয়ের মধ্যেই এ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুলতান সুলেমান নিজ রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধিশালী করার জন্য বিভিন্ন দেশে অভিযান প্রেরণ করেন। সেসব অভিযান থেকে প্রাপ্ত ধন-সম্পদ কাজে লাগিয়ে তিনি তার শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করেন। তাছাড়া শিক্ষা বিস্তার ও দেশের উন্নয়নে তিনি ধন-সম্পদ ব্যয় করেন। বিখ্যাত সমরনেতা সুলতান মাহমুদও ধন-ঐশ্বর্যে ভরপুর ভারতবর্ষে বারবার আক্রমণ করে সুলতান সুলেমানের মতোই প্রচুর ধন-সম্পদ আহরণ করেছিলেন। তার উদ্দেশ্যও ছিল নিজের রাজ্যের উন্নয়ন ঘটানো। তাই তিনি ভারতবর্ষকে তার প্রয়োজনীয় অর্থভাণ্ডার মনে করে সেখানে ১৭ বার (১০০০ থেকে ১০২৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে) অভিযান প্রেরণ করেন এবং প্রতিবারই জয়লাভ করে প্রচুর সম্পদ হস্তগত করেন। তিনি আহরিত অর্থ-সম্পদ কাজে লাগিয়ে গজনি রাজ্যকে সমৃদ্ধিশালী করে গড়ে তুলেছিলেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। শিল্প ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি সুলতান সুলেমানের মতোই উদার ও আন্তরিক ছিলেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের সুলতান সুলেমান ও গজনির শাসক সুলতান মাহমুদের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান।
উত্ত শাসক তথ্য সুলতান মাহমুদ শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের একজন প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।
বিখ্যাত সমরনেতা সুলতান মাহমুদ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। শত্রুপক্ষের অধীন সকল রাজ্য জয় করে তাদের ক্ষমতার চূড়ান্ত বিলোপ সাধনই ছিল সুলতান মাহমুদের লক্ষ্য এবং তিনি তা অর্জনে সক্ষম হন। পাঞ্জাবে তার শাসন দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষুদ্র গজনি রাজ্যকে তিনি বিশাল সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।
ভারতীয় ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, "সুলতান মাহমুদ ছিলেন বড় মাপের নৃপতি।" একটি পার্বত্য ক্ষুদ্র রাজ্যতে শুধু বাহুবলে বিশাল ও সমৃদ্ধ সাম্রাজ্যে পরিণত করা অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচায়ক। তার পূর্বে এশিয়ার অন্য কোনো আরব বা তুর্কি শাসক হিরাত, কাবুল ও গজনির বাইরে অগ্রসর হতে পারেননি। তিনি যে বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, তা বাগদাদের সমসাময়িক আব্বাসীয় খলিফার সাম্রাজ্য অপেক্ষা বিশাল ছিল বলে মনে করা হয়। মুসলিম শাসকদের মধ্যে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত পথে তিনিই প্রথম ভারতে অভিযান চালিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম মুসলিম রাজবংশ প্রতিষ্ঠায় কৃতিত্বের অধিকারী না হলেও তারই দেখানো পথে মুহাম্মদ ঘুরী এদেশে এসে মুসলিম শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু কৃতী সেনানায়ক নয়, সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও সুলতান মাহমুদ খ্যাতি অর্জন করেন। অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা বলেই তিনি ক্ষুদ্র গজনিকে বিশাল সাম্রাজ্যে রূপায়িত করেছিলেন।
আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রাক্কালে সিন্ধু ও মুলতানের রাজা ছিলেন দাহির।
আরবদের সিন্ধু অভিযানের পূর্বে ভারতীয় সমাজে নারীর অবস্থা শোচনীয় ছিল।
প্রাক-মুসলিম ভারতীয় সমাজে সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল। তাছাড়া বিধবা বিবাহ প্রথার বিলোপ ঘটেছিল। তাই নারীরা সমাজে অবহেলিত হয়ে পড়েছিল। তারা সব ধরনের অধিকার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে এ চিত্র নিম্ন শ্রেণির নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যেত। অভিজাত পরিবারের নারীরা শিক্ষাগ্রহণ ছাড়াও সামাজিক কাজে অংশগ্রহণের সুযোগ পেত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!