সময়ের বিবর্তনে মানুষের কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধির ফলে ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।
সভ্যতার অগ্রগতি ও সময়ের বিবর্তনে ইতিহাসচর্চায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে। ফলে ইতিহাস বিষয়ে শাখা-প্রশাখার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এভাবেই ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।
Related Question
View Allহিউয়েন সাং চীনের পরিব্রাজক।
সজল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে ইতিহাসের লিখিত উপাদান দেখতে পায়।
ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে সাহিত্য, নথিপত্র, জীবনী, রূপকথা, কিংবদন্তি, গল্পকাহিনি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাহিত্য কর্মেও তৎকালীন সময়ের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাহিত্য কর্মের মধ্যে রয়েছে অর্থশাস্ত্র, তবকাত-ই-নাসিরী, আইন-ই- আকবরী ইত্যাদি।
এছাড়াও ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে বৈদেশিক বিবরণসমূহও অন্তর্ভুক্ত। এ লিখিত উপাদানগুলোর মাধ্যমে আমরা সমকালীন সময়ের অনেক তথ্য পেয়ে থাকি।
উদ্দীপকের সজল গণগ্রন্থাগারে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে। সে বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও বিভিন্ন উৎস থেকে ইতিহাসের বইপত্র সংগ্রহ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সজলের পঠিত বিষয়গুলো ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
না, সজলের বন্ধুর মানসিকতার সাথে আমি একমত নই। কেননা নিজেকে বিকশিত করতে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজন আছে।
ইতিহাস পাঠের তাৎপর্য অনেক। কেননা এটি মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজ সম্পর্কে ও নিজ দেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ, জাতির সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালো- মন্দের পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। সর্বোপরি মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে।
পরিশেষে বলা যায় যে, ইতিহাস সম্পর্কে সজলের বন্ধুর নেতিবাচক মন্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয়।
ইতিহাসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই সে সব বস্তু বা উপাদানই ইতিহাসের অলিখিত উপাদান। ইতিহাসের অলিখিত উপাদানকে আবার প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানও বলে। মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি ইত্যাদি হলো ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের উদাহরণ।
সাফার উপস্থাপিত ইতিহাসের লিখিত উপাদানের মধ্যে সাহিত্যের উপাদান অন্যতম। ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে সাহিত্য সংশ্লিষ্ট উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সাহিত্যের উপাদানের মাঝে অন্যতম হলো পর্যটকদের বিবরণ। এই বিবরণ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। যেমন- পাঁচ থেকে সাত শতকে বাংলায় আগত পরিব্রাজক যথাক্রমে ফা-হিয়েন, হিউয়েন সাং ও ইৎসিংদের বর্ণনা। পরবর্তীতে যোগ হয়েছেন ইবনে বতুতা। তাদের বর্ণনায় তৎকালীন আর্থ-সামাজিক চিত্র পাওয়া যায়। সাহিত্য উপাদানের মধ্যে আরও আছে রূপকথা, কিংবদন্তি, গল্পকাহিনি। তিব্বতি লেখক লামা তারনাথের বর্ণনায় | পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের সিংহাসনারোহণের যে বর্ণনা পাওয়া যায় তা একটি কল্পকাহিনি। তবে এই কল্পকাহিনির আড়াল থেকে ঐতিহাসিকগণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সত্য ঘটনা উদঘাটন করেন। সুতরাং এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, ঐতিহাসিক সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহিত্যের অবদান অপরিসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!